রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাভেদ নবনির্বাচিত মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। বৈঠককালে ওআইসি মহাসচিব এ আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং নতুন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন গতি পাবে।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ জানান, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যা সবার জন্যই মারাত্মক ভোগান্তি বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত ওআইসির প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ভূমিকা স্মরণ করে মহাসচিব বলেন, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সফরসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষ সারিতে রয়েছে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ এ বিষয়ে একমত হন যে, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ভিন্নতা থাকায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশগুলো ‘উইন-উইন’ ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশে জনগণ ও নতুন নেতৃত্বের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জাভেদ বলেন, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যৌথ ইস্যুতে ওআইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
২ দিন আগে
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল: হুমায়ুন কবির
গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আলোচনা করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ কেন একইভাবে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারছে না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মালয়েশিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে এবং দেশটিতে নির্বাচনের একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তো কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই ছিল না। কারণ সেটি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে আমাদের একটি নিপীড়নমূলক সরকার ছিল, যার নেতৃত্বে ছিল সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সরকারের জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দুর্বল।
তিনি বলেন, নিজের দেশের মানুষের অনেক অধিকারই যারা কেড়ে নিয়েছিল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কীভাবে সম্মান করা হবে? মিয়ানমারও বিষয়টি জানত। ফলে তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী ছিল না।
তার কথায়, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলার সুযোগ আমাদের ছিল খুবই দুর্বল। এখন আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার আছে। আমরা শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলব, কারণ আমাদের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সংকট সমাধানে একক কোনো পক্ষের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ জন্য বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। তাই আমরা এটি একসঙ্গে সমাধান করব। তবে এখানে বহু সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে। একজন অংশীজনের পক্ষে একা সবকিছু সমাধান করা সম্ভব নয়।’
মিয়ানমার সরকারও এবার কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে—মিয়ানমারকে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে এবং সেই সরকারকে সম্মান দিতে হবে।
‘এটাই আমাদের শক্ত অবস্থান। জনগণের ম্যান্ডেট ও অনুমোদন নিয়ে আমরা জোরালোভাবে এগিয়ে যাব এবং যত দ্রুত সম্ভব ধাপে ধাপে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। তবে সংকটের জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব এই সংকটের সমাধান করতে চায় বাংলাদেশ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন না যে আমি আগামীকালই এটির সমাধান করব। কিন্তু আমরা এটি সমাধান করব এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এতে অগ্রগতি হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাব।’
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব বাড়াবে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার কথা জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় এই ফোরামে আবারও এই সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরব।’
চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদার এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অংশীদারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ধাপে ধাপে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়
বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রয়োজনের সময়ে সর্বোচ্চ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো ইউরোপীয় বা উত্তর আমেরিকান দেশ এ ধরনের সংকটে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিতে রাজি হতো না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
‘এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বাংলাদেশ এরই মধ্যে যথেষ্ট করেছে। এটি বিশ্বেরও সমস্যা এবং তাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে,’ বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সংহতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থায়ন এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেমন উদ্বেগের, তেমনি এর প্রভাব পুরো অঞ্চল এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারদের সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে সংকট সমাধানে সহায়তা করা প্রয়োজন।
৯ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণেই আগের সরকার প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই এটার বারোটা প্রথমেই বাজিয়ে দিয়েছিল। যখন বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) করেছিল, তখন প্রথমেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় তিনি একটি ট্রাইপার্টাইট এগ্রিমেন্ট (ত্রিপক্ষীয় চুক্তি) করেছিলেন। জাতিসংঘ সেই চুক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। সে কারণে ওআইসিভুক্ত প্রতিটি দেশসহ প্রত্যেক অংশীদার এটায় যুক্ত হয়েছিল। বিগত সরকার সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের জটিলতা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে সংকট শুরু হওয়ার পর প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। এখন মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সংকটও ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু শব্দের খেলায় বা ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় বললে তো হবে না, বস্তুত তো আমাদের এটা অ্যাকশনে পরিণত করতে হবে।’
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটিকে রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব’ বলা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের দিক থেকে যে স্টেটমেন্টটা করা হয়েছে, সেখানে সংখ্যার কিছু বিভ্রাট আছে, যেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত না।’
আলোচনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ‘সেই ভেরিফিকেশন প্রসেসটা তারা শুরু করেছে, কিন্তু ধীরগতিতে।’
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা ও মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারা যেন সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের একটা নিজেদের আইডেন্টিটি আছে, সেই আইডেন্টিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে,’ বলেন তিনি।
মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টিও উঠে আসছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মিয়ানমার সরকারের ওপর নয়, আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন। চীনের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তার কথায়, ‘একটা আন্তর্জাতিক চাপ যে প্রয়োগ করতে হবে মিয়ানমার সরকারের ওপরে, আরকান আর্মির ওপরে, সেটা কিন্তু পরিষ্কারভাবে আমরা সবসময় বলছি এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও সেটা উঠে আসছে।’
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর যতটা সম্ভব আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ভূ-রাজনীতির একটা ব্যাপার আছে, আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতির ব্যাপার আছে, সবকিছু মিলিয়েই আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক কাজটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে আরও জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিকে আরও বেশি জোর দিচ্ছি, তারাও যেন মিয়ানমারের ওপরে সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট (চাপ সৃষ্টি) করে।’
এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদা সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে যে তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো স্পেসিফিক ডেটা আমাদের কাছে নেই। কোনো ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডেটা নেই যার ওপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলতে পারি।’
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কাছে তথ্য চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ সময় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান বাংলাদেশে এসে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত না হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন—ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো অনুরোধ বা আহ্বান জানিয়েছে কি না—প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, দেয়নি।’
৩২ দিন আগে
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনা-সমর্থিত সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের প্রত্যাবাসন গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর সৃষ্ট সংকট নবম বছরে প্রবেশের সময় এ তথ্য জানানো হলো।
ওই বছর রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করলে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে কয়েক দফা সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।
অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পিত ধরন ও ভয়াবহতার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে।
রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটি, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং ‘অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাসকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আর ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে গিয়েছিল।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এর ফলে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০২৩ সালে রাখাইনে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখাইনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি।
এদিকে, শরণার্থী শিবিরগুলোর দুর্বিষহ পরিস্থিতি, বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করবে মিয়ানমার—এমন খবরও তিনি তখন নাকচ করে দিয়েছিলেন।
৩৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল, রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গারা ঘটনাক্রমে রাষ্ট্রহীন হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রাখাইন রাজ্যে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকল্পে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, তাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।”
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
এ সময় সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি শাসন কাঠামো (টেকনোলজি গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক) গঠনের প্রস্তাব দেন।
সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ দ্বিক্ষিক ও বহুক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে, এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ড. খলিলুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে দুই দেশ কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আসিয়ানের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিকতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে, বুধবার এআরএফ বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে এআরএফ প্ল্যাটফর্ম।
৫৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে শামা ওবায়েদ ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
৯২ দিন আগে
মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এ মুহূর্তে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দলীয় (জামায়াত) চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তবে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিক, আইনি এবং মানবিক সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
সত্তরের দশকের শেষভাগ এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিগত বিএনপি সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সংঘাত সত্ত্বেও অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চললেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবার ২ লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের সম্মুখীন হয়েছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের সবাইকে সফলভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
১৭৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের দাবি তারেক রহমানের
নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ও মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২০ জুন) বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে এসব বলেন তিনি।
বিষয়টিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে এর দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার ও মিয়ানমারের ওপর স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকট-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংকট সমাধান থেকে এখনও অনেক দূরে।’
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপি প্রতিনিধি দল
বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই শরণার্থী সংকট শুধু একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ নয়, বরং এটি বাস্তব জীবনের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা।’
বর্তমানে কক্সবাজারে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, যা দেশের মানবিক প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তবে এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ একটি সংকট হিসেবে রয়ে গেছে এবং এর বোঝা ক্রমশই এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যা বিপজ্জনকভাবে অস্থিতিশীল বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় শরনার্থীদের ঘরে ফেরানোর জন্য সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও অনুসরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রতি বছর ২০ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হয়। শরণার্থীদের সাহস, সহনশীলতা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের দুর্দশা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়।
৪৫৬ দিন আগে
আগামী ঈদ নিজ দেশে করবে রোহিঙ্গারা, প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
রোহিঙ্গারা যেন আগামী বছর মিয়ানমারে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতার মাহফিলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও অংশগ্রহণ করেন।
রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া গরি সাম্মর বার যেন অনরা নিজর বাড়িত যাইয়ারে ঈদ গরিত পারন।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল নিশ্চিতে সবকিছু করবে জাতিসংঘ: গুতেরেস
৫৫৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ইউএনএইচসিআরের সহায়তা চাইলেন অধ্যাপক ইউনূস
নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গাকে তাদের স্বদেশে ‘স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সহায়তা চেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকমিশনার গ্র্যান্ডি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ফোনালাপে ইউএনএইচসিআর প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তিনি যে 'অবিশ্বাস্য কাজ' হাতে নিয়েছেন তাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউএনএইচসিআর প্রধান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন।
গ্র্যান্ডি প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, তিনি চলতি বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন: ইউএনজি’র ৭৯তম অধিবেশন ড. ইউনূসের সরকারের জন্য বড় সুযোগ: কুগেলম্যান
দুই নেতা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষের বিষয়সহ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপকব ইউনূস বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরের অভ্যন্তরে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিশুদের উন্নত ভবিষ্যত গড়ে তুলতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সহায়তাও কামনা করেন।
২৭ আগস্ট শরণার্থীদের প্রতি অধ্যাপক ইউনূসের নতুন প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায় ইউএনএইচসিআর। তিনি ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা শেষ পর্যন্ত নিরাপদ, মর্যাদা এবং পূর্ণ অধিকারের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে পারে।
ইউএনএইচসিআর-এর মতে, ২০২৪ সালে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশপাশের কমিউনিটিতে বাংলাদেশিসহ প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে সহায়তার জন্য ৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের আবেদন করেছিল। এই আবেদনটির আলোকে পর্যাপ্তভাবে অর্থায়ন করা হয়নি।
সাত বছর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
ইউএনএইচসিআর বলছে, শরণার্থীদের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা প্রদানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন ইউনূস: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
৭৪৭ দিন আগে