হাইকোর্ট
হাইকোর্টে সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
ঘটনার পরদিন বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
পরদিন আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
২ দিন আগে
মন্ত্রীদের পিএস হিসেবে বিচারকদের নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রুল
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী বিভাগে নিয়োগ বা পদায়ন থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো. তৌফিক এনামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।
আইন সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
এর আগে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।
রিটে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়, বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলো জুডিশিয়াল সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্প্রতি তিন বিচারককে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ওই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল হাসানকে (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
এছাড়া চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও আবেদনে জানানো হয়েছে।
নিয়োগ বা পদায়ন-সংক্রান্ত এসব স্মারক বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক কাঠামো, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর তফসিলে নির্ধারিত কাঠামো ও মাসদার হোসেন মামলায় আপিল বিভাগের ঘোষিত নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রিটে যুক্তি দেওয়া হয়।
রিটটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন অবকাশকালীন বেঞ্চ রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পরে হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য রিটটি উপস্থাপন করা হয়।
৫ দিন আগে
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।
সেই সঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন।
সাজার প্রতিবাদে সে সময় বাসমালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট করে।
এইচআরপিবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ (রবিবার) রায় দিলেন হাইকোর্ট।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন মো. রাফিউল ইসলাম।
মনজিল মোরসেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে চালককে সাজা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
৫১ দিন আগে
ঢাবি শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে বরখাস্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতকে চূড়ান্ত বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসাইন।
২০২৩ সালের আগস্টে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গবেষণাপত্র জমা দিতে এসে শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাতের কক্ষে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। ওয়াসেল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সের এক্সটার্নাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ওয়াসেল তার থিসিস সুপারভাইজার। ১৫ আগস্ট থিসিসের বিষয়ে দেখা করতে গেলে তিনি অত্যন্ত অমার্জিত আচরণ শুরু করেন। পরে ওয়াসেল তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
অভিযোগে বলা হয়, সেদিন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পুরো ভবনটি খালি ছিল।
ওই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ওয়াসেল বিন সাদাতকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে গত ৪ আগস্ট তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।
চূড়ান্ত বরখাস্তের ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। এর প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ রবিবার হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
৫৮ দিন আগে
আরও দুই মামলায় চিন্ময় দাসের হাইকোর্টে জামিন
ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা দুই মামলায় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসোলিউট) ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ৩ আগস্ট একই বেঞ্চ ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে করা দুই মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই তিনি কারামুক্ত হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘রবিবার চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার দুইটা মামলায় জামিন হয়েছে। একটা হলো ভাঙচুরের মামলা, আরেকটা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।’
তিনি জানান, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ধামকেন্দ্রিক দুটি সিআর মামলায় তিনি আগে থেকেই জামিনে আছেন। সমসাময়িক সময়ে হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটিতে জামিন হয়েছে। চারটি মামলায় রুলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একটি মামলা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়।
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন তৎকালীন নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।
ওই মামলায় পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে চিন্ময়ের জামিন আবেদন নাকচ হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
এ ছাড়াও হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৫৮ দিন আগে
প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে হাইকোর্টের জামিন
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
৫৮ দিন আগে
কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়িতে ৮ সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, প্রকল্প পরিচালকসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে আদালতের রায় অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন।
একইসঙ্গে আট সপ্তাহ কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও, আদালত অবমাননার মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায় অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণ কাজের সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি আদালত অবমাননার মামলা করে এবং বেলার পক্ষ থেকে উক্ত প্রজেক্ট এর কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট পিটিশন করা হয়।
জনস্বার্থে এইচআরপিবির দায়ের করা রিট পিটিশনে ইতোপূর্বে হাইকোর্ট ডিভিশন রুল জারি করে এবং শুনানি শেষে ২০১১ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণকৃত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুইবার বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়। তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রজেক্ট গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকাটি ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া (ইসিএ) এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এখানে কাজের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। কিন্তু যারা এই নির্মাণ কাজ করছেন, তারা শুধুমাত্র ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন এবং কাজ শুরু করেছেন যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্র সৈকতের ৩০০ মিটার পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণ কাজ নিষিদ্ধে আইন থাকা সত্ত্বেও পৌরসভা তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ শুরু করছে।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১০ সালে যখন সমুদ্র সৈকত দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছিল, তখন জনস্বার্থে বিবেচনা করে এইচআরপিবির পক্ষে রিট পিটিশন করে সমুদ্র সৈকত সুরক্ষার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে বালিয়াড়িতে স্থাপিত সকল স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ির ভেতরে রাস্তা নির্মাণ করে সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করছে যা আদালত অবমাননার শামিল।
সরকার পক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি করে সরকারের অনুমতি নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে জনগণের চলাচলের স্বার্থে। উক্ত মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আজ শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন যেকোনো আদেশ না দেওয়ার প্রার্থনা জানান।
আদালত অবমাননা পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল এবং অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা।
বেলার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। সরকার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডিএজি নূর মোহাম্মদ আজমী।
৬২ দিন আগে
আছিয়া হত্যা মামলা: হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড আজ হাইকোর্ট বহাল রেখেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
গত বছরের ৬ মার্চ বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর মো. হিটু শেখের দ্বারা ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত নিষ্পাপ শিশুটি পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়।
ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার, তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম. জাহিদ হাসান আসামি মো. হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নিম্ন আদালতের পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামির দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন।
৬৪ দিন আগে
নুসরাত হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দশ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
অন্যদিকে, মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে আজও আমি পাগলের বেশে আছি। নিম্ন আদালতে বিচার চেয়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখনও আমার ৩ ছেলেকে নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছি। পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছেও প্রত্যাশা ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আশা করি, উচ্চ আদালতেও আমারা ন্যায় বিচার পাবো।’
নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে আমার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আছেন। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর থেকেই তাদের বাড়িতে পরিবারের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি দল নিয়োজিত ছিল। হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে আরও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার সব নথি হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক (সব নথি) ছাপানোর কাজ শেষ করা হয়। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেছেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আক্তার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কয়েকজন ক্যাডার জনমত গঠন করে অধ্যক্ষ সিরাজকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে।
৩ এপ্রিল খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। পরে ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ওই বছরের ৮ এপ্রিল মামলা করেন। মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ফেনী। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।
৭২ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ
সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ আদেশ দেন। এর আগে গতকাল সোমবার শুনানি শেষে আদালত আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট, ফলে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকল। এতে করে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদ দেখবে বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট এই রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। এরপর সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের ওপর গতকাল শুনানি শেষ হয়। আজ রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-(ক) ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সে কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।’
রিট আবেদনে বলা হয়, ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসির ৬ আগস্টের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের ৬ আগস্টের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয় রিটে।
তবে রিটটি খারিজ হওয়ায় আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।
আজ (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় বৃহস্পতিবারই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এর ফলে ১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৭৭ দিন আগে