চট্টগ্রাম
দুই বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এবার মোট ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। ইংরেজি ও গণিত—দুই বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এ বছর পাসের হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ বছর পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এ বিভাগে এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলায় শিক্ষার্থীর পাশের হার ৫৭.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এই তিন জেলায় পাশের হাট যথাক্রমে ৪১.১৭, ৩৪.৯৯ ও ৪৭.৮৮ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্র ও ১৯ হাজার ৫৪৬ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ হাজার ৭৩১ জন ছাত্র ও ৩০ হাজার ২২৭ জন ছাত্রী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেয় ২৭ হাজার ১৬০ জন ছাত্র ও ২৪ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী।
৬ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ১
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেন ডিলারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. মুজিবের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে বিষয়টি দেখতে সেখানে যান জামাল উদ্দিন। পরে নিজের ঘরের আইপিএসের বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না এবং এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, তার জন্য বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-কারখানা স্থাপন করতে হবে। আর তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোনো গণ্ডগোল হয়, কোনো সমস্যা হয়, তখন কি দোকানপাট খোলা থাকে না বন্ধ থাকে? বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হয়ে যায়? কারণ এই যে ছোট দোকানদার বা যেই ব্যবসায়ী হোক, তারা এইজন্য বন্ধ করে দেয় যাতে ওই গণ্ডগোলে তার ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। একইভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ চান, যেখানে তাদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দর দিয়ে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে আনা যাবে।
তারেক রহমান বলেন, যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তার কথায়, ‘যদি দেশের সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়—এইসব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, একইভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের মতো করে বিভ্রান্ত করে চলে যাবে, তারা জনগণের সঙ্গে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা।
তিনি বলেন, এই যে বর্তমান সরকার, এই সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা।
সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের কল্যাণে কয়েকটি মৌলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়টিও ছিল।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় এবং তা শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। বাঁশখালীসহ এ অঞ্চলে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। আগামী চার বছর ধরে এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোনকে এর আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই নয়, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণচাষিদের স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে সচ্ছল করতে আলোচনার মাধ্যমে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
মাতারবাড়ী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেছেন।
চীনের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সরকারপ্রধান বলেন, চীন সফরকালে তিনি দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চট্টগ্রামে কয়েক শত মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সেই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাঁশখালীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের সব উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে এ খাতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কিছু সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা এরই ভেতরে তার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
এ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এখন দেশের জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময় বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হলেও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকেও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
‘কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, একই সঙ্গে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
১ দিন আগে
রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী
চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড দেখালেও অন্যদিকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি) দাবি, চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছে।
দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ছোট শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেও চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন, এত বিদ্যুৎ যাচ্ছে কোথায়?
বিপিডিবির স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগে বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬১ দশমিক ২ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াটে। এটিই ছিল দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে দুপুরে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা ছিল দুপুরে ১ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ৩২৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ফলে সরকারি হিসাবে দুপুরে ১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ৫৯ দশমিক ১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি প্রায় ৬৩ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে।
সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এসএস পাওয়ার বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী দুপুরে ১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে দুপুরে ২১৩ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র দুটি সারা দিন বন্ধ ছিল। কেইপিজেড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। টেকনাফ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুপুরে ১০ দশমিক ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
মহানগরীর মেহেদীবাগ, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের মাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিদ্যুতের সমস্যা।
মেহেদীবাগ আমিরবাগ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ কাজল বলেন, ‘সবসময় দেখি চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি। প্লান্টও তো কম নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়। গরমে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আর সহ্য হচ্ছে না।’
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার চিকিৎসক রুহুল কবির বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না, পড়াশোনা—সবই ব্যাহত হয়। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়, বলার মতো না।’
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক দোকানে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি কমে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অফিসপ্রধান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অফিস স্থানান্তরের কারণে এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে না পারায় সময়মতো নিউজ ফুটেজ পাঠানো যাচ্ছে না। এমনকি লাইভ প্রগ্রাম সম্প্রচারেও বিঘ্ন ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবির সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে উৎপাদন বেশি হলেও এর বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পানির স্তর ছিল ১০১ দশমিক ৭৩ ফুট, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৮ ফুটে দাঁড়ায়। রুল কার্ভ অনুযায়ী নির্ধারিত মান ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ ফুট। অর্থাৎ বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে পিকআপের চাপায় ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাইয়ে পিকআপের চাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা একই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার পুরাতন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জয়নাল আবেদিন (৩৫) এবং চরশরৎ এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে জহির উদ্দিন (৫২)। জয়নাল আবেদিন উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ওলামা দলের সভাপতি এবং ওই এলাকার দরগাহপাড়া কালা পীরশাহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। জহির উদ্দিন একই মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে জরুরি একটি কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ইমাম ও মুয়াজ্জিন। পথে চৌধুরীহাট এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাফায়াত হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
মীরসরাই জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনসহ চার আসামি ১০ দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ফটিকছড়িতে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করে পুলিশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই মামলায় ওই আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের রিমান্ড শুনানীকে ঘিরে আদালত এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের কোতোয়ালী থেকে গ্রেপ্তার ইমনসহ ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা।
রিমান্ডে নেওয়া ডেভিড ইমন ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন— তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ জগতের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৮ দিন আগে
অন্তর্বাসের মধ্যে ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণ, শাহ আমানতে ভারতীয় যাত্রী আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণসহ এক ভারতীয় যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, আজ সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান থামিম আনসারি নামের এক ভারতীয় নাগরিক। তিনি বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল তাকে শনাক্ত করে। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার অন্তর্বাসের (আন্ডারওয়্যার) ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থ উদ্ধার করা হয়।
৯ দিন আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পিছিয়েছে
আগামী আগস্টে চট্টগ্রামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতি এবং এইচএসসি পরীক্ষার কারণে তা এক মাস পেছানো হয়েছে। আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর এই ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বিশাল আয়োজনের উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আয়োজনের নির্দেশ দেন। তারই আলোকে আমরা চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, দেশের ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়া অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন।
১১ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় যশোর থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৪
ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯টি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা এলাকার ৭ নম্বর কাঞ্চনগর ইউনিয়নের কাঞ্চনগর গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন: আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলা এলাকার জুরাইনের পরি মোল্লারবাগের বাসিন্দা; মো. শামিম (২৮), তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর কে মিশন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৮), তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাহারপাড় এলাকার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়াটারের পেছনে বসবাস করেন।
তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ডেভিড ইমন তার সহযোগীদের নিয়ে যশোর হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়।
যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ডেভিড ইমনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত যশোরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন।
১২ দিন আগে