এশিয়া
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
১ দিন আগে
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
২ দিন আগে
দুর্নীতির অপরাধে চীনে ফুটবল অঙ্গনে ৭৩ জনকে আজীবন নিষিদ্ধ
চীনের সর্বশেষ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ৭৩ জনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ স্তরের নয়টি ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের কোচ ও এভারটনের খেলোয়াড় লি থাই এবং চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) সাবেক সভাপতি চেন শুয়ুয়ান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সিএফএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিচারের রায়ে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সিএফএ। চেন শুয়ুয়ান ও লি থাইসহ মোট ৭৩ জন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।’
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দল পরিচালনা করা লি এবং চেন ২০২৪ সালে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। সে সময় লি থাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়, আর চেন শুয়ুয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
একই সঙ্গে চীনা সুপার লিগের ৯টি ক্লাবকেও পয়েন্ট কর্তন ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
গত মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া সাংহাই শেনহুয়া এবং তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার্স সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই ক্লাবেরই ১০ পয়েন্ট কাটা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাংহাই পোর্ট ২০২৬ মৌসুম শুরু করবে পাঁচ পয়েন্ট কর্তন নিয়ে।
সিএফএ জানায়, ‘প্রতিটি ক্লাব যে অনিয়মিত লেনদেনে জড়িত ছিল, তার পরিমাণ, প্রকৃতি, গুরুত্ব এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পয়েন্ট কর্তন ও আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি।
এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একই ধরনের অপরাধে ৪৩ জন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল চীন।
৯ দিন আগে
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
৯ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ব্যক্তিগত বিমানটিতে থাকা আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলীয় র্যালিতে যোগ দিতে ব্যক্তিগত বিমানে করে মুম্বাই থেকে নিজ শহর বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। টেলিভিশনের ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, মাঝারি আকারের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে ছিলেন পাওয়ারের দুই স্টাফ সদস্য ও দুই ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অংশ হিসেবে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি উৎপাদন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারকে একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার গভীর উপলব্ধি এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তার অকালমৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকের। তার পরিবার ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমার সমবেদনা।’
১০ দিন আগে
থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে নিহত ২২
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দেশটির নাখন রাতচাসিমা প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রদেশের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দ্রুতগতির উড়াল রেলপথ নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেনটি ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশগামী চলন্ত ট্রেনটির ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়।
২৪ দিন আগে
হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
গাজায় বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে চালানো হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় আরও ২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজার শহরের উপকণ্ঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কমান্ডারের নাম রায়েদ সাদ বলে দাকি করেছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতি দিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ব্যক্তি সাদই কি না তা স্পষ্ট করেনি হামাস। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা করেছে যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাসের উৎপাদন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সাদ। তার আগে তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অপারেশন বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন।
এদিকে ইসরায়েলের বিবৃতিতে তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি হামাসের পুনর্গঠনে যুক্ত ছিলেন, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক জানান, গাজা শহরের পশ্চিমে ইসরায়েলের এই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতালে তাদের মরদেহ দেখেছেন তিনি। আল-আওদা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েল এবং হামাস বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার জবাবেই সাম্প্রতিক এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশের এবং বাকি অংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মি রান গভিলির দেহাবশেষ ফেরত দিতে হবে। এটি শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় ও সবচেয়ে জটিল ধাপে প্রবেশের একটি শর্ত। ওই ধাপে হামাসের শাসনের অবসান এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি নিরস্ত্রীকৃত গাজা পুনর্গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে আটককৃত প্রায় সবাইকে ও নিহতদের মরদেহকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে।
অপরদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজার ৬৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে এদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সেনা তা আলাদা করে বলা হয়নি।
এ যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকার ২০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল, তার চেয়ে কম সহায়তা প্রবেশ করছে গাজায়। এ ছাড়া, যুদ্ধে যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম অঙ্গের সংকটে ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছেন।
৫৫ দিন আগে
জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৩, সাগরে ২ ফুট সুনামি
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটি হাচিনোহের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) গভীরে আঘাত হানে।
এরপর সম্ভাব্য আফটারশক ও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর উত্তরে আওমোরির উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে। তবে, জাপান সরকার এখনো সুনামি ও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে বিধায় চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর আওমোরির ঠিক দক্ষিণে ইওয়ার কুজি বন্দরে ৭০ সেন্টিমিটার (২ ফুট ৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি আঘাত হেনেছে।
ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
এনএইচকে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের বেশিরভাগই ধসে পড়া বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছেন। হাচিনোহের একটি হোটেলে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তোহকুতে গাড়ি খাদে পড়ে এক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছেন।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতা না ওঠা পর্যন্ত উঁচু স্থান বা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এই অঞ্চলের কিছু অংশে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন ও লোকাল রেললাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আওমোরি হাচিনোহে শহরের দোকান মালিক নোবুও ইয়ামাদা সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’কে বলেন, ‘আমি এত বড় কম্পন আগে কখনো অনুভব করিনি। সৌভাগ্য যে আমাদের এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রয়েছে।’
ওই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কিহারা।
পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আওমোরির রোক্কাশো জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের জ্বালানি শীতলীকরণ এলাকা থেকে প্রায় ৪৫০ লিটার পানি উপচে পড়েছে। তবে পানির স্তর স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, হাচিনোহে বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ৪৮০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য ১৮টি প্রতিরক্ষা হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
এনএইচকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে হোক্কাইডোর নিউ চিটোস বিমানবন্দরে প্রায় ২০০ যাত্রী সারা রাত আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে, আগামী কয়েকদিনে সম্ভাব্য আফটারশকের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। তারা জানিয়েছে, টোকিওর পূর্বে চিবা থেকে হোক্কাইডো পর্যন্ত জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি কিছুটা বেড়েছে।
সংস্থাটি এই এলাকার ১৮২টি পৌরসভার বাসিন্দাদের আগামী সপ্তাহে তাদের জরুরি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণের জন্য সরকার একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং আমাদের পক্ষে যা সম্ভব সবই করছি।
তিনি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় পৌরসভাগুলোর সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে প্রস্তুত থাকুন যাতে কম্পন অনুভব করার সাথে সাথেই আপনারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।’
আবহাওয়া অফিসের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিভাগের কর্মকর্তা সাতোশি হারাদা বলেন, ‘আপনাদের এমন একটি দুর্যোগ আবারও ঘটতে পারে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কর্তৃপক্ষ উত্তর জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জন্য জারি করা সব সুনামি সতর্কতা তুলে নেয় বলে খবরে বলা হয়েছে।
৬০ দিন আগে
সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কম্বোডিয়ায় থাইল্যান্ডের বিমান হামলা
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দোষারোপের মধ্যেই কম্বোডিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড।
থাই সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে থাইল্যান্ডের সিসাকেট প্রদেশে কম্বোডিয়ান বাহিনীর গুলিতে এক থাই সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এরপরই বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার দাবি, থাই বাহিনীই প্রথমে হামলা চালায়।
সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ চলতি বছরের জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাঁচ দিন ধরে চলা ওই সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দুই দেশ অক্টোবরে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করে। তবে তারপরও উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সর্বশেষ সংঘর্ষের পর থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে দেশটির ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে গেছে। এ ছাড়া আরো অনেকে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড কখনো সহিংসতা চায়নি। আমি আবারও বলতে চাই, থাইল্যান্ড কখনো লড়াই বা আগ্রাসন শুরু করেনি। তবে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা জানিয়েছেন, থাই সীমান্তের কাছে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার গুলি বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হয় সংঘর্ষ
নভেম্বরের শুরুর দিকে ল্যান্ড মাইনে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে ব্যাংকক। যদিও মাইন অপসারণে তাদের যৌথভাবে কাজ করার কথা, কিন্তু উভয় দেশই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
এর মধ্যে গতকাল (রবিবার) সীমান্তে আবারও এক দফা সংঘর্ষ ঘটে। এবারও একে অপরকে দোষারোপ করে দুপক্ষ।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, কম্বোডিয়া থেকে চালানো গুলিতে দুই থাই সেনা আহত হয়। এরপর থাই বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এই গোলাগুলি।
পরে থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইন্থাই সুবারি আজ (সোমবার) বলেন, কম্বোডিয়ার সেনারা থাই ভূখণ্ডের একাধিক স্থানে গুলি চালিয়েছে। এতে এক সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
‘কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণ দমন করতেই’ থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, থাইল্যান্ড থেকেই প্রথমে গুলি চালানো হয়েছে। তাদের (কম্বোডিয়া) পক্ষ থেকে পাল্টা গুলি পর্যন্ত চালানো হয়নি।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা বলেন, ‘সোমবার থাই বাহিনীই কম্বোডিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাথমিক আক্রমণের সময় কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা হামলা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে—থাইল্যান্ড অবিলম্বে যেন এমন সব বৈরী তৎপরতা বন্ধ করে।’
এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘর্ষ এড়াতে যেকোনো প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া।
বিরোধের নেপথ্যে
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এ বিরোধের মূল উৎস ১৯০৭ সালে ফরাসি উপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা একটি মানচিত্র।
কম্বোডিয়াকে থাইল্যান্ড থেকে আলাদা করতে ওই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ওই মানচিত্র ধরে কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে কম্বোডিয়া। তবে মানচিত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরোধ রয়েছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো প্রেয়া ভিহেয়ার মন্দির নিয়ে। ১৯৬২ সালে কম্বোডিয়াকে এই মন্দির এলাকার মালিকানা দেয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। যার ফরে দেশদুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে পড়ে।
এরপর ২০১১ সালে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে, যেখানে ২০ জনের মতো নিহত হন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর কম্বোডিয়া আবার বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং ২০১৩ সালে আদালত আবারও তাদের পক্ষে রায় দেয়।
সম্প্রতি কম্বোডিয়া আবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানায় থাইল্যান্ড।
৬১ দিন আগে
ভারতের গোয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৫
রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভারতের গোয়া রাজ্যের একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় পর্যটকসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতের পরপর উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকায় অবস্থিত ওই নাইটক্লাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত আজ (রবিবার) জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই ক্লাবটির রান্নাঘরের কর্মী। এ ছাড়া তিন থেকে চারজন পর্যটকও রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সময় ক্লাবটির নাচের ফ্লোরে অন্তত ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। আতঙ্কের কারণে অনেকেই নিচতলার রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেলে কর্মীদের সঙ্গে তারাও আটকা পড়েন।
আগুন ইতোমধ্যে নির্বাপণ করা হয়েছে এবং সব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটির খবরে আরও বলা হয়েছে, আরপোরা নদীর তীরে অবস্থিত ক্লাবটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত সরু। এর ফলে ফায়ার সার্ভিসের টিমকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পানি সরবরাহকারী ট্যাংকার রাখতে হয়। ঘটনাস্থলে যাতায়াতের পথ খুব বেশি প্রশস্ত না হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগে যায়।
স্থানীয় গ্রাম পরিষদের কর্মকর্তা রোশন রেডকার পিটিআইকে বলেন, ক্লাবটি নির্মাণের অনুমোদন না থাকায় বেশ আগেই এটি ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ভবনটি নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে রাজ্য সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক পোস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্তের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মোদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের রাজ্য সরকার ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা’ করছে।
৬২ দিন আগে