এশিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার অটো পার্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ১৪ জন নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেজনে একটি অটো পার্টস কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পাঁচ শতাধিক ফায়ার সার্ভিসকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে কেউ প্রাণসংকটে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কারখানা এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
কারখানাটি আনজুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বলে জানা গেছে।
দেজনের দেদক জেলার ফায়ার চিফ নাম দুক-উ জানান, আগুনে কারখানার একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে কাঠামো ঠান্ডা করতে ড্রোন ও অগ্নিনির্বাপক রোবট ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তারপর নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ তৃতীয় তলার একটি জিমে পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দ্বিতীয় তলার একটি পানির ট্যাংকের কাছে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া নিখোঁজ সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আগুনের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং বিস্ফোরক রাসায়নিক আলাদা করতে কাজ করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ কেজির বেশি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কেউ কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন, আবার অনেকে ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ায় অসুস্থ হয়েছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাদের মধ্যে চারজনের হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন জখমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় বিমানসহ প্রায় ১২০টি যান ও সরঞ্জাম, একটি পানি নিক্ষেপকারী যান এবং দুর্গম স্থানে ব্যবহারের জন্য দুটি অগ্নিনির্বাপক রোবট মোতায়েন করা হয়।
৪ দিন আগে
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় ৪০০ জন নিহতের দাবি, ইসলামাবাদের অস্বীকার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আফগানিস্তান।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ভেতর সংঘাতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় ঘটনা। এই সময়ে সীমান্তে বারবার সংঘর্ষসহ আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো বারবার সংযম প্রদর্শন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনও তা আমলে নেয়নি যুদ্ধরত এ দুই দেশ।
তবে সর্বশেষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান বলেছে, তারা কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি। ইসলামাবাদের দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানে তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেগুলোতেও কোনো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
আফগানিস্তান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক এক্স পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওই হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলায় ২ হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০০ জন এবং আরও অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এক্সে প্রকাশিত ভিডিও থেকে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সার্চলাইট ব্যবহার করে হতাহতদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
ফিতরাত জানান, উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মরদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে আফগানিস্তানের চারজন নিহত হয়েছেন।
এর মাধ্যমে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করল।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স পোস্টে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিহতের সংখ্যা যে এত বেশি, তা সামনে আসার আগেই এক এক্স পোস্টে তিনি বলেছিলেন, যারা এই বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন, তারা সবাই ওই হাসপাতালের রোগী ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি স্বীকৃত নীতিমালা ও মানবতার বিরুদ্ধ অপরাধ।’
অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জায়েদি রীতিমত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টে জানান, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, কাবুলের দুটি জায়গায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘সকল লক্ষ্যবস্তুই পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু যেসব অবকাঠামো আফগান তালেবান সরকার এবং তার সন্ত্রাসীদলগুলোকে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে সাহায্য করবে, সেগুলোই আমাদের লক্ষ্যবস্তু।’
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ও আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযোোজানায়জাবিহুল্লাহের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। এটি জনমত প্রভাবিত করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অবৈধ সমর্থন ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ হামলা ছিল মূলত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত। সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক কোনো স্থাপনায় হামলা কখনোই তাদের অভিপ্রায় ছিল না।’
জঙ্গি দমনে পদক্ষেপ নিতে আফগানিস্তানকে জাতিসংঘের আহ্বান
পাকিস্তানের এই হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে পাকিস্তানে সংঘটিত নির্দিষ্ট হামলার উল্লেখ না থাকলেও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি তালেবানরাও (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি) আছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, তারা টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়াও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য জঙ্গিদেরও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল।
৮ দিন আগে
জ্বালানি সাশ্রয়ে শ্রীলঙ্কায় বুধবার ছুটি ঘোষণা, এশীয় দেশগুলোতে নানা পদক্ষেপ
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আসত। যুদ্ধের কারণে সেই পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শীলঙ্কাও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশটিতে আরও একদিন সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল। গত বছর এ প্রণালিটি দিয়ে প্রবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে আসে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে এশিয়াজুড়ে নানা পদক্ষেপ
সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার অন্যান্য দেশও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ওপর নির্ভরতা কমাতে স্যুট ছেড়ে ছোট হাতার টি-শার্ট পরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।
এছাড়া মিয়ানমারে লাইসেন্স প্লেট নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে একদিন অন্তর চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং চালু করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকারি খরচে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। ক্রমবর্ধমান তেলের দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মার্কোস রিকশাচালক, কৃষক এবং জেলেদের জন্য ৫০ থেকে ৮৪ ডলার নগদ সহায়তার ঘোষণাও করেছেন।
ভিয়েতনামে নাগরিকদের বেশি করে বাড়িতে অবস্থান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার আরও কিছু পদক্ষেপ
শ্রীলঙ্কার এ নতুন চার দিনের কর্মদিবস স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে স্বাস্থ্য ও ইমিগ্রেশনের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। সরকারি অফিস যেন টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে, সেজন্য শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গাড়িচালকদের এখন ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি কেনা সীমিত করা বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি কেনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ কোটা ব্যবস্থা অনেক লঙ্কান নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে দেশটির চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
৮ দিন আগে
পাকিস্তানে ঈদের ভাতা নিতে গিয়ে ছাদ ধসে ৮ নারী নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সরকারি কল্যাণ ভাতা নিতে জড়ো হওয়া নারীদের ভিড়ের মধ্যে একটি দোকানের ছাদ ধসে অন্তত আটজন নারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
উদ্ধারকর্মী আশিক মাহমুদ জানান, শতাধিক নারী ভাতা নিতে সেখানে জড়ো হলে দোকানদার কিছু নারীকে ছাদের ওপর উঠতে বলেন এবং অন্যরা দোকানের ভেতরে অবস্থান করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে ছাদটি ধসে পড়ে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় এসব নারী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নামে চালু করা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো নিম্নআয়ের পরিবারের নারী নগদ সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি তিন মাসে ১৩ হাজার রুপি (প্রায় ৪৫ ডলার) করে পায়।
রমজান মাসে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও নগদ সহায়তা বিতরণের সময় পাকিস্তানে প্রায়ই ভিড় ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে করাচিতে একটি কারখানার বাইরে রমজানের খাদ্য ও নগদ সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত মানুষ ভিড় করলে পদদলনে অন্তত ১১ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছিল।
৯ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে ৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিহত
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভারতীয় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে শহিদ লাখান গ্রামের কাছে মহাসড়ক থেকে মন্দিরে যাওয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনই ভারতীয় তীর্থযাত্রী। বাসে থাকা আরও সাতজন ভারতীয় তীর্থযাত্রী আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অন্য দুজন হলেন নেপালি বাসচালক ও তার সহকারী।
নেপালের জনপ্রিয় হিন্দু ধর্মীয় তীর্থস্থান মনোকামনা মন্দির দর্শন শেষে ফেরার পথে ছিলেন তীর্থযাত্রীরা। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই মন্দিরে গেলে দেবী তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।
পুলিশ জানায়, বাসটি ঢালু পথে নামার সময় একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং প্রায় ১৫০ মিটার নিচে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে একটি খাদে গিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নেপালে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হন।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
১০ দিন আগে
দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় ইস্তাম্বুলের মেয়র, হতে পারে ২০০০ বছরের জেল
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও তার ৪০২ জন সহযোগী বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরোধী এই নেতার বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিরোদী দলকে দমনের রাজনৈতিক চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির আদালতে এই বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামোগলু প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ২৩ বছরের শাসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মার্চে তাকে আটক করার পরও কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) তাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৪০২ জন আসামির অধিকাংশই ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী। ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমামোগলু। এই আসামিদের মধ্যে অনেকেই সিএইচপির কর্মকর্তা। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
গত বছরের ১৯ মার্চ ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার পর তুরস্কে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দশ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে মোট ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০১৫ সাল থেকে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করার অভিযোগ। ওই সময় তিনি ইস্তাম্বুলের বেইলিকদুজু জেলার মেয়র ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ৩ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র দরপত্র কারসাজি ও ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি। পাশাপাশি তারা সিএইচপির ভেতরে ইমামোগলুর রাজনৈতিক উত্থানকে অর্থায়ন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পথে নিয়ে গিয়েছে।
যদি এসব অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।
শুক্রবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ইমামোগলু বলেন, সোমবারের এই বিচার তুরস্কের ইতিহাসে গণতন্ত্র রক্ষায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করার একটি প্রচেষ্টা।’
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামের ওই সংগঠনের মামলা। এসব মামলায় তিনি কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন। অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করার অভিযোগ।
তবে সরকারের সমালোচকদের মতে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিচারিক অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এতে সিএইচপির নির্বাচিত প্রার্থীরা, বিশেষ করে অন্যান্য বড় শহরের মেয়ররা সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।
২০২৩ সালে কংগ্রেসে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্বও আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার পরিসর এবং এর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ভবনটি ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিভ্রি কারাগার কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ইমামোগলুসহ অনেক আসামি বন্দি রয়েছেন।
নতুন আদালত ভবনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মামলায় সংশ্লিষ্টদের কারাগারে বিদ্যমান একটি আদালতকক্ষে গাদাগাদি করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটি তুলে ধরতে ইমামোগলুর সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা।
ইমামোগলুর সমর্থকদের মতে, আকিন গুরলেক ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি উপবিচারমন্ত্রী ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেন। পরে গত মাসে তিনি আবার সরকারে ফিরে গিয়ে বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গোপন সাক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছেও গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের দিয়ে সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছেন তারা।
তবে দেশটির সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক বেঞ্জামিন ওয়ার্ড বলেন, ‘গত এক বছরে সিএইচপির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে আমরা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকার ইমামোগলুকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ তার দলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। এর ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
১৬ দিন আগে
তেহরানে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে ‘হুমকি অপসারণের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী তেহরানে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
খামেনি সেই সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
তবে হামলার ফলে কোনও হতাহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর প্রচার করলেও এর কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটিকে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর মোতায়েন করেছে।
একই সময়ে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছে।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২৫ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
২৮ দিন আগে
ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭
পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সি-৯০ নামে উড়োজাহাজটির মালিক রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড।
উড়োজাহাজটিতে করে গুরুতর দগ্ধ এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়া দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তার সঙ্গে ছিলেন একজন চিকিৎসক, একজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের দুই সদস্য।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কীর্তিশ্রী জি জানান, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সবাই মারা গেছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রাজ্যের বিমানের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের মধ্যে পড়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপর ঘন বনাঞ্চল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
ভারতে ছোট শহরগুলো থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত হাসপাতালে নিতে প্রায়ই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনাটি প্রতিকূল আবহাওয়ায়, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কিছুদিন আগে, পশ্চিম ভারতে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুনরায় এ দুর্ঘটনা ঘটল।
২৯ দিন আগে
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
৩০ দিন আগে