সারাদেশ
সূত্রাপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে অগ্নিসংযোগে আরও একজনের মৃত্যু
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকার চামারটুলিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে তানিয়া আক্তারও (১৭) মারা গেছেন।
এর আগে একই ঘটনায় তার মামাতো ভাই ইমন ও মামা সিদ্দিক বেপারীর মৃত্যু হয়। তানিয়ার মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনজনে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তানিয়ার মৃত্যু হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সূত্রাপুরের শ্যামবাজারে আগুনে তানিয়া আক্তারের শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন তানিয়ার মামা সিদ্দিক বেপারী (৫৫) মারা যান। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মারা যান সিদ্দিকের ছেলে ইমন (২৫), যার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকার চামারটুলিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ইমন নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় ঘরে থাকা তার বাবা সিদ্দিকসহ পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাসার সামনে জমে থাকা ময়লা পানি পরিষ্কার করা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি মোবাইল ফোনে ইমনকে জানালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
১ দিন আগে
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ হাজতির মৃত্যু
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়া দুই হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মোহাম্মদ ইফতেখার মাহমুদ (৩৬) ও মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন পলাশের (৩৮) মৃত্যু হয়।
কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানান, ইফতেখার মাহমুদ হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগের মাহবুব আলমের ছেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিনই তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানেই গতকাল (বুধবার) রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে কারারক্ষী মাসুম জানান, হাজতি তোফাজ্জল হোসাইন পলাশ রাজধানীর দারুস সালাম থানার বাগবাড়ী এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। গতকাল রাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এ দুই হাজতি কোন কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
৩ দিন আগে
ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল শতাধিক এনওসি
ইলিশ আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া এখন বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে এসব অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। সেখানে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতে তাদের ইলিশ মাছ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকশানের কথাও জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ঢাকা উদ্যানে লেগুনার চাপায় শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান এলাকায় লেগুনার চাপায় সাগর নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় লেগুনা চালক রিফাত উরফে ডেঞ্জারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা উদ্যান তিন নাম্বার রোডের সি ব্লকের শেষ মাথায় এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাগর ঢাকা উদ্যান এক নম্বর রোডের সি ব্লকের ৮৯ নাম্বার বাসায় থাকত। তার বাবার নাম মো. ফিরোজ। সে মোহাম্মদপুরের তুরাগ ন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাত।
নিহত সাগরের বাড়িওয়ালা রবিউল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার দিকে ঢাকা উদ্যান তিন নাম্বার রোডের সি ব্লকে একটি লেগুনা ঘোরানোর সময় সাগরকে চাপা দেয়। এতে সাগর গুরুতর আহত হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই লেগুনাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। নিহত সাগরের বাবা ফিরোজ তাদের অনেক আগেই ফেলে রেখে চলে গেছেন। তারা আমাদের বাসায় দশ বছর যাবত ভাড়া থাকে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪ দিন আগে
ধানমন্ডি লেক থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের লেকের পাড়ে আবেশ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ৭ নম্বর শাখার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম মো জাভেদ আহম্মেদ (৫১)। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে বসবাস করতেন।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহের পকেটে একটি এনআইডি কার্ড খুঁজে পায়। পরে নিহতের পরিবারকে খবর দিলে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খান তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
শাহানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সংকটের কারণে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তবে কীভাবে তিনি ওই লেকে গিয়ে মারা গেলেন বা তার আর্থিক সংকট এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিনা, সেসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গফুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে জাভেদ আহম্মেদের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৫ দিন আগে
আশুলিয়ার পোশাক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৮
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিরোবো ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন।
নিহত ব্যক্তি একজন সবজি বিক্রেতা, তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের ‘এফ অ্যান্ড এফ’ কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার খালাস করার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পার্শ্ববর্তী একটি পোশাক কারখানার লাইনম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শী লিটন মিয়া জানান, বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পরপরই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন জানান, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় মারাত্মক যানজট ও রাস্তার বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৬ দিন আগে
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
৭ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে কুবি ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোয়ার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতীম আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে দয়া করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে অপ্রতিমের মরদেহ শেষবার দেখেন এবং তার মৃত্যুতে শোক জানান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ গতকাল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তার মায়ের আইফোন নিয়ে গেল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। তবে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
৭ দিন আগে
বংশালে অজ্ঞাত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল কসাইটুলি জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের মোড় থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানভীর হোসেন নামে এক পথচারী জানান, রাতে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় বংশাল কসাইটুলি জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের মোড়ে এক যুবককে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পথচারীরা জানান, ওই যুবকের দুটি পা ভাঙা ছিল। এছাড়া মাথার ডান পাশেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের পরনে ছিল কালো রঙের হাফ হাতা টি-শার্ট এবং গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের ট্রাউজার।
তবে ওই যুবকের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামীতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ইমামরা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের মালিকানা অনুভব করবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে লক্ষ্যে ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান সিসিক প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে। সিসিকের আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিনোদন ও হাঁটার উপযোগী পার্ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক চিরতরে নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এসব কাজে সিসিক প্রশাসক সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
১৯৫ দিন আগে