নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে আগস্ট মাসে সারা দেশে ৫৯টি অভিযান পরিচালনা করে ৫০টি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এসব অভিযানে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং এবং ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০টি মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং নয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাতটি মামলা করা হয়েছে।
এ সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, ওই সাত দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ও রং ব্যবহার, কাচ্চুরি থেরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ বলেছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়।
মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিএফএসএর বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।