মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় ও স্থানীয় নানা ইস্যুতে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।
এ সময় গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনে সরকার দ্রুত কাজ করছে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রবিবারের সংসদ অধিবশেনে এ বিষয়ে চুড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের গতিশীলতা আনতে এবং মামলাজট কমাতে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় রক্ষীবাহিনীর তাণ্ডবে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে নিহত ব্যক্তির পরিবার যদি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে, তবে সেটা তারা নিতে পারে। আইনের দরজা সবার জন্য খোলা। গুম খুনের শিকার পরিবারগুলো আইনগত সহায়তা চাইলে আদালত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে।
ঝিনাইদহজুড়ে চলমান ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং জেলার সড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কের অপ্রশস্ততা ও নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষকে যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ছয় লেনের কাজ ত্বরান্বিত করা এবং সড়ক সংস্কারের জোরালো নির্দেশ দেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’র দায়ের করা রিট পিটিশনের কারণে ঝিনাইদহ পৌরসভার বহুতল আধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ আটকে থাকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি ভালো জানেন না। আইনি বাধা নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তা খতিয়ে দেখা হবে।
ঝিনাইদহ জেলার অফিস-আদালতে চলা দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান।
সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না সেটি বিষয় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকার।