ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা ও তেহরানের অন্যান্য শর্ত পূরণ হলেই কেবল হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় নিজের বাসভবনে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে। এছাড়া অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। বহু স্থাপনাও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলার সময় এসব হামলা চালানো হয়। ইরানও পাল্টা আঘাত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন ঘাঁটিই ইরানের হামলা থেকে রেহাই পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে তেহরান সমানভাবে জবাব দেবে বলেও জানান তিনি।
ইরান সব সময় যুদ্ধ ও সংঘাতের বিরোধিতা করে এসেছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো অন্য দেশের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর কোনো নজির ইরানের নেই।
কবি শেখ সাদি, হাফিজ শিরাজি ও মাওলানা রুমির দেশ হিসেবে ইরানের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি সমৃদ্ধ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবিকতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং যুদ্ধ ও সহিংসতায় বিশ্বাস করে না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে জাহানাবাদি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অতীতে দেশটির এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের রেকর্ড রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানি দূত সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর আবার হামলা হলে দেশটি তার সমানুপাতিক জবাব দেবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো জাহাজ ওই নৌপথ দিয়ে চলাচল করছে কি না, সে তথ্য নিশ্চয়ই বাংলাদেশ সরকারের কাছে রয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকায় আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত তেহরানকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানের বন্ধু ও ভাই এবং ইরানের মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা রয়েছে।
ড. জলিল রহিমি বলেন, বাংলাদেশের জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি তেহরানকে নজর দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এছাড়া মক্কা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো চুক্তিকেই তেহরান ইরানবিরোধী বলে মনে করে না।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে ইরান দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বর্তমানে রিয়াদ ও ইয়েমেনের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এর সমাধান সৌদি সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করছে বলেও মত দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও বলেন, হুতি, হিজবুল্লাহসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতাকারী আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দেয় ইরান।