সরকার ও বিএনপি উভয়ের বিরুদ্ধেই নানা চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার ভুল করলে সমালোচনা করার পক্ষে, তবে চক্রান্তের নীলনকশা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
শুক্রবার (২৯ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আয়োজনের প্রস্তুতি এবং দলের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশ নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এ দেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয়নি, কখনো নেবেও না। বিরোধীদলসহ আরও নানান অপশক্তি যে চক্রান্ত ও হুংকার দিচ্ছে, জনগণই তা প্রতিহত করবে।
এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের সব লোক ফেরেশতা নয়। সব মানুষ যদি ফেরেশতা হতো, তাহলে সরকারের প্রয়োজন হতো না। সেহেতু অনেকেই আইন ভঙ্গ বা অপরাধ করবে, কিন্তু সরকার সে বিষয়ে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। যেমন রামিসার বিষয়টি সামনে আসার পর সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় দুর্যোগ ও দারিদ্র্যসহ সব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সব কিছুই সরকার বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। তবুও বিরোধীরা চক্রান্তের কথা বলছে।
জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৩০ মে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করে সারা বিশ্বেই তা জানান দেন। তৎকালীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভালো ছিল না, তিনি পুনরায় সেগুলো সচল করার ব্যবস্থা করেন। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে একটি বিপ্লব তৈরি করেছিলেন।
এ সময় জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আগ্রাসী শক্তিরা বুঝতে পেরেছিল যে জিয়া ক্ষমতায় থাকলে এ দেশে আগ্রাসন করা সহজ হবে না, এজন্যই তাকে খুন করা হয়। এরপর আধিপত্যের থাবায় দেশকে আবার বন্ধ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার সহধর্মিণী (খালেদা জিয়া) সংগ্রাম করে দেশকে রক্ষা করেন। সেই চক্রান্ত কিন্তু এখনো বন্ধ নেই, এখনো নানান চক্রান্ত চলছে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এবার ঈদে সব ধরনের চাঁদাবাজি সরকার কঠিন হাতে দমন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভালো না হলেও তা খারাপ ছিল না। রাতারাতি সব কিছু বদলে দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাছাড়া কোরবানির ঈদ শেষ হতেই দ্রুততম সময়ে সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, তার মানে সরকার কাজ করছে।