নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন এবং নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতাল পাঠানো হয়। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাদের মধ্য আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বাসচালক রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফরাদপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৪০), বাগমাার চায়পাড়া গ্রামের আনোয়ার হক, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদ আলীর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া (৮), শরীয়তপুরে জাজিরা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল, ঝিনাইদহের বরাতলা গ্রামের জাকিরের ছেলে ট্রাকচালক মো. কালাম (৫০), ডুবি সাহাবুর গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে মো. শাহিন, ডুবি সাহাবুর গ্রামের ইউনুসের ছেলে সোহাগ (৩০), আরব আলী ফকিরের ছেলে আব্দুস সামাদ (৭০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের আজাহার হাওলাদারের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) ও নওগাঁর সাপাহার থানার কলমুডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাজ্জাদের ছেলে রাসেল (৩৫)।
এদিকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।