জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, গণভোটের ৮৪ টি সংস্কারের পক্ষে সরকার ‘হ্যাঁ’ বলেছে, কিন্তু পার্লামেন্টে তারা উল্টো কথা বলছে। তারা জুলাই সনদ মানবে, কিন্তু গণভোট মানবে না। অথচ ক্ষমতায় যেতে তারাও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজী করেছে। সরকার নিজ স্বার্থে জুলাই সনদ ও গণভোট—এ দুটিকে আলাদা করে ফেলেছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও মানবকল্যাণ পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারি দল পার্লামেন্টে বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানব। এর অর্থ জুলাই সনদে যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে সেই নোট অব ডিসেন্টসহ তারা মানবে। কিন্তু তারা কখনো বলে না যে, গণভোটের রায় তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। এর অর্থ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়গুলো তারা নোট অব ডিসেন্টসহ মানবে। অথচ ক্ষমতায় যেতে তারাও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজী করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব অবশ্যই। এ নির্বাচনটিকে আমরা জাতীয় নির্বানের আগেই চেয়েছিলাম এবং সরকার ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সেটি মানেনি।
জামায়াতে ইসলামীর এই সেক্রেটারি আরও বলেন, এখন আমরা দাবি করছি, সরকার বড় অন্যায় করেছে যে ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্টে শুরু হবার আগেই উনারা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করে ফেলেছেন। এটা চরমভাবে গণতন্ত্র এবং সংবিধান-বিরোধী একটি কাজ। কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকার এসে সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপুর্ণ জায়গায় নির্বাচিত দলীয় লোক দিয়ে দিলেন? এতেই বোঝা যায়, সরকার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে না।
জেলা জামায়াতে আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সেক্রটারি মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ফজলে রাব্বিসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।