বিশেষ-সংবাদ
চরম জনবল সংকটে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, নষ্ট হচ্ছে ১৫৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি
দীর্ঘদিন ধরে জনবল-সংকটে ধুঁকছে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। চার ভাগের এক ভাগ কর্মচারী দিয়ে চলছে দেশের বৃহত্তম এই রেলওয়ে কারখানার কার্যক্রম। জনবলের অভাবে পড়ে আছে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমদানিকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি, যা ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তীব্র কাঁচামাল-সংকট দেখা দিয়েছে। এসব কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আসাম–বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ১১০ দশমিক ২৯ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় রয়েছে ২৭টি শপ (উপকারখানা)। এখানে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ এবং মালবাহী যান (ওয়াগন) মেরামতের কাজ করা হয়। পাশাপাশি রেলওয়ের স্টিম রিলিফ ক্রেন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত করা হয়ে আসছে। এছাড়া ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের প্রায় ১ হাজার ২০০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হয় এই কারখানায়।
ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটির আধুনিকায়ন করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগি এবং ওয়াগন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৭টি ওয়ার্কশপের সংস্কার করা হয়। ৪৩ ধরনের যান্ত্রিক (মেকানিক্যাল) এবং ১৩ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়া গভীর নলকূপ স্থাপনসহ একটি ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। তবে দক্ষ জনবল না থাকায় এই আধুনিকায়নের কোনো বাস্তব সুফলই মিলছে না।
সূত্র জানায়, বর্তমানে কারখানাটিতে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর মোট পদ ২ হাজার ৮৫৯টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৭১৬ জন। অর্থাৎ ২ হাজার ১৪৩টি পদই রয়েছে শূন্য। এই জনবল-সংকটের কারণে ক্যারেজ মেরামতের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন তিনটি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে হচ্ছে দুটি। ২৭টি শপে থাকা ৭৪০টি মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকও নেই।
১৫ ঘণ্টা আগে
চুয়াডাঙ্গার দুই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনের নির্বাচনি মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে সরগরম গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা—কোনো দিক থেকেই প্রচারণায় ঘাটতি রাখতে চান না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রচারণায় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করছেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও জেলার দুই আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে দলটির কর্মী-সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটাররা।
চুয়াডাঙ্গা-১: বিএনপির ঘাঁটিতে দ্বিমুখী লড়াই
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় এবং ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে বিতর্কের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় পান।
এবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।
গণসংযোগে বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে এসেছি। এবারের নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। আমরা শুধু নিজেদের পক্ষে ভোট চাইছি না, সব দলের, এমনকি নির্দলীয় ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোট কাকে দেবেন সেটাই মুখ্য নয়, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়লে সেটিই বড় সাফল্য হবে।’
তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অবহেলিত চুয়াডাঙ্গাকে উন্নয়নের শিখরে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে একটি রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী বলেন, ‘বড় দলগুলোর রাজনীতির বাইরে গিয়ে আমরা পরিষ্কার ভাবমূর্তির নেতৃত্ব দিতে চাই। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি।’
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণে জামায়াতের জয় কঠিন হলেও তারা সম্মানজনক ভোট ও নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
চুয়াডাঙ্গা-২: জামায়াত অধ্যুষিত আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা
দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই জয় পেয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএর সভাপতি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি নির্বাচিত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ এই আসনে আলোচিত বিষয়।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, খাদ্য হিমাগার স্থাপন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, আয়কর আইনজীবী রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের সকল বাধা উপেক্ষা করে ২০১০ সাল থেকে তিনি এ আসনে কাজ করছেন। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে এলাকায় অবস্থান করে দলকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় তাকে হারানো সহজ হবে না।
রুহুল আমিন বলেন, ‘এই জনপদের মেঠো পথেই আমার বেড়ে ওঠা। মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমি জানি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন, চুয়াডাঙ্গা–কালীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব বলেন, ‘সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই এবার বড় ফয়সালা দেবেন। আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করব। আমার বিশ্বাস মানুষ হাতপাখার প্রতি বিশ্বাস রাখবেন।’
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটারই বড় নিয়ামক
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের বাইরে থাকা ভোটাররা। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা। দলীয় প্রার্থী না থাকায় এই ভোটারদের একটি অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
চুয়াডাঙ্গা শহরের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দল নেই, তাই ভাবছি কাকে ভোট দিলে এলাকার জন্য ভালো হবে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’
একই ধরনের কথা শোনা গেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামেও। সেখানকার এক ভোটার বলেন, ‘তিন প্রার্থীর মধ্যে কাউকে না কাউকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু কাকে দেব, এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় আছি।’
একই কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও মুখেও। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটাররা এখনও বড় ফ্যাক্টর।
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষাবিদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘এটা আসলে নিজস্ব ভোটব্যাংকের নির্বাচন নয়, এটা মন জয়ের নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, সেটাই ফল নির্ধারণ করবে।’
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে এবারের জয়পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটার। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনসম্পৃক্ততাও বড় প্রভাব ফেলবে। শুধুমাত্র দলীয় ভোট ব্যাংক দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটাও হতে পারে জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া, জামায়াতে ইসলামী নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে, আর বিকল্প রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
১ দিন আগে
কচুরিপানার করাল গ্রাসে জৈন্তার লাল শাপলার বিল, হুমকিতে স্থানীয় পর্যটন
কচুরিপানার আগ্রাসনে নান্দনিকতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাল শাপলার বিল। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওরের একাংশে অবস্থিত এই বিলটির প্রাণ–প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনের নেতারা।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ওই শাপলা বিল ও জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করে।
পরিদর্শক দলে আরও ছিলেন জার্মানপ্রবাসী লেখক ও ঐতিহ্য গবেষক সাকি চৌধুরী, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও ধরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, সংগঠনটির সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সদস্যসচিব আব্দুল করিম কিম এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবাহান চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জৈন্তিয়া ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান করিম সাব্বির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন মো. হানিফ প্রতিনিধি দলটিকে স্থানীয় উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘তরুছায়া প্রকল্প’ সম্পর্কে অবহিত করেন। এই প্রকল্পের আওতায় বিলের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে বলে জানান তারা।
৩ দিন আগে
দেশের বৃহত্তম কুষ্ঠ হাসপাতাল এখন নিজেই ‘রোগী’
দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালটি বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যে, নিজেই যেন এক দণ্ডায়মান ‘রোগী। ভবনের যত্রতত্র ফাটল, ছাদ চুইয়ে পড়া বৃষ্টির পানি এবং খসে পড়া পলেস্তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের জন্য পদে পদে বিপদের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। শৌচাগারে দরজা নেই, চিকিৎসার ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে পড়েছে—সব মিলিয়ে হাসপাতালটির অবস্থা তথৈবচ।
১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতাল দেশের তিনটি বিশেষায়িত সরকারি কুষ্ঠ হাসপাতালের মধ্যে সর্ববৃহৎ। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৮০ হলেও বর্তমানে কার্যকর রয়েছে মাত্র ৪৮টি।
গত ২৪ জানুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯ জন এবং প্রতিদিন গড়ে ১৫–২০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের তিনটি শৌচাগারে দরজা নেই, রোগী দেখার জন্য ব্যবহৃত মনিটরগুলো নষ্ট, বাথরুমগুলো নোংরা। মূল ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের কর্মীরা জানান, বৃষ্টি এলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এ কারণে সবাই আতঙ্কে থাকেন।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে জেলায় কুষ্ঠরোগী ছিলেন ২০ জন। পরবর্তী বছরগুলোতে যথাক্রমে ৩৭ (২০২১), ৩৫ (২০২২), ৭৯ (২০২৩), ৫৯ (২০২৪) ও ৫৮ (২০২৫) জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ ছোঁয়াচে নয়, মৃদু সংক্রামক। জীবাণুর মাধ্যমে এর সংক্রমণ হয়। এ জীবাণু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। প্রথমে চামড়ায় হালকা ফ্যাকাশে বাদামি বা লালচে অনুভূতিহীন দাগ, যেখানে চুলকায় না, ঘামে না এবং ওই স্থানে লোম থাকে না।
মুখে, ঘাড়ে বা বুকে-পিঠে ব্যথাহীন দানা বা গুটি, কানের লতি ফুলে যাওয়া, হাত-পা চোখে অনুভূতি না পেলে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান তারা।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, কুষ্ঠরোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছেন, এর মানে এই নয় যে রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। আগেও অনেকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হতেন, তবে তারা শনাক্ত হতেন না। এখন মানুষের সচেতনতা বাড়ছে, তারা চিকিৎসা নিতে আসছেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠরোগ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম বাড়ানোয় সুফল এসেছে।
মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ৪ দশমিক ৭২ একর জমিতে ১৮৯০ সালে হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু করে। এর দীর্ঘ সময় পর ১৯৬৩ সালে তিনতলা ফাউন্ডেশনের ভবনটির একতলা নির্মিত হয়, পরে ধীরে ধীরে সেটিকে তিনতলায় উন্নীত করা হয়। ফলে বিল্ডিংটি অনেক পুরাতন এবং অবস্থা খুবই খারাপ। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও ভবন পুনর্নিমাণ বা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
হাসপাতালের প্রধান সহকারী সাব্বির আহমেদ বলেন, বৃষ্টির দিনে দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। খুবই বিপদজনক ভবনে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুঘটনা ঘটতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৭০ বছর বয়সী এক রোগী বলেন, ‘আমার হাত পচে গেছিল। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে করাইছি। এখানে কোনো ব্যবস্থা নাই।’
৬৫ বছর বয়সী আরেক রোগী বলেন, ‘শরীরে চামড়ায় প্রথমে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া দাগ দেখা যায়। পরে সেটি কুষ্ঠরোগ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এখানে ১৪ দিন আগে ভর্তি হয়েছি। সারা দিনে চিকিৎসক মাত্র একবার আসেন। অন্যদিকে, বিল্ডিংয়ে থাকতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।’
হাসপাতালের বহির্বিভাগের রোগী আক্তার হোসেন জানান, তারা যখন হাসপাতালে থাকেন, তখন চোখ থাকে মাথার ওপর; কখন ছাদ থেকে কিছু খুলে পড়ে।
হাসপাতালটিতে ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও এর বিপরীতে কার্যক্রম চালাচ্ছেন মাত্র ২৯ জনে। কুষ্ঠরোগীদের জন্য বিশেষ জুতা তৈরির জন্য একজন কর্মী থাকার কথা হাসপাতালে, এই পদটি ২০২১ সাল থেকে শূন্য। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যাও কম।
হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, আগে আমরা ছয়জন কাজ করেও সামাল দেওয়া যেত না। অথচ এখন আছে মোটে চারজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মচারী বলেন, হাসপতালের রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা একেবারেই বন্ধ। জনবল না থাকায় ইনডোরের রোগীরা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নাহিদ রহমান বলেন, বাংলাদেশে তিনটি কুষ্ঠ রোগের হাসপাতালের মধ্যে সিলেটের হাসপাতালটি সবচেয়ে বড়। অথচ এই হাসপাতালের অবস্থা খুবই করুন। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।
৪ দিন আগে
আসছে সম্প্রচার কমিশন: অনিয়ম হলে তিন বছর জেল, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
দেশের সম্প্রচার খাতে নিয়ন্ত্রণ ও মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য নতুন একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গ্রহণ চলছে।
সম্প্রচার ক্ষেত্র ও আওতা
খসড়া অনুযায়ী, টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট, ক্যাবল টেলিভিশন, রেডিও, আইপি টিভি, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি, স্ট্রিমিং এবং ভিডিও অন ডিমান্ড (ভিওডি) প্ল্যাটফর্মকে সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপস ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এর আওতায় আসবে। তবে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অপেশাদার কনটেন্ট এই অধ্যাদেশের বাইরে থাকবে।
কঠোর শাস্তির বিধান
লাইসেন্স বা কমিশনের অনুমতি ছাড়া সম্প্রচার, সরকারের নির্দেশনা অমান্য, গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার, অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন সম্প্রচার এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপণ্য ব্যবহার করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা বা কমিশনের সুপারিশ না নিলে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ১০–৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয়ই হতে পারে। জাতীয় ইস্যু ও জনস্বার্থে নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
সরকারি অনাপত্তি ছাড়া সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫–২০ লাখ টাকা জরিমানা, গোপন সামরিক/বেসামরিক তথ্য প্রচারে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তি
অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজি ও জুয়া, তামাকজাত ও মদ্যজাত পণ্য, বিভ্রান্তিকর বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারে বিজ্ঞাপনদাতা ও সম্প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫–৩০ লাখ টাকা জরিমানা প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপণ্য ব্যবহার করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
অপরাধে আরোপিত অর্থদণ্ড ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-১৯১৩’ অনুযায়ী আদায় করা হবে।
সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল ও বিচার প্রক্রিয়া
অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার করতে এক বা একাধিক সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে একজন বিচারক নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার কমিশন গঠনে একটি বাছাই কমিটি কাজ করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবে। পাঁচ সদস্যের কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার রাখা বাধ্যতামূলক। সদস্যরা কোনো লাভজনক পদে বা সম্প্রচার/মিডিয়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।
কমিশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে কমিশনের দায়িত্ব হিসেবে সম্প্রচার লাইসেন্সের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করা, আচরণবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি এবং দর্শক-শ্রোতার অভিযোগ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। কমিশন বিটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে কারিগরি বিষয়গুলো দেখবে এবং প্রয়োজনে জরিমানা, সংশোধিত প্রচারের নির্দেশ বা লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে মতামত দেওয়া যাবে।
৫ দিন আগে
ভোটের আগে বদলি-বাতিল ও পদোন্নতি: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক থামছে না
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অপরিপক্কতার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ঠিক এমন সময়ে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি করে আবার তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ১১৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি—সব মিলিয়ে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক আমলাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনি পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে হিসাবে সরকারের হাতে সময় আছে ১৫ দিনেরও কম। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে ৮ উপজেলার ইউএনও বদলি করে দুদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিলের ঘটনা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ভোটের একেবারে কাছাকাছি সময়ে মাঠ প্রশাসনে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন।
ইউএনও বদলি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
গত ২০ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ফরিদপুরের নগরকান্দা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, বগুড়ার ধুনট, হবিগঞ্জের বাহুবল, নেত্রকোনার কমলাকান্দা ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ইউএনওদের বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সম্মতির ভিত্তিতে এ রদবদল করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ২২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি, যোগদান না করলে ওই দিন বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল।
তবে ২২ জানুয়ারি আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ২০ জানুয়ারির বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
জানা যায়, একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রথমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভোট সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আরেকটি রাজনৈতিক দলও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সরকার শেষ পর্যন্ত আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ইউএনও বদলি করে আবার তা বাতিলের ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া ইউএনবিকে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল। বদলি করে আবার বাতিল করা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত নয়। এতে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়—কেন বদলি করা হলো, আবার কেনই-বা বাতিল করা হলো।’
তিনি বলেন, এর প্রভাব কিছুটা হলেও নির্বাচনি পরিবেশে পড়তে পারে। ‘এক পক্ষ বলবে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি হয়েছিল, পরে আপস করে বাতিল করা হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে জন্ম নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’
একই মত সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের। তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন ভালো হলেও এ সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার তা বাতিল হওয়া উচিত ছিল না। এতে প্রশাসনে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি এও বলেন, বদলির আদেশ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে, যা ইতিবাচক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বিতর্কের মধ্যেই ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি
ইউএনও বদলি–বাতিলের বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার ১১৮ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও সাবেক আমলাদের একটি অংশ এটিকে ভালো চোখে দেখছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক সচিব বলেন, ‘ভোট যখন একেবারে সামনে, তখন সরকারের এ ধরনের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এ পদোন্নতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলে সরকার অস্বস্তিতে পড়তে পারে।’
এ বিষয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, নিরপেক্ষভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হলে সেটি দোষের কিছু নয়। তবে কোনো উদ্দেশ্য বা চাপের কারণে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সব সময়ই প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর।
শুরু থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আগের সরকারের আস্থাভাজন অনেক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়। কাউকে চাকরি থেকে বিদায়, কাউকে ওএসডি, আবার কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ফেরানো হয়। এসব সিদ্ধান্ত ঘিরেও তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
সাবেক আমলারা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি ও বিলম্বের কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন, আবার বিতর্কিত কর্মকর্তারা ভালো পদায়ন পেয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। এর জেরে সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়েছে। ডিসি পদে বড় আকারের রদবদল যতবারই করা হয়েছে, ততবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে; যদিও পরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধনের চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রশাসন পুরো সময়জুড়েই দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেই তারা মনে করেন। রাজনৈতিক চাপ, কর্মকর্তাদের অনৈতিক আন্দোলন এবং বাস্তবতা সামাল দেওয়ার অক্ষমতার কারণে সরকারকে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার সরে আসতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সরকারের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, চাপের মুখে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বদলির পর আদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে কিছু ইউএনও বদলি করার পর আবার সেই আদেশ বাতিলের ঘটনায় তিনি ‘খারাপ কিছু’ দেখছেন না।
৬ দিন আগে
দেশের নির্বাচনি প্রচারণার দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে পোস্টারবিহীন নির্বাচন
এই প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়াই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন আচরণবিধির কারণে চিরাচরিত পোস্টার, মাইকিং ও দৃশ্যমান প্রচারণা না থাকায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে নির্বাচনের আমেজ কমে গেছে, অন্যদিকে পোস্টারনির্ভর ছাপাখানা ব্যবসায় নেমে এসেছে বড় ধরনের স্থবিরতা। পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এতে সাধারণ ভোটারদের জন্য প্রার্থী চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিরচেনা নির্বাচনি দৃশ্যপট বদলে গেছে
নির্বাচন এলেই রাস্তার মোড়, অলিগলি, দেওয়াল কিংবা গাছপালা ছেয়ে যায় পোস্টারে; এটাই দেশের চিরায়ত নির্বাচনি দৃশ্যপট। তবে এই প্রথমবার সেই চিরচেনা দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না।
নির্বাচনি আচরণবিধিতে সব ধরনের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির এই সিদ্ধান্তে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে পোস্টারনির্ভর ছাপাখানা ব্যবসায়ীদের।
ছাপাখানা শিল্পে স্থবিরতা
ছাপাখানার মালিকরা বলছেন, গত তিন–চার দিন ধরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও তাদের হাতে কোনো কাজ নেই। পোস্টার ছাপানোর কোনো অর্ডার পাচ্ছেন না তারা।
সংশ্লিষ্ট এসব ব্যবসায়ী লাখ-লাখ টাকার কাগজ কিনে বসে আছেন। নির্বাচন সামনে রেখে যেখানে সাধারণত কয়েক কোটি টাকার পোস্টার ছাপার কাজ হতো, এবার তা পুরোপুরি বন্ধ। ফলে রীতিমতো ধস নেমেছে এই খাতে।
রাজধানীর ফকিরাপুল ও ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় ছাপাখানার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় মূলত পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপার কাজ বেশি হয়। কিন্তু নির্বাচনি প্রচার শুরু হলেও গত কয়েক দিনে এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ছাপাখানাগুলো অনেকটাই নিস্তব্ধ।
নতুন আচরণবিধি ও নিষেধাজ্ঞা
আচরণবিধিতে সংশোধন এনে গত ১০ নভেম্বর গেজেট জারি করে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় নামছেন প্রার্থীরা।
তবে পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে। এসব লিফলেট, বিলবোর্ড বা ফেস্টুনে রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া ভোটের প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
ভোটারদের মধ্যে আমেজহীনতা ও বিভ্রান্তি
পোস্টার না থাকায় জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের কোনো দৃশ্যমান আমেজই তারা পাচ্ছেন না। পোস্টার না থাকায় বিভিন্ন দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চিনতেও সমস্যা হচ্ছে।
রাজধানীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন ইউএনবিকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে পোস্টার ছাড়া কেমন জানি অচেনা অচেনা নির্বাচন মনে হচ্ছে। পোস্টার-ফেস্টুন এতদিন একটা কমন বিষয় ছিল। এবার না থাকায় যারা বাইরে খুব একটা চলাফেরা করেন না বা নির্বাচন নিয়ে যাদের আগ্রহ কম, তারা প্রার্থী চিনতে সমস্যায় পড়ছেন। ভোটের প্রচারণার কোনো আমেজই নেই।’
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে—এটা টিভিতে প্রচারণা দেখে বোঝা যায়। কিন্তু চিরাচরিত পোস্টার বা মাইকিং চোখে পড়ছে না। ভোটের তেমন কোনো আমেজ দেখছি না।’
অন্যদিকে বনশ্রীর বাসিন্দা নাঈম ইউএনবিকে বলেন, ‘পোস্টার ছাড়া নির্বাচন একদিক থেকে ভালো। শহর পরিষ্কার থাকে। তবে পোস্টারবিহীন প্রথম নির্বাচন হওয়ায় একটা ভিন্নতা লাগছে। নিউজ মিডিয়ার মাধ্যমে কে কোন দলের প্রার্থী, সেটা জানতে পারছি।’
প্রযুক্তি ও মাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি
নতুন বিধিমালায় প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও কঠোরতা আনা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারে ড্রোন বা কোয়াডকপ্টারের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আকাশ থেকে লিফলেট বা অন্য কোনো প্রচারসামগ্রী ছড়ানো যাবে না।
কোনো ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্লিপের আকার সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটার গুণ ৮ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপ দেওয়ার প্রথার আইনগত ভিত্তিও দেওয়া হয়েছে আচরণবিধিতে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে এবং শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, পোস্টার ব্যবহার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছিল। শুধু একটি রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করেছে, বাকিরা পোস্টার ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। এ ছাড়া পরিবেশবিদ ও সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকেও আপত্তি ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
৮ দিন আগে
চার বছরেও প্রশাসনিক কাঠামো পায়নি মধ্যনগর উপজেলা, বঞ্চিত দেড় লাখ মানুষ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণার চার বছর পার হলেও এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো। নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন নেই, নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে দেড় লাখ মানুষের বসবাস হলেও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মধ্যনগর উপজেলায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
বর্তমানে ২৩টি সরকারি দপ্তরের জন্য অনুমোদিত ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকি ২০৩টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের একতলায় অস্থায়ীভাবে। অধিকাংশ দপ্তরের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বর্তমানে মধ্যনগর উপজেলায় প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেণির মাত্র চারজন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে কোনোভাবে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও নাজুক। উপজেলায় নেই কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নেই একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। যদিও দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য এলাকাবাসীকে ধর্মপাশা উপজেলা কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যনগর উপজেলায় রয়েছে চারটি ইউনিয়ন ও ১৪৭টি গ্রাম। এই উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ঘোষণার পর কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যত থমকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘মধ্যনগরকে পূর্ণাঙ্গ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু চার বছরেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইউম মজনু বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণার চার বছর পরও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকা দুঃখজনক। প্রশাসনের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, প্রশাসনিক ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৬ একর জমির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১১ দিন আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অপ্রতুল, অংশগ্রহণ মাত্র ৪.০৪ শতাংশ
দেশের নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি বহুদিনের হলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে। ব্যালটে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি এবারও উদ্বেগজনকভাবে কম।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টির বেশি দল কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোট ২ হাজার ৫৬৮ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা মোটের মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৮৪২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৭৭৯ জন ও নারী প্রার্থী ৬৩ জন। সে হিসাবে নারী প্রার্থী মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
পরবর্তীতে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার পর ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গত ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৮০, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, দলবদ্ধ প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ ১০ শতাংশ।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ ও ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
জুলাই সনদ ও পূর্ববর্তী নির্বাচন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ধারা ২২(খ)-(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ যেহেতু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তাই কার্যত সেই নিয়মও এখন অচল।
অথচ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৫টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নবম, দশম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের হার উল্লেখ করা হয়েছে।
তাতে দেখা গেছে, পুরুষ প্রার্থীদের তুলনায় নবম (২০০৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের হার ছিল তিন দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৫৫ জন, দশম (২০১৪) নির্বাচনে পাঁচ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩০ জন এবং একাদশ (২০১৮) নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র মাত্র দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৭৩ জন।
মানবপাচার, অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কমছে
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০ জন নারী, যা মোট নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ৬.৬৭ শতাংশ। এই হার ছিল পূর্বের চারটি সংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
নবম জাতীয় সংসদে নারী সদস্য ছিলেন ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, দশম জাতীয় সংসদে ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও একাদশ জাতীয় সংসদে মাত্র ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
দলভিত্তিক পর্যালোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে খুব কম দলই নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সর্বোচ্চ ১৫টি আসনের জন্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল, কিন্তু যাচাই প্রক্রিয়ার পর বৈধ নারী প্রার্থী মাত্র ১১। নাটোর-৩ থেকে ফাতেমা খানামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়ন যাচাই হয়নি।
অন্যান্য দল থেকে মনোনীত নারী প্রার্থীরা হলেন: বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্ক্সবাদী: ৯, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসড) ও ইনসানিয়ত বিপ্লব বাংলাদেশ: ৬, গণসম্মতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি: ৫, গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: স্বপ্ন নাকি অধরা বাস্তব?
বাকি দলগুলোর মধ্যে এবি পার্টি, গন ফোরাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ (সিপিবি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শ্রমিক পার্টি ১ জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন নারী প্রার্থী প্রার্থিতা হারিয়েছেন। ৩৭ জন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন বৈধ মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন: সাবিনা ইয়াসমিন (নাটোর-২), ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৯), মেহেরজান আরা তালুকদার (জামালপুর-৪), অখতার সুলতানা (ময়মনসিংহ-৬), তাহমিনা জামান (নেত্রকোনা-৪) ও রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।
এ দিকে জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ প্রার্থী), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮), জাতীয় পার্টি (২২৪), গণঅধিকার পরিষদ (১০৪), খেলাফত মজলিশ (৯৪) এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো, যেগুলোর প্রার্থী সংখ্যা ৪০-এর কম, কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।
এর সম্ভাব্য প্রভাব কী
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল ১ জনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, এমন তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এক রিপোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। তবুও দেশের নারীরা এখনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ।
বিশ্ব সঙ্গীতশিক্ষাকে গুরুত্ব দিলেও উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ
নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ফোরাম ফর উইমেন্স পলিটিকাল রাইটস (এফডব্লিউপিআর) বলেছে, দলগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। তাদের মতে, নারীর মনোনয়ন প্রতীকী উদ্যোগ নয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নারী প্রার্থী মনোনয়নের সংকট: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ব্যবধান এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণের অত্যন্ত কম হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঋতু সাত্তার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, কিন্তু তারা সংসদে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সামিনা ইয়াসমিন বলেন, নারীর ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি। তিনি বলেন, ‘৫১ শতাংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে ৪৯ শতাংশের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যাওয়া কি সম্ভব? এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন।’
সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
সামিনা আরও জানান, ফোরাম নারীদের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা পর্যবেক্ষণ করছে নারীরা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, কীভাবে তা মোকাবিলা করছেন এবং ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধানের পথ কী হতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, নারীর অধিকার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পরও এই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম রয়েছে, যা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
এ দিকে, নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক ৭১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’।
কুকি-চিনের উত্থান বনাম বান্দরবানের পর্যটন: ক্ষতির পাহাড়
সমাজে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি যেভাবে চলমান, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে শঙ্কা বোধ করছেন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সমাজে পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্রের প্রতিফলন এবং একই সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।
নির্বাচন ও রাজনীতিতে নারীর দৃশ্যমান অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলছে, একটি গণতান্ত্রিক, সমতাপূর্ণ সমাজ কাঠামো তৈরি করতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তফসিল অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় নির্বাচনী প্রচরণা, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
১২ দিন আগে
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬ ঘিরে উদ্বেগ
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক খামারে এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে পোল্ট্রি শিল্পে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সক্ষমতা যাচাই ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পোল্ট্রি শিল্পের অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা তীব্র চাপে পড়বেন। একইসঙ্গে বাজারে গুটিকয়েক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
পোল্ট্রি শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া নীতিমালাটি হুবহু বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৬০–৭০ হাজার কোটি টাকার এই শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বেড়ে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে স্বনির্ভর করতে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমানোই নীতিমালাটির মূল লক্ষ্য। তবে খামারিদের দাবি, বাস্তবতায় সেই সক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া আমদানি বন্ধ করা হলে বাজারে তীব্র বাচ্চা সংকট তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে দেশে এক দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন মূলত হাতে গোনা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। জিপি ও পিএস ফার্মের সংখ্যাও সীমিত। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ সংক্রমণ বা উৎপাদন ব্যাহত হলে বিকল্প উৎস না থাকায় পুরো সরবরাহব্যবস্থা হঠাৎ অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা–২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক পোল্ট্রি মুরগি পালনের জন্য এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব রাখা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। খসড়া অনুযায়ী, এক দিন বয়সী কমার্শিয়াল মুরগির বাচ্চা আমদানির অনুমতি থাকবে না। তবে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট (জিপি) স্টক আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সংকট দেখা দিলে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে’ প্যারেন্ট স্টক (পিএস) আমদানির অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।
নীতিমালায় ব্যবহৃত ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে’ শব্দবন্ধটি নিয়ে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—কোন পরিস্থিতিকে ‘প্রয়োজনীয়’ ধরা হবে, সেই সিদ্ধান্ত কে নেবে এবং কত দিনের মধ্যে অনুমোদন মিলবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে সংকটকালে প্রশাসনিক লালফিতার জটিলতায় সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৫–১৬ অর্থবছরে মুরগির সংখ্যা ছিল ২,৬৮৩.৯৩ লাখ, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৩৬০.৭০ লাখে। একই সময়ে হাঁসসহ মোট পোল্ট্রির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪,০৬৬.৫২ লাখ। এই বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশই নির্ভর করছে ধারাবাহিক ও সময়মতো এক দিন বয়সী বাচ্চা সরবরাহের ওপর।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি মোশারফ হোসাইন চৌধুরী ইউএনবিকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে এক দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। আমদানির পথ বন্ধ হলে বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা বা সিন্ডিকেট করার সুযোগ বাড়বে। কোনো কারণে দেশীয় উৎপাদনে মহামারি বা রোগ দেখা দিলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মোট চাহিদার ১০–১৫ শতাংশ বাচ্চা আমদানি করতে হয় এবং তা কেবল তখনই করা হয়, যখন দেশীয় বাজারে বাচ্চা পাওয়া যায় না। সংকট কখন তৈরি হবে তা আগে থেকে জানা যায় না। হঠাৎ সংকটে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমদানি অনুমোদন পাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বার্ড ফ্লু কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো একটি কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত এক বছর দেশের ডিম ও মুরগির বাজার চাপে থাকবে। তাই পরিকল্পনামাফিক এবং ধাপে ধাপে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। অন্যথায় প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাচ্চা আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের জন্য সীমিত পরিসরে সুযোগ রাখা প্রয়োজন। তার মতে, এতে একদিকে স্বনির্ভরতা বাড়বে, অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে ঘাটতি মোকাবিলার সুযোগ থাকবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ২০২১ সালে কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালাটি সংশোধন ও হালনাগাদ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে প্রান্তিক খামারি ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। বড় সিদ্ধান্তের আগে অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানি হওয়া জরুরি ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, আমদানি বন্ধের আগে নিশ্চিত করতে হবে—দেশীয় উৎপাদনে নিয়মিত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না এবং খামারিরা ন্যায্য দামে বাচ্চা পাচ্ছেন কি না।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের ইউএনবিকে বলেন, ‘নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো পোল্ট্রি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্বনির্ভর করা। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি আমরা পেয়েছি। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়গুলো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ‘দেশ ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে সবার মতামত নেওয়ার জন্য। সব মতামত বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
১২ দিন আগে