বিশেষ-সংবাদ
হাইমচরে এক কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল মোড় থেকে মরহুম আব্দুর রহমান চেয়ারম্যানের এতিমখানা মসজিদ পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দ ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। বিশেষ করে ছৈয়াল বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃসাধ্য। প্রতিনিয়ত ছোটবড় যানবাহন উল্টে এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এই করুণ দশার পেছনে মূল কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু ও ইটবাহী অবৈধ ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। নিয়মিত এসব ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। খানাখন্দের কারণে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোরিকশাচালকরা জানান, এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েকবার গাড়ি উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অনেক চালক এখন এই পথে গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়কে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী। সিয়াম ও হাফিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না, আসলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাস্তার বালু উড়ে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবী মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী বলেন, আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। নির্বাচনের পর বরাদ্দ আসায় এই রাস্তাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৌশলীর মাধ্যমে এস্টিমেট (প্রস্তাব) প্রস্তুত করে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মহজমপুর ঈদগাহ থেকে ছৈয়াল বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি এলজিইডি আইডিভুক্ত সড়ক। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে চায় হাইমচরের এই জনপদের ভুক্তভোগী মানুষ।
৫ ঘণ্টা আগে
আর এক মাসের অপেক্ষা, হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরে ২৫০ কোটির বাণিজ্যের হাতছানি
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় এই আমটি এখন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় ‘অফ ইয়ার’। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘অন ইয়ার’।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, এ বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’, অর্থাৎ এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য
আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু এই আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাতলা ছাল ও অত্যন্ত ছোট আঁটি। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
উৎপাদন ও আবাদের চিত্র
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কেবল হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০ থেকে ১২ টন হিসেবে মোট উৎপাদন ও বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে বিশেষ সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিকভাবে ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাজারজাতকরণের সময়সূচি
কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। ফলে এ বছর ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষিবিদ ও আমচাষিরা বলছেন, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে আসা আমগুলো মূলত অপরিপক্ব থাকে। একটু বেশি দামের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে অপরিপক্ব আম বিক্রি করলেও প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাষিদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি ও তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে বলে তার প্রত্যাশা।
জিআই স্বীকৃতি ও সম্ভাবনা
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, “হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি হচ্ছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশাল এই বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
১ দিন আগে
নওগাঁয় ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
দেশের ধান উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁয় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারের চিত্র ভিন্ন। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা দিচ্ছে, মৌসুমের শুরু বলে দাম কিছুটা কম থাকলেও পুরোদমে ধান ওঠা শুরু হলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮০ টন, যা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৫ টন চাল পাওয়া যাবে।
খরচ ও আয়ের হিসাব মিলছে না
মাঠে ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও বাজারে গিয়ে হতাশ হতে হচ্ছে কৃষকদের। গত মৌসুমে এই সময়ে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে দাম মিলছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।
রানীনগর উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামের প্রান্তিক চাষি আবুল কালাম আজাদ ও ভাটকই গ্রামের বিপথ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাজারমূল্যে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ফলে বিঘা প্রতি অন্তত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় তারা ধান শুকাতে পারছেন না। এছাড়া পাওনাদারের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
তাদের দাবি, মন প্রতি দুই-তিনশ টাকা বেশি পাওয়া গেলেও তাদের অন্তত লোকসান গুনতে হতো না।
বাজারের চিত্র ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
নওগাঁর বৃহত্তম ধানের মোকাম আবাদপুকুর, লোহাচুড়া হাট, আহসানগঞ্জ হাট, চকগৌরি হাট, মাতাজী হাট, সতী হাট, শিষা বাজার, শিবপুর বাজার, মহাদেবপুর হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা অধিকাংশ ধানই কাঁচা বা ভেজা। সেই সঙ্গে ধানের ক্রেতাও কম। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় একদিকে যোগান বেশি, তার ওপর আবার ধানের মান তুলনামূলক নিম্ন। ফলে কৃষকরা গতবারের মতো দাম পাচ্ছেন না।
আবার অনেক ব্যবসায়ীর গুদামে গত বছরের ধান এখনও রয়ে গেছে। ফলে তারা মৌসুমের শুরুতেই ধান কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বড় ব্যবসায়ীদের ধান অবিক্রিত থাকার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের অতিরিক্ত আমদানিকে দায়ী করেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধান-চাল অবিক্রিত থাকায় বড় বড় ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বের করতে পারেননি। তারা নিজেরাই আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের হাত টাকা না থাকলে তারা হাটে গিয়ে ধান কিনবেন কী দিয়ে? মূল ধারার ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় শুরু না করলে বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, তাছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামগুলো যদি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করে, তাহলেও বাজারে দাম কিছুটা বাড়বে। সরকার-নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পারলে সব শ্রেণির কৃষকই লাভবান হবেন। অন্যথায়, জেলাজুড়ে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক তার নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমাইরা মন্ডল বলেন, জেলায় মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কৃষকরা এখন তড়িঘড়ি করে ভেজা ধান বিক্রি করছেন বলেই কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ধান শুকিয়ে বাজারে আনলে এবং সরকারি ক্রয় অভিযান শুরু হলে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এছাড়া, সরকারি গুদামগুলোতে ধান ক্রয় শুরু হলে অবস্থার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি। এই কর্মকর্তার মতে, প্রথম দিকে ধান বিক্রি না করে চাষিদের একটু ধৈর্য ধরা উচিৎ। ভরা মৌসুমে ধান বিক্রি করলে সব কৃষকই চলতি বছরের বাম্পার ফলনের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে নওগাঁর কৃষি-সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করে, শুধু ফলন ভালো হলেই হবে না, প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় বারবার লোকসানের মুখে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
২ দিন আগে
‘ঠিকাদারের গাফিলতিতে’ দেড় বছর ধরে ভুগছে চাঁদপুরের ১০ গ্রামের মানুষ
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতিতে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ‘লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক’ সংস্কারের কাজ। সাড়ে ৫ কিলোমিটারের এই সড়কের কার্পেটিং কাজ মাঝপথে থেমে থাকায় হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি—এই তিন উপজেলার অন্তত ১০-১২টি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনো কর্ণপাত না করায় ইতোমধ্যে ব্যাংকে সিকিউরিটি মানি জব্দের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), চাঁদপুর জেলা কার্যালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের উয়ারুক স্টেশন থেকে লাওকোরা বটতলী পর্যন্ত এই সড়কটি ওই এলাকার অন্তত দুই লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইভি ওয়াই কনস্ট্রাকশন’। পরবর্তীতে কাজটি ‘ভায়া’ হিসেবে নেন চাঁদপুরের অপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘আফজাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না করে সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং তুলে রাখায় পুরো এলাকা ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বালু-ধুলায় বিবর্ণ হয়ে গেছে।
হাটিলা টঙ্গিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বাবলু পাটোয়ারী ও আ. জলিলসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এমন একজন ঠিকাদার কাজটা নিয়েছেন যিনি খুব খারাপ লোক। আজ থেকে দেড় বছর আগে তিনি রাস্তাটি খুঁড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রেখেছেন। মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নাই। রাতের বেলায় এই পথে চলাচলের কথা তো বলাই যায় না।
অটোরিকশাচালক ইব্রাহিম বলেন, এখান থেকে স্টেশনে আপ-ডাউন করলে কাপড়-চোপড় পুরো নোংরা অইয়া যায়। আবার ধোয়া লাগে, নাহয় এসব গায় দেওয়া যায় না। বালু-ধুলায় এই রাস্তার পাশের দোকানপাট, বাড়িঘর সব লাল অইয়া যায়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নবীর হোসেন ও খোরশেদ মিয়া বলেন, রাস্তাটা উল্টানোর পর বলছিল, কিছুদিন পর কাজ করবে, কিন্তু কাজটা করে নাই। খারাপ রাস্তার কারণে গাড়িগুলা ভাইঙ্গা যায়।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ফারাজ হোসেন ভূঁইয়া ও কয়েকজন পথচারী জানান, ধুলোবালির কারণে ১০ হাত দূরের কিছু দেখা যায় না। রাস্তার কার্পেটিং না থাকায় জনসাধারণের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে মুখে মাস্ক পরে চলতে হয়। শিশু থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ এখন বিভিন্ন ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া।
লাওকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমত উল্ল্যাহ বলেন, রাস্তাটির উন্নয়ন ও সংস্কার আমাদের সবার জন্য অতীব জরুরি। দীর্ঘ দেড় বছর আগে থেকে ঠিকাদার এই রাস্তাটি খুঁড়ে রেখেছেন। আমরা তার সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার আলোচনা করেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে কয়েকবার কাজ শুরুর ওয়াদাও করেছেন, কিন্তু কথা রাখেননি। আমি চাঁদপুর জেলা এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. তাহসিনুল হোসেন মুকুল বলেন, ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিবার লিখিত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা এবং ব্যাংকের সিকিউরিটি জব্দ রাখার জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে জরিমানা আদায় করে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, সংস্কার কাজটি ২০২৪-২৫ সালে ‘জেবু মেইনটেন্যান্স’ থেকে করা হয়েছিল এবং ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। আইভি কনস্ট্রাকশন নামক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ কাজটি ফেলে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে দপ্তরে আগেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৩ দিন আগে
বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ঝড় উঠলেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছোটেন শৌচাগারে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর বাতাসের তীব্রতা বাড়লেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৮৬ নম্বর তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। প্রাণ বাঁচাতে জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবন ছেড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন বিদ্যালয়ের শৌচাগার—ওয়াস ব্লকে।
শনিবার (২ মে) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আবারও দেখা যায় এই চরম আতঙ্কের দৃশ্য। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ভয়ে পাঠদান বন্ধ করে দিয়ে খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ভবনটির দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত, আর কাঠামোগত দুর্বলতা এতটাই প্রকট যে ভবনটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সামান্য দুর্যোগেই সবাই ক্লাস বন্ধ করে ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার ঝড়ের পর বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, ‘আজ দুপুরে ঝড় শুরু হতেই আমরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত ওয়াস ব্লকে সরিয়ে নেই। ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানে বসে ক্লাস নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈনুল হক বিদ্যালয়টির এই করুণ দশা দেখে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী এলজিইডি’র প্রকৌশলী ‘ইস্টিমেট’ বা খরচের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইউএনও বদলি হওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম সেই বরাদ্দটি বাতিল করে দেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক ওয়ালিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, ‘আগের ইউএনও স্যার বরাদ্দের পর কাজের ইস্টিমেটও হয়েছিল। কিন্তু তিনি বদলি হতেই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বরাদ্দ বাতিল করে দেন। আমরা পরবর্তীতে ঘর নির্মাণের জন্য তার কাছে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই সময়ে ঘরটি নির্মাণ হলে আজ আমাদের এই চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হতো না।’
জরুরি এই বরাদ্দ বাতিলের খবরে অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, শিশুদের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দ বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক্ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কেন টিনশেড ঘর নির্মাণের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।’
বর্তমানে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী দ্রুত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আগামী দিনে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কোনো শিশুকে ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে না হয়।
৪ দিন আগে
চিকিৎসক সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে হরিণাকুন্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু বর্তমানে এই হাসপাতালটি নানাবিধ সংকটে নিজেই ধুঁকছে। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি আর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতিতে এখানে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার বদলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য কেবলই এক দীর্ঘশ্বাসের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, ২০০৫ সালে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আধুনিক চিকিৎসার নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা এখানে মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। ফলে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে দৌড়াতে হচ্ছে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন থাকলেও নানা অজুহাতে সেটি প্রায়ই বন্ধ রাখা হয়। প্যাথলজি পরীক্ষার অবস্থাও তথৈবচ। গরিব রোগীরা তাই দূর-দূরান্ত থেকে এসেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চড়া মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে মায়েদের দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা সাধারণ মানুষ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ডাক্তারের দেখা পাচ্ছেন না বলে জানান।
হরিণাকুন্ডুর দুর্লভপুর গ্রাম থেকে আসা রহিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সকাল থেকে বসে আছি, কিন্তু ডাক্তারের দেখা নেই। আমরা গরিব মানুষ, বারবার শহরে যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। এখানে সেবা না পেলে আমরা কোথায় যাব?’
একই অভিযোগ হরিশপুর গ্রামের সালমা খাতুনেরও। তিনি জানান, ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বাড়তি টাকা খরচ করে ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক চিকিৎসকের পদায়ন এই হাসপাতালে থাকলেও তারা নিয়মিত কর্মস্থলে যান না। ১৬৭ জন অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৯ জন। জনবলের এই বিশাল ঘাটতি আর কর্মরতদের একাংশের ফাঁকিবাজির কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসাসেবা। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ এখান থেকে সেবা নেওয়ার চেষ্টা করলেও অর্ধেকের বেশি মানুষ অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান সোহেল অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, অন্তত তিনজন চিকিৎসক নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন না এবং তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে জনবল সংকট কাটিয়ে শিগগিরই হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কতকাল তারা আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থাকবেন? একটি জনবহুল উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা কি এভাবেই বছরের পর বছর অবহেলা আর অনিয়মের চাদরে ঢাকা থাকবে?
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে হরিণাকুন্ডুর মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে।
৫ দিন আগে
একটি সেতুর অভাবে ভুগছে করতোয়াপাড়ের ২০ গ্রামের মানুষ
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবাইকে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা কিংবা অস্থায়ী ভেলা-সদৃশ ব্যবস্থার ওপর।
বর্ষা মৌসুমে সেখানকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বেড়ে গিয়ে স্রোত তীব্র হওয়ায় পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, কখনো কখনো বন্ধও হয়ে যায়। বিশেষ করে, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সেতুর অভাব এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু এই নদীর ওপরে সেতু হয়নি। একটি সেতুর কারণেই উন্নয়নের মুখ দেখছে না অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দারা। এতে তাদের মনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ঝঞ্ঝায় সেই ছোট খেয়া নৌকাই এখানে ভরসা। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় ফসল ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষিপণ্য উৎপাদনের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুলানন্দপুর গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। একটি ব্রিজ না থাকায় আমাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এ পারের ছেলেমেয়েকে ওপারে বিয়ে পর্যন্ত দেয় না। আমরা এখনও পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষ হয়ে আছি।
কুয়াদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন নৌকাও ঠিকমতো চলতে পারে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে যেতে চাইলে বিপদের শেষ থাকে না।
মাটিয়ালপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়া বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। একটি ব্রিজ হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকটা নিরাপদ হতো।
স্থানীয়রা জানান, শুধু যাতায়াত নয়, একটি সেতুর অভাবে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে না, নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন। কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। আশা করছি, দ্রুতই সেতু হবে।
৬ দিন আগে
তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকিতে, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধান দাবি ভুক্তভোগীদের
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে জীবন-জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই জমি হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা। অনেক বসতবাড়িও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের পর এটি নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধার হরিপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। নদীটির বাংলাদেশ অংশ প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ারডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় ৪০০ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নের একটি অংশে ৫০০ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে ১ হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে ৫০০ মিটার এবং বজরা এলাকায় ৭০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়লেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। শুধু অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দিচ্ছে না।
রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী আমাদের জমি গ্রাস করছে। এখন ঘরবাড়িও ঝুঁকিতে। আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।’
একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘ভাঙনের ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিবারই কাজের আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না।’
কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, ‘আমার চাষের জমি নদীতে চলে গেছে। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের বসতভিটাসহ গৃহ নির্মাণে সহযোগিতা করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে, রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙনরোধে ফেলা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে মানুষ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
৭ দিন আগে
তিন শিক্ষিকায় চলছে কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩১৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের পাঠদানের ভার বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষিকার কাঁধে।
বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। তবে শিক্ষক সংকটে বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টি কাগজে-কলমে বন্দর উপজেলার অধীনে থাকলেও বাস্তবে এটি সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক দুলাল মিয়া বদলি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি বিদ্যালয়টিতে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা, তবে কোনো সময়ই ৫ জনের বেশি শিক্ষক ছিল না বিদ্যালয়টিতে। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন এবং আরেকজনের বদলির আদেশ রয়েছে। ফলে কার্যত ৩ জন শিক্ষিকা দিয়েই চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি বন্দর উপজেলা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় যাতায়াত খরচ বেশি এবং দূরত্বের কারণে শিক্ষকরা এখানে থাকতে আগ্রহী হন না। ফলে নিয়োগ পেলেও অনেক শিক্ষক কিছুদিন পর বদলি হয়ে চলে যান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ আক্তার বলেন, আমরা সীমিত জনবল নিয়েও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আরও শিক্ষক থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। আমরা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট সম্পর্কে আমরা অবগত। শিগগিরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আর তখনি আমরা ওই বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো পূরণ করতে পারব।
৮ দিন আগে