নাজমুল হোসেন শান্তর শৈল্পিক নবম টেস্ট সেঞ্চুরিতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩০১ রান। মূলত শান্তর অনবদ্য শতক আর মুমিনুল হকের লড়াকু ব্যাটিংয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের মজবুত ভিত পেয়েছে টাইগাররা।
মিরপুরের গুমোট আবহাওয়ায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল। এই জুটির ব্যাট থেকে আসে ১৭০ রানের এক বিশাল সংগ্রহ, যা পাকিস্তানের শক্তিশালী পেস আক্রমণকে রীতিমতো দিশেহারা করে দেয়। মোহাম্মদ আব্বাসের একটি হাফ-ভলিকে কভার দিয়ে সীমানা ছাড়া করে ক্যারিয়ারের নবম ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন অধিনায়ক শান্ত।
১৩০ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ২টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ১০১ রান করে যখন শান্ত সাজঘরে ফেরেন, চা-বিরতির ঠিক আগের সেই মুহূর্তটি ছিল পাকিস্তানের জন্য একমাত্র স্বস্তির। আম্পায়ারের অন-ফিল্ড সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউর আবেদন করে শান্তর মূল্যবান উইকেটটি তুলে নেয় সফরকারীরা।
শান্তর বিদায়ের পর অভিজ্ঞ মুমিনুল ইনিংসের হাল ধরে রেখেছিলেন। তবে আক্ষেপ থেকে গেছে তার সেঞ্চুরি না পাওয়ার। ব্যক্তিগত ৯১ রানে স্পিনার নোমান আলির দ্রুতগতির এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসা ঝকঝকে ইনিংসটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয়।
দিনের শেষভাগে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরেন মুশফিকুর রহিম। বরাবরের মতো ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করেই ৩০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে স্বাগতিকরা। আগামীকাল শনিবার সকালে ৮ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাসকে সঙ্গী করে দ্বিতীয় দিনের লড়াই শুরু করবেন মুশফিক।
মিরপুরের উইকেটে আজ বোলারদের জন্য তেমন কোনো বাড়তি সুবিধা ছিল না। শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও নোমান আলিরা একটি করে উইকেট পেলেও বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটারদের দৃঢ়তার সামনে তাদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে। হাতে এখনও ৬ উইকেট থাকায় এবং থিতু হওয়া মুশফিক ক্রিজে থাকায় দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানকে বড় রানের পাহাড়ে চাপা দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।