দেশের ক্রিকেটের টালমাটাল সময়ে চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের কথা জানাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি। একদিকে বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে, অন্যদিকে কিছু শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবিতে পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আপনারা সাকিবের ফেরা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। আপনাদের অবগত করতে চাই, আমাদের বোর্ডে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।’
বিসিবি পরিচালক অবশ্য সাকিবের ফেরার ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সাকিবের শারীরিক ফিটনেস এবং খেলার জন্য তার সহজলভ্যতা (অ্যাভেইলেবিলিটি) থাকতে হবে। অ্যাক্সেসিবিলিটির ওপর ভিত্তিতে যেখানে খেলা হবে, সেই ভেন্যুতে তার উপস্থিত থাকার সক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) থাকতে হবে। শর্তগুলো পূরণ হলে নির্বাচক কমিটি যেকোনো সিরিজের জন্য তাকে বিবেচনা করতে পারবে।’
সাকিবকে বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেও জাতীয় দলে তার নিয়মিত খেলা নিয়ে সরকার থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনও নির্দেশনা আসেনি। সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা ব্যক্তিগত ও আইনি সমস্যাগুলো সরকার কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, সাকিবের খেলার পথে বাধাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বিসিবি সভাপতি।
আমজাদ হোসেন জানান, ‘আমাদের সভাপতিকে বলা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করতে। সাকিবের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো তার নিজস্ব। সেগুলো সরকার কীভাবে ফেস (মোকাবিলা) করবে, তা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি—এটাই হলো মূল কথা।’
তবে, দেশের ভেতরে তার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এখনও বড় বাধা রয়েছে। সাকিব, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা–১ আসন থেকে নির্বাচিত হন সাকিব। ওই বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তার। সেই ম্যাচ খেলতে দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই।
সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় এবারও বাধা হবে কি না জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তার রাজনৈতিক পরিচয় সরকার দেখবে। সরকার যদি চায়, তিনি অপরাধী হন বা তাকে যদি বিচার করতে হয়, সেটা বিসিবির ইস্যু নয়।’
তবে দেশের বাইরের টুর্নামেন্টগুলোতেও সাকিবের খেলার কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন এ বোর্ড পরিচালক। তার ভাষ্যে, ‘সাকিব আল হাসান অন্যান্য গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতেও অংশ নিতে পারবে, কারণ ওখানে বোর্ড এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেবে প্রয়োজনমতো।’