রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ এবং স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মাঝেই আগামীকাল রবিবার বহুল বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রমবর্ধমান এই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টায় বিসিবি অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল প্রার্থীদের তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। স্টেডিয়ামের গেটের বাইরে নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয় রেখে আসার অনুরোধ করেছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘যখন আপনারা ওই চেয়ারগুলোতে বসবেন, তখন আপনাদের একমাত্র কাজ হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করা।’
তবে নির্বাচনের সততা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনার পটভূমিতে তামিমের এই আহ্বান সামনে এলো।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলে প্রার্থীরা ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চেয়েছেন। উন্মুক্ত আয়োজনে ১৬ প্রার্থী নিজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পরিচয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যত স্বপ্ন ও বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার রোডম্যাপ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
তবে পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে অ্যাড-হক কমিটির ১১ জন সদস্যের মধ্যে তামিম নিজেসহ ৭ জনই এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, অথচ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্যই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তাছাড়া, ক্রীড়া সংস্থায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড় নিয়ে জনমনে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন এই প্রশাসনকে প্রকাশ্যে উপহাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীদের সন্তানদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করায় এটিকে ব্যঙ্গ করে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ নামে ডাকা হচ্ছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় এই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাও অনেকাংশে ভেস্তে গেছে।
ক্যাটাগরি-১-এর ১০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৭ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বহুল আকাঙ্ক্ষিত ঢাকা ক্লাব ক্যাটাগরিতে (ক্যাটাগরি-২) ১২টি আসনের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই ক্যাটাগরিতে পর্দার আড়ালের কারসাজি এবং চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে তীব্র রাজনৈতিক চাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এতসব বিতর্ক এবং সাবেক বোর্ড সদস্যদের আইনি চ্যালেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ার পর নির্বাচন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অবশ্য তামিম দাবি করেছেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং আইনসম্মত রয়েছে। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, এই ভোটের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী বোর্ড গঠিত হবে যা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।