ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমরা আজ আমাদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচন-পূর্ববর্তী অঙ্গীকার পূরণ করবার পথে। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।
তিনি বলেছেন, আমরা যে কাজটি শুরু করলাম এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। ফ্যামিলি কার্ড জিনিসটা আসলে কী? এটা আসলে একটা শক্তি; এটি একটি ক্ষমতা। এই কার্ডটি আপনাকে সেই ক্ষমতা দেবে, যা দিয়ে আপনি সবার সামনে দাঁড়াতে পারবেন। আপনি এটি দিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তা পাবেন, বিষয়টি তা নয়। এ দেশের একজন নারী হিসেবে, পরিবারের প্রধান হিসেবে আপনার অবস্থান দৃঢ় করতে পারবেন। আপনার মাঝে একটি শক্তি আসবে।’
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাহ দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাইলটিং পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রম আজ উদ্বোধন হচ্ছে। বিএনপি কথা দিলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। নির্বাচনের আগে সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিতে চেয়েছে, আজ তার বাস্তাবায়ন শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সামনের দিনে আরও বেশি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
তিনি বলেন, সমাজে পুরুষেরা আমাদের মা-বোনদের হিসেব নেন না। যখন কার্ডটি আসবে, তখন কিন্তু হিসেব করতে শুরু করবেন! এটাই হবে আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য—আমাদের সমস্ত মায়েদের ক্ষমতায়িত করতে চাই, ক্ষমতায়ন করতে চাই, তাদের শক্তি বাড়াতে চাই।
পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এমনিতেই আমাদের মায়েরা সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করে। পরিবারের জন্য, সংসারের জন্য, ছেলেমেয়েদের মানুষ করার জন্য, টিকিয়ে রাখবার জন্য, তাদের ভালো খাওয়ানোর চেষ্টা করা; সেই শক্তিটাকে আরও বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। আপাতত সীমিত আকারে প্রায় ৫-৭ শ’ মানুষের মাঝে এই কার্ডটি শুরু হবে। এটাকে বলছি পাইলট প্রকল্প। সারা দেশে মাত্র ১৪টি ইউনিয়নকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করছি যে এই কাজগুলো কীভাবে করা যাবে। কাজগুলো করতে ভুলত্রুটি হবে; অনেকে হয়তো বাদ পড়তে পারেন, তথ্য ভুল হতে পারে; এই কাজটির মধ্য দিয়ে সেই ভুলগুলো সমাধান করা হবে। তাই আপনারা ধৈর্য হারাবেন না, সকলেই কার্ড পাবেন। এই কার্ডটি প্রতিটি ঘরে ঘরে যাবে, শুধু একটু সময়ের ব্যাপার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু যখন করেছেন, তখন এটা অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে।
সরকার গঠনের খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি অতি দ্রুত কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ২২ দিনের মধ্যেই আমরা কিন্তু কাজ আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি! নির্বাচনের আগের ওয়াদা অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে খাল কাটা শুরু হয়ে গেছে। ১৬ মার্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উনার আব্বা জিয়াউর রহমানের মতো হাতে কোদাল নিয়ে মাটি খুঁড়ে খাল কাটতে শুরু করবেন। সারা বাংলাদেশে অসংখ্য খাল কাটা হবে। এই খালগুলোর মাধ্যমে বর্ষার সময় যে পানিটা হবে, সেটিকে সংরক্ষণ করে খরার দিনে যখন আমাদের পানির দরকার, তখন ওই পানি আমরা ব্যবহার করব। আমাদের উত্তরাঞ্চলে এটি খুব দরকার।
ধৈর্য ধরলে প্রত্যেকেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এটি নিয়ে তারা সার, সেচ, পানি, বীজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ন্যায্যমূল্যে কিনতে পারবেন। আপনাদের ঋণ শোধ করবার ভাষা আমার জানা নেই। আমি যদি কিছু কাজ করি, আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমি এই ঋণটা কিছুটা হলেও শোধ করতে চাই।