মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে মহিলাদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন, যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের টেকসই উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, এমসিবিপি, মিড-ডে মিল, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে মহিলাদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন, যা বর্তমান সরকারের নারী নীতিরই অংশ।
মন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষাকে স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করায় দেশে নারী শিক্ষার হার বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের সন্তানদের নিরাপদে রেখে কাজে যেতে পারেন, সেজন্য দিবাযত্নকেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি দিবাযত্নকেন্দ্র পরিদর্শনও করেছেন।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা অর্জন এবং দুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগসমূহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মত প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আলোচনাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কেয়ার ইকোনোমিকে গুরুত্ব দিয়ে নারীদের কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ করে তুলছে। ইতোমধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরব দেশগুলোতে গমন করেছেন, ফ্রান্সেও যাতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের নারীরা যাতে তাদের হাতে তৈরি পণ্যসমূহ ফ্রান্সে রপ্তানি করতে পারেন, সে ব্যাপারে মন্ত্রী বিশেষ সহায়তা চাইলে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সবশেষে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফেমিনিস্ট ফরেইন পলিসি (এফএফপি) বিষয়ক সম্মেলনে মন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।