স্বামীর মৃত্যুতে মানবিক কারণে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি প্যারোলে মুক্ত থাকবেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তার প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
প্যারোলে কারাগারের বাইরে থাকাকালে তিনি প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে এবং দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আগামী ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই মুক্তি কার্যকর থাকবে।’
অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, দীপু মনির কারাবরণের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এর আগে, তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর এবার প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পেলেন তিনি।
তিনি জানান, আগামীকাল সকাল ৬টায় কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় দীপু মনিকে নিয়ে যাওয়া হবে। প্যারোলের পুরো সময় তিনি পুলিশ পাহারায় থাকবেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়াত ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ আগামীকাল সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে। সেখানে ডা. দীপু মনি স্বামীর মরদেহ দেখবেন। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
প্যারোলে মুক্তির আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে আইনজীবী ফয়সাল হোসেন বলেন, কারা আইন ও সংশ্লিষ্ট কারাবিধিতে দিনের আলোতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী তিনি ১২ ঘণ্টার প্যারোল পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবেই এই প্যারোল পেয়েছি। সরকার চাইলে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারত।’