ইরান কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের পক্ষে নয়, তবে আক্রান্ত হলে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইরানে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও পরবর্তীতে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাষ্ট্রদূত জালিল। এ সময় তিনি দেশটিতে চলমান সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া ব্যবসায়ীদের আন্দোলন প্রথমদিকে স্বাগত জানালেও পরবর্তীতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমন করতে ইরানের সরকার বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল দাবি করেন তিনি।
তার কথায়, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপে আছে। বৈদেশিক মূদ্রার বিপরীতে ইরানের মুদ্রার মান নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে আমদানিকারকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন যা ইরানের বিদ্যমান আইনে বৈধ। কিন্তু সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটি পক্ষ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, পুলিশ স্টেশনসহ আন্দোলনে যোগ দিতে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনীগুলো অ্যাকশনে যায়।
‘এরপর সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের ভেতর ঢুকে যায় এবং তাদের হাতে শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর কিছু সদস্যকে গলা কেটে হত্যাও করা হয়। হাসপাতালে হামলা করে নার্স হত্যা, একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়।’
তিনি বলেন, ‘নজরদারি ডিভাইসের মাধ্যমে কথোপথন শুনে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দিসহ বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চত হয় যে, এটি কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং তা সরাসরি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা নির্দেশিত সরকার পতনের সহিংস পরিকল্পনা।’
ইরানের পরিস্থিতিনি বর্তমানে শান্ত আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ইন্টারনেট সেবাও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।