ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ (দখলে) নেব, হয়তো নেব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।’ তিনি আরও বলেন, দ্বীপটি দখল করলে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।
এদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে পারস্য উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সোমবারও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘সম্মানের নিদর্শন হিসেবে’ সোমবার সকাল থেকে কয়েক দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি, কিন্তু ইরানকে নিয়ে কখনোই নিশ্চিত হওয়া যায় না।’
চলমান সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সার সংকট বেড়েছে এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
সোমবার দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর দিনের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
এদিকে, ইরানের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজার্দি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেন বিধিনিষেধ মেনে চলব? আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা নিয়ম মানব আর তারা আমাদের বোমা মারবে।’
উল্লেখ্য, এনপিটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার অঙ্গীকার করে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তাদের কর্মসূচি যাচাইয়ের সুযোগ দেয়।
তবে ইরান গত কয়েক বছর ধরে আইএইএর পরিদর্শন সীমিত করে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার শিকার হওয়া তিনটি পরমাণু সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সংস্থাটিকে প্রবেশ করতে দেয়নি।