জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আজ বুধবার বিকেলে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ফেরিটির এক ক্রু সদস্য জানান, মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় এতে মোট ১৫৩ জন মানুষ ছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে একটি বিশেষায়িত পানির নিচে অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিইউ।
আজ সকালে সিপিইউ জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেলে জিম্বাবুয়ের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পোস্টে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে। প্রথম পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন জানানো হয়। পরে আরেক পোস্টে জানানো হয়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া উভয় দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।