বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে বিখ্যাত কোরিয়ান কে-পপ সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক সংগীত মোগল ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ উর্পাজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাং সি-হিউক স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি হাইবের (HYBE) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। গত বছরের নভেম্বর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি।
ব্যাং হিউকের আইনজীবী দলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব না দিয়ে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সব আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চালিয়ে যাব এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
কোরিয়ান এই সংঙ্গীত মোগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন আপাতত তার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর ফলে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা তার কথায় প্ররোচিত হয়ে হাইবের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগেই তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, ওই ফান্ড মূলত একটি গোপন চুক্তির যেখানে আইপিও-পরবর্তী শেয়ার বিক্রির লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩৬ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে হাইব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক পপ সংগীত শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিটিএস ছাড়াও তিনি সেভেনটিন, লে সেরাফিম এবং কাটসেয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে সিউলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের একটি ক্যামব্যাক কনসার্টে বিটিএস হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্তের সামনে পারফর্ম করে। এছাড়া তারা দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহর এবং টোকিওতেও একাধিক কনসার্ট করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় একটি কনসার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইভেন্ট সিরিজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতায় হাইবে একটি বড় জনসংযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।