রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশটির তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে এই হামলা চালানো হয়।
তাতারস্তানের প্রেস সার্ভিসের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ জানিয়েছেন, নিঝনেকামস্ক শহরে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এতে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তেল পরিশোধনের সক্ষমতা কমেছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এসব হামলা নিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার নিঝনেকামস্ক শহরটি ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার। এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেখানে দুটি তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা রয়েছে।
ইউক্রেনের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রমেই আরও গভীরে প্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে এসব ড্রোনের কয়েকটি সাইবেরিয়াতেও পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়া সীমান্ত থেকে সাইবেরিয়া প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় সময় রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে ন্যায্য জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এখন থেকে তাদের দেশের জনগণও বেশি করে অনুভব করবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখনও চলার একমাত্র কারণ হলো রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার ইচ্ছা নেই।’
অন্যদিকে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এদিকে, সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুদামে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দুইবার হামলা করেছে রাশিয়া।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ হামলায় প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। এসব সামগ্রী যুদ্ধের সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।