এনসিপির নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব বলেছেন, ‘আমরা ১৭ বছর হত্যা, গুম ও জুলুমের নির্যাতন দেখিছি। আমরা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের স্বীকার হয়েছি। বর্তমানে গেল ১৭ মাসেও একটি দল ক্ষমতায় না থাকা সত্ত্বেও এসব অভিজ্ঞতা আমাদের দিয়েছে।’
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এনসিপির ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা গাড়িবহর কুমিল্লার দেবিদ্বারে পৌঁছালে সেখানে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ১৭ বছরের নিপীড়ন দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছরের নিপীড়নের পর গত ১৭ মাসে আবার আরেক ধরণের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৭ বছরে আমরা দেখেছি গুম, খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, যত ধরণের অন্যায়, অনাচার আছে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের পক্ষ থেকে সেগুলো আমরা পেয়েছি। কিন্তু গত ১৭ মাসে ক্ষমতায় না থাকা স্বত্ত্বেও একটি দল ঠিক একই রকমের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণকে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলিগলি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব। আমরা মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ম্যান্ডেট চাওয়া নেতৃত্ব। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। আমরা তাদের মতো বিভিন্ন আজগুবি বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাই না। আমরা মাটি থেকে উঠে এসেছি। আমরা জানি মাটি ও মানুষের কী কী সমস্যা আছে এবং তার কী কী বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।’
এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অলিগলি, রাস্তাঘাট একটু হেঁটে দেখুন। বাংলাদেশকে আগে চিনুন, তারপর আমরা ভরসা করতে পারব যে, আপনি আমাদের জন্য কিছু করতে পারবেন কি না।
এনসিপির এই নির্বাচনি সমন্বয়ক বলেন, মুরাদনগর আমার জন্মস্থান। আমি বাংলাদেশের যেখানেই থাকি সব সময় আপনাদের কথা আমার হৃদয়ে থাকে। গত বছর দায়িত্বে ছিলাম, উন্নয়নবঞ্চিত বৈষম্যের স্বীকার মুরাদনগরের জন্য কাজ করে গেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম, এক দলের জনপ্রতিনিধি ছিল এবং সামনেও হতে চায়, তারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নালিশ দিয়েছিল—কেন এত বাজেট দেওয়া হয়। যারা আপনাদের উন্নয়ন চায় না, তাদের কি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন?
তিনি আরও বলেন, যারা প্রবীণ আছেন আপনারা তো আরও ভালো বলতে পারবেন। মুরাদনগরে একটা বাহিনী ছিল দাদা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যদের নাম ছিল টার্মিনাল অমুক, পিস্তল তমুক। মুরাদনগরে আর কোন অমুক তমুকের জায়গা হবে না। আপনাদের শুধু নিশ্চিত করতে হবে মুরাদনগরের জনগণ যেন ভয়ডরহীনভাবে ভোট দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ও যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।