বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে এ দেশকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ায় আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রায় ১২টার দিকে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন আসল, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারা পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এ তো মজলুম একটা সংগঠন—নেতৃবৃন্দকে খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোরা হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুঁশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। এরপরে আর হুঁশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে।’
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সমস্যার দিকে দৃষ্টি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে আপনাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম উপর থেকে দেখছিলাম— পদ্মা গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে তখন উপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল উপচে উপচে পড়ে, দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বশান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আল্লাহর এই নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বৎসর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভিতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না, খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছেন এই একই কাজ তারা করেছেন।’