বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার মূল আসামি রিপন শরীফের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে টানা দশম দিনের মতো ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাবেশে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন ইকোনোমিক অ্যান্ড সোসিওলজি সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. বদিউজ্জামান, প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান, কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলাম টিটো, ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন ও নেছার আহম্মেদসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহার আগেই ভিসির অপসারণ না হলে তারা ক্লাস বর্জনসহ একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমান ভিসি কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত ১১ মে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার ঘটনায় ভিসিকে দায়ী করে তার পদত্যাগ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মুকিত মিয়া বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা স্থানীয় দুমকি উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ-সমাবেশ, ক্লাস বর্জন এবং ভিসি ও রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।