জেলা প্রশাসন
ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফেনীর জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মাগরিবের নামাজের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া ও অকারণে ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোর অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকেই এ বিষয়ে জেলাজুড়ে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক মাইকিং শুরু হয়েছে।
নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তদারকি দলের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীও মাঠে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। এদের একটি বড় অংশ পরবর্তীতে মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থীরা বাইরে বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিষয়টি এমনও নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরাকে নিরুৎসাহিত করা।’
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ফেনী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব ফেনী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আইন মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আড্ডা নয়, বরং শিক্ষাকেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগ সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সর্বস্তরের নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে শাহজালালের মাজারের ডেগ ও দানবাক্স
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স আপাতত জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। মাজারে জমা হওয়া দানের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে এ টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
সাঈদা পারভীন বলেন, দানবাক্স জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যদি সেগুলো ভর্তি হয়ে যায়, তাহলে আবার খুলে গণনা করা হবে। এ ছাড়াও দানবাক্সের পাহারায় আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারে স্থাপন করা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। গণনার সময় দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি ৭ আনা সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম চলে। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময়ে মাজারে থাকা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
২৮ দিন আগে
জেলা প্রশাসনের সমঝোতায় ১২ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল স্বাভাবিক
দিনভর আলোচনার পর জেলা প্রশাসনের সমঝোতার ভিত্তিতে শ্রমিক ফেডারেশনের ঘোষিত রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটি স্থগিত করায় প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) এই নবগঠিত কমিটির ওপর অনাস্থা জানিয়ে দিনভর সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে শ্রমিক নেতা ও বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, রাতে জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় শ্রমিক ফেডারেশন নবগঠিত ২১ সদস্যের কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ঈদের পর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরই শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরপরই রাত ৯টা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তবে রাতে অন্যান্য রুটে বাস চলাচল সীমিত থাকলেও আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে সব রুটে স্বাভাবিকভাবে বাস চলছে বলে জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন।
রবিবার (১৭ মে) কেন্দ্র থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি ও মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একটি অংশ। এর প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) সকাল থেকেই সব রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সকালে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘এই কমিটির অধীনে আমরা বাস পরিচালনা করতে চাই না। এজন্য সকাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।’
অন্যদিকে, নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কেন্দ্রীয় ফেডারেশন কমিটি ঘোষণা করেছে। কিছু শ্রমিক কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে দ্রুতই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
৬৩ দিন আগে
কুমিল্লায় উচ্ছেদ অভিযান, কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার
কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বাঙ্গরা থানা বাজার এলাকার রাজাবাড়ী গ্রামে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান।
এ সময় গাজীরহাট-শ্রীকাইল সড়কের পাশে দীর্ঘ দিন যাবৎ অবৈধভাবে দখল করে রাখা ২৫ শতক সরকারি হালট দখলমুক্ত করা হয়।
সাকিব হাসান খান জানান, আকুবপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম আবন এবং ওসমান মিয়ার ছেলে আবুল বাশারসহ ৭টি পরিবার অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি ভূমি দখল করে রেখেছিল।
এ বিষয়ে ওই গ্রামের নূরুল হক ভূঁইয়ার ছেলে ইয়ার হোসেন এবং আবদুল হক দারোগার ছেলে শাহাদাৎ হোসেন রুমি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টি কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নজরে আনেন।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মুরাদনগর উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়।
উদ্ধার করা জমির বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে মুরাদনগর উপজেলা সার্ভেয়ার মো. শরীফুল ইসলাম, আকুবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা সোহাগ এবং বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের সদস্য ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি: ২ জনের কারাদণ্ড
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসকের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন তাদের আটক করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আসাদ আলী (২৫) এবং দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নুর আলম (৩৫)।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নুর আলম অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অপরদিকে আসাদ আলীকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আটক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশাদুল হক। তিনি বলেন, নুর আলমকে ১৫ দিনের এবং আসাদ আলীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন রাজস্ব প্রশাসনের অফিস সহায়ক পদের এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সাড়ে চার হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের প্রশ্নপত্র ছিল।
২০৭ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়িতে স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনগণের জান ও মালের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪ ধারা জারির আদেশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় এই আদেশ জারি করা হয়। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
১৪৪ ধারা জারির ফলে খাগড়াছড়ি সদর ও পৌর এলাকায় চার বা ততোধিক মানুষের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ, মাইকিং ও অস্ত্র বহনসহ যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একমাত্র বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ রক্ষায় সাঁওতালদের বিক্ষোভ সমাবেশ
২৯৭ দিন আগে
সাদাপাথর লুট, প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি
সিলেটে সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।
তবে, প্রতিবেদনে কি কি বিষয় উঠে এসেছে, তা জানাননি জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই জেলা প্র্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদ। বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ছাড়েন তিনি। এরপর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) নতুন জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর লুট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ১২ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেট জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ। এই কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহ। অপর দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম।
পড়ুন: পাথর কাণ্ডে ওএসডি হওয়া ডিসি মাহবুব মুরাদ সিলেট ছেড়েছেন
এ কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষত কমিটিতে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সাদাপাথর লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও লুটপাটকারীদের ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে এই ইউএনওর বিরুদ্ধে।
সমালোচনার মুখে সোমবার (১৮ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়।
এর আগে, সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় ১৫শ’ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।
৩৩৫ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে উদ্বোধন হলো ‘কৃষকের বাজার’
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ‘কৃষকের বাজার’ নামে একটি বাজার বসতে শুরু করেছে। এই বাজারে কোনো প্রকার ট্যাক্স ছাড়াই যে কেউ তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবেন।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে এই বাজার। শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে এ বাজার বসবে।
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী সরাসরি পৌঁছে দিতে কালিবাড়ি বাজার সংলগ্ন ঠাকুরগাঁও পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এই কৃষকের বাজার শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে দেশে উৎপাদন বাড়াতে হবে: ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক
কৃষকের বাজারে ‘মানবতার সওদাপাতি’ নামে একটি কাউন্টার রয়েছে।
বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা তাদের কেনা/মজুদ পণ্যসামগ্রী থেকে ইচ্ছা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু পণ্য এই কাউন্টারে দান করতে পারবেন। এই বাজারে দুস্থ বা দরিদ্রদের বিনামূল্যে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
শুক্রবার কৃষকের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কম দামে কেনা বেচা চলছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি। কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ১০৫ টাকা, ফুলকপি, মূলা, করলা, লাউ, পটল, বিভিন্ন প্রকার শাক বিক্রি হচ্ছে কালিবাড়ি বাজার থেকে কিছুটা কম দামে।
আরও পড়ুন: পলিথিন ব্যাগমুক্ত বাজারকে পুরস্কার দেওয়া হবে: উপদেষ্টা
৬১৩ দিন আগে
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল জেলা প্রশাসন
পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত আরও তিনদিন পযর্টকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জোবাইদা আক্তারের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, রাঙ্গামাটি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমনে পযর্টকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণ না করার এ সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমনে পযর্টকদের নিরুৎসাহিত করা হয়।
আরও পড়ুন: সাজেক থেকে ফেরার পথে চালকসহ তিন পর্যটককে অপহরণের চেষ্টা
সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটির সাজেকে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে অনেক বেগ পেতে হয়। এখনও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই দফা সময়সীমা বাড়িয়ে পর্যটকদের সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন এলাকায় বেড়াতে গিয়ে অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়ে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক ও ৫০০ ড্রাইভার-কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালির সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় ও পাহাড়ি ছাত্র-জনতার ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের কারণে পর্যটক ও ড্রাইভারর-স্টাফরা এই সমস্যায় পড়েন। এ জন্য রিসোর্ট কটেজ মালিকদের পক্ষ থেকে তাদের থাকার জন্যে দেওয়া হয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। এছাড়াও তিন দিনের অবরোধের কারণে পর্যটন এলাকায় দেখা দেয়, খাবার পানি, গ্যাস ও খাদ্য সংকট। তাই সাম্প্রদায়িক সংকটের সময়ে সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিবেচনা করে পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়িতে ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৪০০ পর্যটক
৬৬১ দিন আগে
বান্দরবানে বেনজীরের ২৫ একর সম্পত্তি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বান্দরবান জেলায় থাকা ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ২৫ একর সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের একটি দল সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।
একই সঙ্গে বেনজীরের বাগানবাড়িতেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বেনজীর-মতিউরের সম্পদের বিবরণী চেয়ে দুদকের নোটিশ
জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশনার পর বেনজির আহমেদের সম্পত্তিগুলো তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে এবং এসব সম্পত্তি থেকে যা আয় হবে তা সরকারের কোষাগারে জমা হবে।
উল্লেখ্য, দুদক সারাদেশে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের সম্পত্তির পরিমাণ খুঁজে বের করার পর বান্দরবানেও বিপুল পরিমাণে সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও স্থানীয় সূত্র জানায়, বান্দরবানের সুয়ালকে ৫০ একর ও লামা উপজেলাতে প্রায় ১০০ একর সম্পত্তি রয়েছে।
এর আগে ওই অঞ্চলের প্রায় কোটি টাকার গাছ কেটে ফেলা হয়। এছাড়াও গত কোরবানির ঈদের আগে ৩৬টি গরু সরিয়ে ফেলা হয়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দুদক সুয়ালকে ২৫ একর সম্পত্তির নথি খুঁজে পায়। এসব সম্পত্তি তত্ত্বাবধানে নিয়েছে বান্দরবানের জেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুন: আজিজ-বেনজীরের মতো অনেক দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দিয়েছে আ. লীগ সরকার: ফারুক
৭৪৭ দিন আগে