হামলা
সিলেটে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা, এসআই আহত
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বাবনা পয়েন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল। এসময় অতর্কিতভাবে সংঘবদ্ধ একদল যুবক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং দায়িত্বরত একজন এসআইকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় পুলিশ আরও জানায়, এর আগে বুধবার রাতে একটি পিকআপ ভ্যান অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে সুবিদবাজারের দিকে আসছিল। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সন্তোষ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সার্জেন্ট সন্তোষ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে পিকআপটির পিছু নেন। পিকআপটি সুবিদবাজার, লালাবাজার, জিতু মিয়া পয়েন্ট এবং সেলফি ব্রিজ হয়ে অত্যন্ত বিপদজনকভাবে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবনা পয়েন্টে গিয়ে পিকআপটি একটি সিএনজিকে ধাক্কা দিলে স্থানীয় চালকরা গাড়িটিকে থামিয়ে ফেলে। পিকআপটি থামানোর পর স্থানীয়রা ও সিএনজি চালকরা ওই পিকআপ চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় সার্জেন্ট সন্তোষ সেখানে পৌঁছে পিকআপ চালক ‘ছিনতাইকারী হতে পারে’ এমন সন্দেহ প্রকাশ করলে উপস্থিত জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চালক মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। সে সময় আহত পিকআপ ভ্যানচালক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পুলিশ যখন তাকে উদ্ধার করতে যায়, তখন সে হঠাৎ শোয়া থেকে উঠে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে (এসআই) সজোরে ঘুষি মারেন। এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন।
হামলাকারী চালককে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালক অসুস্থ থাকায় পুলিশ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, তবে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হঠাৎ করে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে থানা ঘেরাও করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে বাকেরগঞ্জ থানার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানার সামনে সমাবেশ করে থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশের নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রোকনুজ্জামান ডাকুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান জাহাঙ্গীর।
সমাবেশে বক্তারা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পরবর্তীতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির হামলায় সেই জামায়াতকর্মীর পর তার ছোট ভাইয়ের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। একই সংঘর্ষে ১০ দিন আগে তার বড় ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুরের মৃত্যু হয়। জীবননগর পৌর জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং তার বড় ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। অপরদিকে গুরুতর আহত মফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় টানা ১০ দিন লড়াই করে আজ দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, জামায়াতকর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮/৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মামলা পর জীবননগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথ অভিযানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, তার বাবা বিএনপি কর্মী জসিম উদ্দিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার বড় ভাইয়ের হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫, আটক ৩
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝগড়ার জেরে প্রতিবেশীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মিনু বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রবিবার (৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ লাইসেন্স করা অস্ত্রসহ হারুন খা, আব্দুল মান্নান খা ও মহসিন খাকে আটক করেছে। মান্নান খার ঘর থেকে একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মান্নান খা ও তার চাচা হারুন খা গ্রুপের সঙ্গে প্রতিবেশি মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ওই এলাকার কাদিরের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মিজানুর রহমানকে মান্নান খার লোকজন মারধর করেন৷ পরে বাড়িতে গিয়ে মিজান পরিবারকে জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে, তারাবির নামাজের পর মান্নান খা, হারুন খা, আমিন খাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়৷
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— মিজানুর রহমান, মিনু বেগম, জয়তন বেগম, কাজল বেগম, ইভা, বন্যা, নুপুর বেগম, আয়ান, ফাহিমা, দোলন, আলামিন, খোরশেখ খা, মোস্তাকিম, ইদ্রিস খাঁ ও সাফি বেগম।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত মিনু বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসক। এছাড়া আহত মিজানের অবস্থাও গুরুতর।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, মূল অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷
৬ দিন আগে
ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আরব রাষ্ট্রগুলোর
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে এসে পড়েছে। সার্বভৌমত্ব ও অবকাঠামোয় আঘাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশগুলো। এখনও সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। এসব হামলায় আরব ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশগুলোর বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
এর ফলে নিরাপদ পর্যটন ও আর্থিককেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি দেশগুলোর তেল ও গ্যাস শিল্পেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আরব দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তা ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল। তবে ইরানের এই হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ‘সব সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলা হচ্ছে। আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোতেও হামলা হচ্ছে। এসব হামলার প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রতিশোধে প্রশ্নে আমাদের নেতৃত্বে সব বিকল্পই খোলা আছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে আমরা কোনোভাবেই চুপ করে বসে থাকব না।’
আরব অঞ্চলজুড়ে বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ড্রোনগুলো সহজেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের রণকৌশল। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে চায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলে যে পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তার প্রায় সমপরিমাণ ছুড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দেশটি ইরানের হামলার বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চাইলে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলাফলও বয়ে আনতে পারে। কারণ ইরানের এ ধরনের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে, এমনকি যেকোনো পর্যায়ে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশও নিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো একপর্যায়ে তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
যদিও এখনও সে অবস্থায় পৌঁছায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। আপাতত তারা প্রতিরক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অবশ্য যুদ্ধ কত দিন চলবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক—এমনটিও চায় না তাদের অনেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসন এবং লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যাচেষ্টা করতে গিয়ে কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আরব দেশগুলো। ওই ঘটনার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তারা।
তবে ইরানের হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে ঐক্য জোরদার হচ্ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) জরুরি বৈঠকে বসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। বৈঠকে তারা সংহতি প্রকাশ করে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করে। তাদের ওই আলোচনায় আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ আপনাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। নিজেদের আশপাশে হামলা বন্ধ করুন। বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনার পরিধি আরও বাড়ার আগেই বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণ করুন।’
১১ দিন আগে
মাদক কেনার টাকা না পেয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বরিশালের মুলাদীতে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। হামলার সময় বাবাকে বাঁচাতে গেলে হাবিবুল্লাহর মেয়েকেও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়।
মৃত হাবিবুল্লাহ উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত আব্দুস ছত্তার ভূঁইয়ার ছেলে। অভিযুক্ত শাতিল শরীফ একই গ্রামের শাহিন শরীফের ছেলে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে হাবিবুল্লাহর নিজ বাড়িতে শাতিল শরীফ মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে কলেজছাত্রী ফাতিহাকে পিটিয়ে আহত করেন।
হাবিবুল্লাহর মেয়ে ফাতিহা জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে একই এলাকার শাতিল তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় তার বাবা হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ছিলেন না। শাতিল বারান্দার সামনে দাঁড়িয়েই ফাতিহার কাছে ভাত খেতে চান। ওই সময় ফাতিহা তাকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত দিলে তিনি বারান্দায় বসে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ফিরে শাতিলকে বারান্দায় বসে ভাত খেতে দেখলে তাকে ঘরের মধ্যে টেবিলে বসে খাওয়ার অনুরোধ করেন।
শাতিল ঘরের মধ্যে ঢুকেই গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে না জানিয়ে ডিম ভাজি দিতে বলেন। ফাতিহা ডিম ভাজি করতে গেলে শাতিল মাদক কেনার জন্য হাবিবুল্লাহর কাছে টাকা চান। হাবিবুল্লাহ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাবিবুল্লাহকে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
বাবার চিৎকারে ফাতিহা তাকে রক্ষা করতে গেলে শাতিল তাকেও পিটিয়ে আহত করে চলে যান। পরে স্থানীয়রা হাবিবুল্লাহ ও ফাতিহাকে উদ্ধার করে ওই দিনই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে হাবিবুল্লাহার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে আজ (সোমবার) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিন হোসেন বলেন, গত শুক্রবার সকালে মাদকসেবীর হামলায় হাবিবুল্লাহ ও তার মেয়ে আহত হয়েছিলেন। সোমবার ভোররাতে হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ফাহিতা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
১৩ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
১৩ দিন আগে
দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে এই হামলা চালানো হয়।
ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত। অতীতেও আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় কোনো ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে দেশজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
জেনেভায় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, মিনাবের ওই স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং এটি আইআরজিসি ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধোঁয়া উঠছে এবং চারপাশে আতঙ্কিত মানুষ জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে ‘বর্বরোচিত কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করার অভিযোগ তুলেছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি কমাতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বিদেশি শক্তিকে দোষারোপ করেছেন; আবার কেউ বিমান হামলার সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাবের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন।
এ হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৩ দিন আগে
ট্রাম্পের ইরান হামলার নেপথ্যে
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যে, তারা একসঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতা এবং আলেমদের লক্ষ্য করতে পারবে।
দুইজন পরিচিত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল। এরই মধ্যে তারা দেখতে পায়, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কমান্ডারদের একত্রিত অবস্থায় হামলা চালানোর একটি সুযোগের জানালা খোলা রয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) খামেনির প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তাদের ধারণা ছিল যে, খামেনির মৃত্যুর পর কেউ তার উত্তরসূরীর প্রতি একইভাবে অনুগত থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, তেহরানের একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় খামেনি এবং ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ওইদিন এক ভিডিওবার্তায় কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে—এমন এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তবে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটি হামলার সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওমান দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করছিল। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভালো নয়।
হামলাগুলো ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরাড কুশনার জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন যে ইরান আলোচনায় বিলম্ব করছে কি না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলা আলোচনায় উইটকফ এবং কুশনার ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরডো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ ধ্বংস করতে চাপ দেন। এ কেন্দ্রগুলো গত বছর ট্রাম্পের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়াও অবশিষ্ট মজুদ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
তারা বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে স্থায়ী। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় করা চুক্তির মতো কোনো ‘সানসেট প্রোভিশন’ (যে ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর বিধিনিষেধ উঠে যায়) রাখা যাবে না। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু দিনশেষে উইটকফ এবং কুশনার হতাশ হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পকে তার সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
কুপার এই হামলার সাফল্যের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
হামলার পেছনের যুক্তি
শনিবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অনেক কারণ বিবেচনা করে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে বা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’—ইরানের এমন দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চিরস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান তাদের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে যা গত বছর ট্রাম্পের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ধ্বংস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, ইরান আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তি চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সত্যি বলতে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে পারি না, যেখানে এই লোকগুলোর কাছে কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নেই, বরং প্রতি মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকব না এবং আমাদের আগে তারা আমাদের আঘাত করুক, সেটি হতে দেব না।
১৪ দিন আগে