তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সম্ভাব্য দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ও একটি প্রটোকল।
তিনি আরও বলেন, সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া সফরে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকবে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, আমরা প্রতিনিধিদলের আকার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, আগামীকাল (রবিবার) থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখান থেকে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফর করবেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
তিনি আরও জানান, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭ তম বার্ষিক ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলন ‘সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬’-এ অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানিয়েছে, চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের বন্দরনগরী দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানান, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী এ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা, ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। এতে চীনের অর্থনীতির পরবর্তী ধাপের গতিপথ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে কীভাবে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ. কে. এম. শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না—এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ভরসা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর। তাই একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিরাপত্তা বেষ্টনী যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা, কৌশল বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রশাসন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় বিধিমালা অনুযায়ী এসএসএফ সরকারপ্রধানকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং ট্রাফিক চলাচল আরও সুগম করতে তিনি তার মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) আকার ছোট করেছেন, যার ফলে এসএসএফ-কে জনবল বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি প্রায়শই ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিই। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।’
তিনি বলেন, এসএসএফ-কে সরকারপ্রধানের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি তারা কতটুকু কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে, তার মাধ্যমেই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
তারেক রহমান এসএসএফ-এর জন্য একটি নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জেরও উদ্বোধন করেন এবং একটি প্রদর্শনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুবিধা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে এবং সদস্যদের তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এই হালনাগাদ করা নির্দেশিকাটি কেবল পরিচালনগত দিকনির্দেশনাই প্রদান করে না, বরং বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইনি কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নির্দেশিকায় উল্লিখিত নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং একইসঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।
তিনি পেশাদারিত্ব, সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব সহকারে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি এসএসএফ বাহিনীকে আশ্বাস দেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এর পেশাদার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়।’
তারেক রহমান এই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং অতি সম্প্রতি যখন তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি এসএসএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর, কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আবারও এসএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসএসএফ-এর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
১ দিন আগে
অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই ব্যবহার করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে এবং যারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আজ থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে কেউ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে কাজ করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের এ উদ্যোগে জনগণ সরকারের পাশে থাকবে কি না। জবাবে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক একটাই—দেশের জন্য কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি স্লোগান দেন। তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১০টি পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ—বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, এ দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চান প্রায়ই জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে?’
তিনি বলেন,‘আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, এই যে চা শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হলো, চা শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য ১০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হলো, মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলো—এগুলো কোনো সময়ে আপনারা শুনেছেন, কখনো দেখেছেন? আগের সরকার কোনো দিন দিয়েছে কি? দেয়নি। এগুলো কার অর্থ? জনগণের অর্থ। ’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখেছি কিভাবে ১৭ বছরে এদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে গেছে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বলে কোথা থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোথা থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা—তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়েই জনগণের জন্য কাজ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই টাকার অভাব হবে না।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেই বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলে। জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলতে পারে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়—সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক—তাদের ব্যাপারে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এই লোকেরা, এই দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাফ কথা, যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেউ নষ্ট করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়, স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় একসঙ্গে ছিল। মুখে বলত তারা একসঙ্গে নয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবসময় একসঙ্গেই কাজ করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক সময় বিএনপি জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। বিএনপি সবসময় বলে, জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের সময় অনেককে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদের রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক।’
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম।
২ দিন আগে
রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতিদ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
আন্তঃনগর বাস টার্মিনালগুলো হচ্ছে—ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি বাস টার্মিনাল।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরীত হবে। এছাড়া গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুর এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যততত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্টস্থানে নেওয়ার তাগাদা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্যসচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
রাজধানীর যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। সভায় কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, এআই ক্যামেরা কতগুলো বসানো হয়েছে, বাকিগুলো কবে নাগাদ বসানো হয়েছে সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন।
সভায় ঢাকার সড়ক থেকে পুরোনো ও চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন অপসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কয়েকটি নির্দেশনা দেন বলে জানান রুমন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসন শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রি পরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
৭ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
৭ দিন আগে
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু: প্রধানমন্ত্রী
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলা যথাক্রমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ড সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ই-হেলথ কার্ড ইলেক্ট্রনিক রিফারেল সিষ্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক পেসেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮০ দিনের কর্মসূচি অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
কর্মসূচিগুলো হচ্ছে—
নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
কৃষক কার্ড এর প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার-প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৬৬৬টি খাল খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান। খনন/পুনঃখননকৃত খালের মোট দৈঘ্য ৯৬৫ দশমিক ০৪ কিলোমিটার।
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের অংশ হিসেবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে।
আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ হতে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিকেট অফ ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ প্রদান সহজীকরণ করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
১২-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৯ দিন আগে
সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ শুরু হবে শীঘ্রই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংসদকে জানাতে চাই, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু শূন্য পদ রয়েছে। সরকারি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং মানুষের কাছে সেবা আরও সহজে ও দক্ষতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে এই পদগুলো পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি জানান, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও পর্যালোচনা করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করব।’
পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তার তারকা চিহ্নিত অপর এক প্রশ্ন উত্থাপন করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব। জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তরের জন্য বরাদ্দ ছিল। তার জন্য তালিকাভুক্ত পাঁচটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তারেক রহমান তিনটির উত্তর দেন এবং সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নেরও জবাব দেন।
সরকার সম উন্নয়নে বিশ্বাসী
মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, রাজনৈতিক অধিভুক্তি নির্বিশেষে সারা দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণ করা সরকারি কিছু সহায়তা বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য পাননি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকের পর আমি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিই যেন কোনো বিরোধী দলীয় এমপি সহায়তা না পেয়ে থাকলে তাদের বিলম্ব না করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’
এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করতে চান যে, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে তাদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন, ঠিক তেমনি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব যেন তাদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
৯ দিন আগে
বাজেট-পূর্ব একনেক বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১টায় তা শেষ হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবগণ বৈঠকে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেন।
আগামী ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর।
এর আগে, গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী অর্থবছরের জন্য ৩,০৮,৯২৪.৮৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করে।
তারও আগে, গত ১২ মে ৩৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ নয়টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছিল একনেক।
১০ দিন আগে