তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতিকে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন দিক এবং সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
এছাড়া একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি এ সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে জাপানি বিনিয়োগসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও আরও সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান এবং বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও একান্ত সচিব-২সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
আমদানিনির্ভরতা কমানো ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগে জাতীয় গ্রিডে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার আশা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক যদি এগোয়, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জাতীয় গ্রিডে সরকার তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে এবং বিভিন্ন নীতিমালা, কর ও শুল্ক-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নিজের বাসায়ও তিনি সৌরপ্যানেল স্থাপন করেছেন। পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পর সেখান থেকে কিছু অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারছেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সোলার এক্সপো প্রমাণ করেছে, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী সমাধানের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় একটি খাত নয়; এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।’
১৮ ঘণ্টা আগে
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন শনাক্ত, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
কলকারখানার কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে থাকায় কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ নির্দেশনার কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে চলে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত থাকে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
আরিফুল হক বলেন, জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উপায় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
২ দিন আগে
পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
দেশের পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংকট মোকাবিলায় বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে কয়েকজন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পরিবহন শ্রমিক নেতা সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বৈঠকে অংশ নেন।।
এদিন ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা ও গাজীপুরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরও করা হয়।
দাবি আদায়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নামলে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পুলিশ ও তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে চার থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
২ দিন আগে
দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশ গঠনে তরুণদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজই যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি।
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পারদর্শী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এ উপলব্ধি থেকে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অনলাইন কাজে যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের যুবসমাজকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে তিনি জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ সফল আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তারা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি আয় করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।
প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যুব ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবশক্তির অসীম সম্ভাবনা অনুধাবন করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে যুবসমাজকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি পায়। মাঠপর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তরুণদের কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এসব কেন্দ্র স্থাপিত হয় এবং যুব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ ও জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী যুবক ও যুব সংগঠককে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কার পেতে যাওয়াদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
এছাড়া ইমপ্যান্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণদের যেকোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে যুবসমাজ দেশের অগ্রগতি, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩ দিন আগে
জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: হুমায়ুন কবির
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশ বা বঙ্গোপসাগর নিয়ে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, যৌথ বিবৃতিতে তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই। এখানে বঙ্গোপসাগরেরও কোনো উল্লেখ নেই। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করে বিগ-বি ধারণাকে আঞ্চলিক শিল্প সরবরাহব্যবস্থায় সম্প্রসারণ করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম।
আঞ্চলিক উদ্যোগে অন্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে। একইভাবে আমাদেরও তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, জাপান থেকে এলএনজি আমদানি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালটি পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশও এ ধরনের একটি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ কারণে টার্মিনালটির নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনাপদ্ধতি সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের এলএনজি টার্মিনাল একটি পরীক্ষিত উদাহরণ। তাই সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল, টার্মিনালটি দেখতে কেমন, তারা কীভাবে এটি তৈরি করেছে এবং এটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখা। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্য একটি ধারণা পেতে চেয়েছি।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত জাপানি অর্থনৈতিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বৈঠকের পর শিগগিরই মিশন পাঠানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা যেখানেই যাই না কেন, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয়—এটি আমাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও বিনিয়োগনির্ভর একটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা ঝুঁকি, প্রযুক্তির দ্রুত উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপান বিগ-বি ধারণাকে ‘সমৃদ্ধির অংশীদারত্বের জন্য বিগ-বি’ (বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি) নামে নতুন রূপ দিতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অংশীদারত্বের আওতায় এটিকে ‘কৌশলগত সহযোগিতা’ উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
গত ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা ‘জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় জাপান হালনাগাদ ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ (ফ্রিপ অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক—এফওআইপি) রূপকল্পের আওতায় বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। পাশাপাশি ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জাপান আগ্রহী। এছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সানায়ে তাকাইচি।
৪ দিন আগে
স্ত্রীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম যাত্রীবাহী গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী
জাপানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কোম্পানিটির নির্মিত প্রথম যাত্রীবাহী গাড়িতে বসেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী কারখানাটি পরিদর্শনে যান।
এ সময় টয়োটার কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহাসিক গাড়িটিতে বসার আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান এ সুযোগ গ্রহণ।
টয়োটা পরিবারের প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োটা এ১’ তৈরি করা হয়েছিল ১৯৩৫ সালে। পরের বছর ১৯৩৬ সালে টয়োটা তাদের প্রথম যাত্রীবাহী গাড়ি ‘টয়োটা এএ’ তৈরি করে।
ঐতিহাসিক গাড়িটির একটি প্রতিরূপ জাপানের টয়োটা অটোমোবাইল জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করেন।
৫ দিন আগে
টোকিওতে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির কারণে চার ঘণ্টা ৪৪ মিনিট বিলম্বের পর টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাপানে তার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হলো।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটি সারানোর পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় উড়োজাহাজটি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় উড়োজাহাজটির টোকিও ছাড়ার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে এটি উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজটি থেমে যায়।
প্রায় ১৫ মিনিট পর ক্যাপ্টেন মো. ইমামুল ইসলাম ঘোষণা দেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গী দলের অন্য সদস্যরা উড়োজাহাজটিতে ছিলেন।
পরে উড়োজাহাজটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দুই প্রকৌশলী ত্রুটি সারানোর কাজ করার সময় সব যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ক্যাপ্টেন আবার ঘোষণা দেন, সমস্যাটি মেরামত করতে আরও আড়াই ঘণ্টা লাগবে। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং শিগগিরই আবার বোর্ডিং শুরু হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফ্লাইট বিলম্বের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টোকিও বিমানবন্দরে তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে। সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে।
এ সময় উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ বলেও জানান মন্ত্রী।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান তারেক রহমান।
সফরকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করে।
প্রধানমন্ত্রী জাপানের বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তাদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন এবং জাপানি কোম্পানিগুলোকে এ দেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
সফরকালে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিবেশ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই হয়।
এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দুই দেশ মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পে সম্মত হয়।
জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থায় (জেটরো) বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
কারিগরি ত্রুটিতে টোকিও থেকে ঢাকাগামী প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে বিলম্ব
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাপানের টোকিও থেকে ঢাকাগামী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় এ ত্রুটি দেখা দেয়।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যায়। তবে উড্ডয়নের আগেই রানওয়েতে থেমে যায় সেটি।
প্রায় ১৫ মিনিট পর পাইলট ইমামুল ঘোষণা করেন, কারিগরি সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করতে পারছে না।
তিনি আরও জানান, দুই প্রকৌশলী ত্রুটি সারানোর কাজ করছেন। সমস্যা সমাধান হলে ফ্লাইটটি আবার যাত্রা শুরু করবে। পরে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে টারমাকে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ক্যাপ্টেন আবার জানান, কারিগরি সমস্যাটি মেরামত করতে আরও আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে।
উড়োজাহাজটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গী দলের অন্য সদস্যরা রয়েছেন।
জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা হওয়ার কথা ছিল।
ফ্লাইটটির বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান তারেক রহমান।
৫ দিন আগে