তারেক রহমান
গুলশান, বনানীসহ ৫ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি এলাকার লেকগুলোর দূষণ রোধ এবং পরিবেশের উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পয়ঃশোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সেগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।
লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের সব পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন ও বিদ্যমান পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে পয়ঃনিষ্কাশন বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ক্যাচমেন্ট এলাকা বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা গড়ে তোলার সুপারিশও করা হয়।
লেক পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫-এর আওতায় প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা শনাক্ত করতে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে যৌথভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।
লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানোর যন্ত্র বা এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবল নিয়ে গঠিত পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
দেশের সন্তানরা মেধা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি এ কথা বলেন।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের উৎসাহিত ও যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে। এতে দেশের মানুষও উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে ৭ দিনেই চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চোখে আলো না থাকলে কী হয়েছে, মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে সব বাধা জয় করা যায়—তারই এক দারুণ প্রমাণ দিলেন নওগাঁর শাকিল হোসেন। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বার বার ভাইভা বোর্ড থেকে খালি হাতে ফিরে আসার পর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ (নবম গ্রেড) পদে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন এই তরুণ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল।
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের জীবনে লড়াই ছিল অবিরত। মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজের পড়াশোনা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
পড়াশোনার দীর্ঘ এই পথচলায় শাকিলকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম। তারা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে তার পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।
পড়াশোনা শেষে অন্যদের মতো শাকিলও কর্মসংস্থানের সন্ধানে নামেন। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরেও এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে পৌঁছানোর পর কেবল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই চরম হতাশা যখন তার চারপাশ ঘিরে ধরেছিল, ঠিক তখনই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক সুযোগ আসে।
৩ দিন আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
৩ দিন আগে
হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
৪ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
৫ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা আমাদের ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণার ফলাফল, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৌঁছান।
বৈঠকে কর্মকর্তারা কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। সরিষার উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি চালু এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ।
মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণেও কাজ করছে বলেও জানায়।
কৃষি গবেষণায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি ধানের জাতও রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রের মতো কৃষি সরঞ্জাম কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে কাজ করছে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচ সম্প্রসারণ কৃষকদের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
৬ দিন আগে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্মসূচি বিস্তারিত জানানো হবে। আমরা সম্ভবত ২১ তারিখ রওনা হব এবং ২৬ তারিখ পর্যন্ত নিউইয়র্কে থাকব। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন—নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকারে নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সে বিষয়ে তার ভিশন জাতিসংঘে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।’
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইনে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরাম এভাবেই কাজ করে। একজন নেতা শেষ মুহূর্তেও বলতে পারেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। বড় বড় সম্মেলনে এমনটাই হয়। সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে অনেক পরিবর্তন আসে। এসব যখন আসবে, যার সঙ্গেই বৈঠক হোক, আপনাদের জানানো হবে। আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ওই পদে দুর্নীতির অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই ‘দুঃখজনক’ ছিল। তার দাবি, তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই।’ একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে একটি অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফরেনসিক ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে আমরা কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ও অর্থ উদ্ধার করা যায়। যাতে জনগণ তাদের অর্থ ফিরে পায় এবং সেই অর্থ তাদের জন্য ব্যয় করা হয়, তা বিদেশে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে।’
৬ দিন আগে
তারেক রহমান গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন: মুরাদ
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেছেন, মা-বাবার আদর্শ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির সামনে আবির্ভূত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধামরাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজনে শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মুরাদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশের ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
দেশের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমানকে শহিদ হতে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে।
জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের হাল ধরেন বলেও উল্লেখ করেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে মুরাদ বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে, তখনই আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে তারেক রহমানও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মা-বাবার মতো প্রধানমন্ত্রীও সফল হবেন।
শোভাযাত্রাটি ধামরাই উপজেলা চত্বর হয়ে ধামরাইয়ের যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ধামরাই পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু তাহের মুকুটের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম এ জলিল, এনায়েত হোসেন, আব্দুস সালাম, ইবাদুল হক জাহিদ, খুররম চৌধুরী টুটুলসহ আরও অনেকে।
৭ দিন আগে
সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভো থিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই মিলে এ রকম একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করি, যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি।
উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও গবেষকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকবে।
এ সময় সরকার, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের দেওয়া বক্তব্য ও উপস্থাপনাগুলো আগামী দিনের জন্য দেশের করণীয়র একটি সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী বক্তারা, বিশেষ করে ড. আনিসুজ্জামানের উপস্থাপনা ও বক্তব্যে আগামী দিনের কর্মপন্থা মোটামুটিভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এসব কর্মপন্থা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।
দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকারের প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাইছি। রাষ্ট্রের জন্য আপনাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যরা।
স্থানীয় উদ্ভাবনকে নীতিগত সহায়তা, শিল্প, বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরা একত্রিত হয়েছেন। স্থানীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর সঙ্গে টেকসই অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠাই এর লক্ষ্য।
সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা মেলায় অংশ নিচ্ছেন।
মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতিগত সহায়তা, প্রাথমিক অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে সেগুলো বাজারে পৌঁছাতে পারে না। এ ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক বাধা দূর করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিকাশেরর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর তুলে ধরেন, কীভাবে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা (এমএফএস) সাধারণ নাগরিকদের জন্য আর্থিক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ ও উন্মুক্ত করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও প্রত্যক্ষ করেন, কীভাবে এমএফএস অ্যাপের জামানতহীন ডিজিটাল ঋণ ও বিভিন্ন ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এ মেলার কৌশলগত অংশীদার। আর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এর কারিগরি অংশীদার।
৭ দিন আগে