এসিল্যান্ড
সাদুল্লাপুরে খাস জমি ও লাখ টাকার গাছ রক্ষায় অনীহা, এসিল্যান্ডের দিকে অভিযোগের তীর
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছসহ সরকারি খাস জমি রক্ষায় স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতি, রহস্যজনক ভূমিকা ও স্ববিরোধী অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সরকারি সম্পত্তি দখলে রাখলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরকারি গেজেট, রেকর্ড ও নকশায় জমির অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকলেও সরেজমিনে পরিমাপের সময় সাদুল্লাপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, জমিটি ‘রাস্তায় মিশে গেছে’ অথবা ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। এসিল্যান্ডের এমন বক্তব্য সরকারি রেকর্ড, গেজেট ও খোদ ভূমি অফিসেরই তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ।
গত বুধবার (১৩ মে) দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সাদুল্লাপুর মৌজার জেএল নম্বর-৪১ এর বিআরএস ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৮৯ নম্বর দাগের ০.০০৫৬ একর সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিবিশেষের অবৈধ দখলে রয়েছে। ওই জমিতে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি বৃহদাকৃতির মেহগনি গাছও বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি গেজেট ও নকশায় জমির অস্তিত্ব সুস্পষ্ট থাকলেও গত ২৩ এপ্রিল সরেজমিন পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাবি করেন, জমিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এর আগে ওই অফিসেরই তদন্ত প্রতিবেদন ও নোটিশে জমিটিকে ‘সরকারি খাস জমি’ এবং গাছগুলোকে ‘সরকারি সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নথি সূত্রে জানা গেছে, খাস জমি ও গাছ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আবেদনের পর বনগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা সরেজমিন তদন্ত করে জমি ও গাছের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে গত ৩০ মার্চ ও ২ এপ্রিল (২০২৬) তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনে (স্মারক নম্বর-৩৩ ও ৩৮) প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি মেহগনি গাছসহ খাস জমির উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খাস জমিটি আবেদনকারীদের দখলে থাকায় বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে এবং গাছগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে।
তবে তদন্তে সরকারি সম্পদের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্ধার অভিযান বা সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো বিগত ২০২৫ সালের ১৯ মে এক আবেদনে সরেজমিন তদন্তের পর জমিটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে ‘সরকারের কোনো স্বার্থ নেই’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একই অফিস থেকে স্মারক নম্বর ৩০০ ও ৩১১ এর নোটিশে আবার সেটিকে সরকারি সম্পত্তি বলা হয়। একই বিষয়ে প্রশাসনের এমন দ্বৈত অবস্থান সচেতন মহলকে বিস্মিত করেছে। পাশাপাশি এসিল্যান্ড গত ১২ এপ্রিল অফিস স্মারকের এক নোটিশে উক্ত জমিতে ‘সরকারি স্বার্থ’ ও ‘গাছ’ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে স্বীকার করলেও পরে সরেজমিনে এসে জমির অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।
দখলদারের আবেদনেই সরকারি জমির স্বীকৃতি
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী জাকিউল হক মানিক ও জাহিদুল ইসলামসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি ও গাছ নিজেদের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে নিয়ে গোপনে দখলে রেখেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত মার্চ মাসে জাকিউল হক মানিক নিজেই ওই জমি বন্দোবস্ত চেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
উক্ত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার মা জোবেদা বেওয়ার নামে বিআরএস ২৩৮ নম্বর খতিয়ানে ০.০৩৬৯ একর জমির সঙ্গে অতিরিক্ত ০.০০৫৬ একর সরকারি খাস জমি মিলিয়ে মোট ০.০৪২৫ একর জমি তাদের ভোগদখলে রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, এই আবেদনের মাধ্যমেই সরকারি জমি দখলের বিষয়টি পরোক্ষভাবে প্রমাণিত হয়।
মামলার আড়ালে সম্পদ গোপনের চেষ্টা
সিএস ৩০৩ নম্বর খতিয়ানের সাবেক ৫২৬ নম্বর দাগের মোট ২৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা চললেও বিআরএস ৫৮৯ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি ওই মামলার অন্তর্ভুক্ত নয়।
আদালত কখনো সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ বা গোপনের অনুমতি দেয়নি। অথচ আদালতের মামলার অজুহাতে সরকারি খাস জমি ও গাছ প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রাখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ গাছে জননিরাপত্তা হুমকি
খাস জমিতে অবস্থিত বৃহদাকৃতির মেহগনি গাছগুলো বর্তমানে স্থানীয় বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক ও বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে দুই দফা তদন্ত হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গাছগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত তা অপসারণ বা নিলামের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কালবৈশাখীর এই মৌসুমে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারী মো. জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই; সরকারি সম্পদ রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। সরকারি রেকর্ডভুক্ত সম্পদ কীভাবে গায়েব দেখানো হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতে চলমান জমি বিরোধের চূড়ান্ত রায় আমি মেনে নেব।’
অভিযোগ ও সরেজমিনে জমি পরিমাপের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত চেয়ে দুজন আবেদন করায় সরেজমিনে পরিমাপ করা হয়। সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ড অনুযায়ী হাল ৫৮৯ নম্বর দাগে ০.০০৫৬ একর খাস জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাঠপর্যায়ে পরিমাপে পুরো প্লটে ২৪ শতাংশ জমি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, খাস জমিটি রাস্তায় মিশে গেছে। এ কারণে আলাদাভাবে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া জমিটি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তিমালিকানা নিয়ে মামলা থাকলেও খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও গাছ সরকারের সম্পদ। তাই দ্রুত এই সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
১৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে এমপির স্ত্রীকে নিয়ে প্রশাসনের সভা, ইউএনও-এসিল্যান্ড বদলি
সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে প্রশাসনের সভায় অতিথি করাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমান বদলির আদেশে সই করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউএনও লিটন দে-কে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এবং মাহবুবুল আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। যদিও সরকারি আদেশে এই রদবদলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের দাবি, বির্তকিত ওই সভার জের ধরেই তাদের তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির আসনে বসেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেন।
ওই সভার ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সিমির দুই পাশে বসে আছেন ইউএনও লিটন দে, এসিল্যান্ড মাহবুবুল আলম এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। সরকারি সভায় একজন জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যের এমন উপস্থিতি ও প্রধান অতিথির আদলে বসে থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
৯৪ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যান্ড
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আলাউদ্দিন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মধ্যম করলডেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে এ বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন তিনি।
মেয়েটি স্থানীয় গাউছিয়া তৈয়বিয়া আজিজিয়া সুন্নিয়া মাদরাসায় ৮ম শ্রেণিতে পড়ে।
আরও পড়ুন: বিনা সুদে পাওয়া যাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ লোন
মো. আলাউদ্দিন জানান, ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর ৮ ধারায় মেয়েটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে মেয়ের মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত মেয়েটির অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বোঝানো হয়।
আরও পড়ুন: বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জোন্টা ক্লাবের ১৬ দিনের প্রচারণা
১১৮২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হাসপাতালে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন এসিল্যান্ড
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জন্মের পর ফেলে রেখে যাওয়া সেই নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। শনিবার বেলা ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শিশুটি বর্তমানে ওই হাসপাতালের নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে (স্ক্যানু)ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, ওই ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে এসিল্যান্ড হিসেবে সিলেট বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ১০ বছর বিবাহিত জীবনে ওই দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি।
আরও পড়ুন: ৯৯৯ এ ফোন: চলন্ত ট্রেন থেকে গুরুতর অসুস্থ নারীকে উদ্ধার
তিনি আরও জানান, নবজাতক ওই শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১৪ জন দম্পতি আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী, প্রবাসী,চিকিৎসক,প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়। সভায় ১৮ জন সদস্যের প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। আবেদনগুলোর বিশ্লেষণ শেষে শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে শিশু আইন ২০১৩ সংশোধিত ২০১৮ (৮৬) ধারা অনুযায়ী সর্ব সম্মতিক্রমে আবেদনকারী দম্পতিদের মধ্যে একজন দম্পতির হাতে শিশুটির দায়িত্বভার অর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আরও পড়ুন: চলন্ত ট্রেনে নবজাতকের জন্ম
জেলা প্রশাসক জানান, দু-একদিনের মধ্যেই শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দম্পতির হাতে হস্তান্তর করা হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক আরিফুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) আনম আবুজর গিফারী, এনডিসি শাহেদ আরমান, কুষ্টিয়ার সমাজসেবা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মুরাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে কবরস্থান থেকে নবজাতক উদ্ধার
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.এম এ মোমেন জানান, শিশুটি বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে।
প্রসঙ্গত গত বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে রিমি (২৬) নামের এক নারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আসেন। সকাল ৮ টার দিকে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ওই নারীকে ওয়ার্ডে পাঠানো হলে তিনি সদ্য ভূমিষ্ট নবজাতক সন্তানকে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান।
১৩৫৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে অবৈধ দখলদারদের হামলায় এসিল্যান্ডসহ আহত ২০
সুনামগঞ্জে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জমি চিহিৃত করতে গিয়ে অবৈধ দখলদার গ্রামবাসীর হামলায় এসিল্যান্ড, পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
এসময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পুরুষ নারীসহ ১০ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আদার বাজার সংলগ্ন এলাকায় সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত ২৫ একর জমি রয়েছে। ওখানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১৫টি গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ একর জমি চিহিৃত করার জন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফ আদনান দুজন তহশিলদার সার্ভেয়ার এবং পুলিশসহ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ওখানে যান। ভূমি অফিসের লোকজন সেখানে সরকারি জমি চিহিৃত করার কাজ শুরু করতেই হরিনাপাটিসহ আশপাশের গ্রামের নারী, শিশু এবং কিছু পুরুষ দা, রামদা, লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।
আরও পড়ুনঃ সুনামগঞ্জে মেছোবাঘ মেরে এলাকাবাসীর উল্লাস
তারা এসিল্যান্ড আরিফ আদনান এবং পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলমকেও আক্রমণ করে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন ও সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি সহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সরকারি জমি চিহিৃত করার সময় একদল দখলদার বাধা দিয়েছে। তারা সহকারী কমিশনার( ভূমি),পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের উপর হামলা করেছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অবৈধ সরকারি জমির দখলদারদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারি কমকর্তা কর্মচারীদের ওপর হামলা করেছে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও আনসার ১৩ রাউন্ড গুলি ফাঁকা ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
১৮২০ দিন আগে
সাভারে এসিল্যান্ড ও তার মা করোনা আক্রান্ত
সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি-এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হ্যাপি দাস ও তার মা নিলুফার বিশ্বাস করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
২০৯৮ দিন আগে
এসিল্যান্ড নাজিবকে ধাক্কা দেয়া সেই মোটরসাইকেল চালক আটক
ঝিকরগাছা উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল চালককে বুধবার রাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটক করেছে পুলিশ।
২২৫৪ দিন আগে
এসিল্যান্ড নাজিবের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনকালে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত যশোরের ঝিকরগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসানের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
২২৫৪ দিন আগে
৩ বৃদ্ধকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
যশোরের মণিরামপুরে মুখে মাস্ক ব্যবহার না করায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) সাইয়েমা হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
২২৫৯ দিন আগে
মাস্ক ব্যবহার না করায় ৩ বৃদ্ধকে শাস্তি, সমালোচনার ঝড়
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় মাস্ক ব্যবহার না করায় শুক্রবার তিন বৃদ্ধকে জনসম্মুখে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়ে উঠেছে।
২২৫৯ দিন আগে