প্রসূতির মৃত্যু
প্রসূতির মৃত্যু: চিকিৎসক, দালালসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি
নওগাঁয় বেসরকারি এক হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই অস্ত্রোপচার শেষ করা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও দালালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলী আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ সালমা বিবি নাজমা (৩২) এবং দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান সেকশনের প্রলোভন দেখিয়ে আট হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার অস্ত্রোপচার করেন।
তার পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ কাপড় বের করে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গত ১৩ এপ্রিল আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২২ আগস্ট পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
১১ দিন আগে
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক সিলগালা
ফেনীতে শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯০ দিন আগে
চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, গাজীপুরে হাসপাতাল সিলগালা
গাজীপুরে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভাঙচুর করেছেন নিহতের স্বজনরা। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটি সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে প্রসূতি রুমার আক্তারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে খবর পেয়ে শ্রীপুরের এসিল্যান্ড সাইদুল ইসলাম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল (রবিবার) দুপুরে ওই হাসপাতালে উপজেলার উজিলাব গ্রামের প্রসূতি রুমার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তাকে অপারেশন থিয়েটারে পর্যবেক্ষণে রেখেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় পরও তার সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে স্বজনরা জোর করেই অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গিয়ে রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের টালবাহনা করতে থাকে।
এরপর আজ (সোমবার) ভোরে নিহতের স্বজনদের তোপের মুখে রুমাকে উত্তরার হাই কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২৪ দিন আগে
প্রসূতির মৃত্যু: শ্রীপুরে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
গাজীপুরের শ্রীপুরে নার্স দিয়ে অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় লাইফ কেয়ার হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন মাহমুদা আক্তার।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ডাকাতের হামলায় ২ পুলিশ আহত, গাড়িচাপায় ডাকাতের পা বিচ্ছিন্ন
এর আগে রবিবার রাতে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে নার্স দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এর পরপরই চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিভিল সার্জন মাহমুদা বলেন, ‘প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সবকিছু জানতে হাসপাতালে এসেছি। ফাইল দেখে যা জানতে পারলাম, রোগীর কোনো ওটি নোট নেই। কোনো ধরনের নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়নি। হাসপাতালে এসে আমি একজন নার্সের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি আসলে নার্স নন। তিনি কোনো ধরনের পড়াশোনা করেননি। রক্ত সংগ্রহ করেন। তার কোনো ট্রেনিং নেই। তিনি চিকিৎসা জগতের কেউ নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই হাসপাতালের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে যাব। এজন্য আমি হাসপাতালের পুরোটা ঘুরে দেখলাম। হাসপাতালে তিনজন ভর্তি রোগী রয়েছেন। তাদের অপারেশন করা হয়েছে। বুধবার তারা চলে যাবেন। প্রতিটি রোগীর ফাইলে একই সমস্যা, কোনো ওটি নোট লেখা নেই। আজকে থেকে এই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি সব কাগজপত্র সঠিক করে আমাদের কাছে জমা দেয়, পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন আরও জানান, ‘আজকে থেকেই সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ। শুধু তিনজন ভর্তি রোগীর চিকিৎসা চালাতে পারবেন। নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা দিতে পারবেন না। তিনজন রোগী বুধবার ছুটির পর সিলগালা করে দেওয়া হবে। আরেকটি বিষয়ে আশ্চর্য হয়েছি, এই হাসপাতালে নার্স না হয়েও অনেকেই অ্যাপ্রোন পরে রয়েছেন। এটি হতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: গাজীপুরে বেতন-ঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
গাজীপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭
৯৩০ দিন আগে
প্রসূতির মৃত্যু: সালিশে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় সমঝোতা!
নড়াইলের কালিয়ায় ‘ভুল চিকিৎসা’য় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা সাড়ে তিন লাখ টাকায় সমঝোতা করার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত শিউলি বেগম (২৫) গোপালগঞ্জ সদর থানার বড়ফা গ্রামের জিন্নাত শেখের স্ত্রী ও খাশিয়াল ইউনিয়নের পেচী ডুমুরিয়া গ্রামের আকবর মোল্যার মেয়ে।
শুক্রবার উপজেলার নড়াগাতি থানার বড়দিয়া বাজারে হাজী খান রওশন আলী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে অনুমোদনহীন বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনি ঝামেলা এড়াতে সাড়ে তিন লাখ টাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই শুক্রবার রাতেই লাশ দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁর সাপাহারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যু!
এ ঘটনা তদন্তে শনিবার দুপুরে নড়াইল সিভিল সার্জন ডা. নাছিমা আকতার কালিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজল মল্লিককে প্রধান করে দুই চিকিৎসকসহ মোট তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম ও মালিকপক্ষ পলাতক রয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সিজারিয়ানের জন্য পূর্ব নির্ধারিত দিনে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন শিউলি বেগম। গোপালগঞ্জ থেকে আসা সার্জন শরিফুল ইসলাম শিউলি বেগমকে অস্ত্রপচার করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যায়।
অস্ত্রপচারের আগে চিকিৎসক প্রসূতিকে অচেতন করার জন্য একটি ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছটফট করতে থাকেন। এসময় তার স্বজনেরা রোগীর কাছে যাইতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেতে দেয়নি। এরপরই শিউলি বেগমের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে ‘চিকিৎসকের অবহেলায়’ প্রসূতির মৃত্যু
অভিযোগে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বড়দিয়া বাজার সংলগ্ন মুন্সী মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সন্ধ্যায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও সালিশদাররা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সমঝোতা হওয়ার আগে শুক্রবার দুপুরে নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে নাড়ি কেটে ফেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
এবিষয়ে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকান্ত কুমার সাহা বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক মীমাংসার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
হাজী খান রওশন আলী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার অনুপ দাস বলেন,‘বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।’
১৬২৫ দিন আগে
ফমেক হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক প্রসূতি নারী অক্সিজেনের অভাবে সোমবার মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের স্বজনরা।
২৩৯৪ দিন আগে