বাংলা নববর্ষ
পহেলা বৈশাখ: বাঙালির চিরন্তন নবজাগরণের উৎসব
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলনমেলা এই পহেলা বৈশাখ। এটি শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
ইতিহাসের পথ বেয়ে
পহেলা বৈশাখের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। সে সময় কৃষিজ ফসলের খাজনা আদায় সহজ করতে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির পরিবর্তে একটি সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রবর্তিত হয় ফসলি সন, যা পরবর্তীতে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়।
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর এই সন প্রবর্তন করেন। এটি গণনা শুরু হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। তখন বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতেন এবং নববর্ষের দিনে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এই উপলক্ষে মেলা ও আনন্দোৎসবের আয়োজন করা হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মিশে এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়।
বিবর্তনের ধারা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দিন। হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের সূচনা করতেন।
ক্রমে এই দিনটি তার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এটি আনন্দ, ঐক্য ও মিলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐক্যের প্রতীক
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশাল মুখোশ, পাপেট, বাঘ-হাতি-পাখির প্রতীকী রূপ এবং নানা শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়গান করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এটি ইউনেস্কোর বিশ্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ তালিকায় জায়গা করে নেয়। বর্তমানে এটি বাঙালির ঐক্য, প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক।
৬ দিন আগে
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীজুড়ে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহিদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল উদ্বোধন নিশ্চিত করতে ৯টি জেলার ১০টি উপজেলার প্রধান অনুষ্ঠানস্থলগুলোতেও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যেসব স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে সেগুলো হলো— পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট ও বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহেরর শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
কর্মসূচি চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাহিনীটি অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
৬ দিন আগে
বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নানা বর্ণিল আয়োজন, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে। পুরোনো বছরের গ্লানি, জীর্ণতা আর শোককে পেছনে ফেলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় নববর্ষ বরণের আয়োজন। রাজধানীর রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগীত, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪৩৩। এ শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ১০টার দিকে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান।’ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মোটিফ ও পটচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। মোরগ, হাতি, পায়রা, টেপা পুতুল-ঘোড়া ও দোতারা প্রতিটি মোটিফই বহন করেছে আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য। বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে—নারীরা শাড়ি এবং পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে—শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেকে। মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খাবার এবং লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
৬ দিন আগে
সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি, নববর্ষে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটি আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং সবাইকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
৭ দিন আগে
সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক-বাহক হিসেবে নববর্ষ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম: রাষ্ট্রপতি
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সনের প্রথম দিন। নববর্ষের উৎসব নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন।
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে জানাই নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা—সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
তিনি আরও বলেন, এই আনন্দঘন দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে গড়ে তুলি একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। আবারও সবাইকে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
৭ দিন আগে
নববর্ষ ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: র্যাব
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক হামলা মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারা দেশে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সারা দেশে র্যাবের সব ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। এ লক্ষ্যে ১৮১টি পিকআপ পেট্রোল টিম, ১২৭টি মোটরসাইকেল পেট্রোল টিমসহ সর্বমোট ৩০৮টি টহল এবং সাদা পোশাকে র্যাবের সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনও গোষ্ঠী যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থল—শাহবাগ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া এভিনিউ, বাংলা একাডেমি ও রমনা বটমূলসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় চেকপোস্ট, অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক হামলা মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া সারা দেশে কন্ট্রোল রুম, ফুট পেট্রোল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গুজব, উস্কানিমূলক বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যেন কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠানস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা নিরাপত্তা ঝুঁকি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো ধরনের হুমকি আমরা অনুভব করছি না। আগের বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৭ দিন আগে
নববর্ষের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) নববর্ষ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তায় থাকবে বিশেষ নজরদারি। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবে না, তবে হাতে বহন করা যাবে। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ এতে যোগ দিতে পারবে না।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হবে।
পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
লালমনিরহাটে চার দিনব্যাপী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ীতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি উপভোগ করতে এদিন বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার নারী-পুরুষ জড়ো হয়।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ঘোড়দৌড়ের উদ্বোধন করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
এর আগে বিকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে পান্তাভাত দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।
চার দিনের এ প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ঘোড়ার মালিকদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।
আরও পড়ুন: নববর্ষ ১৪৩২: পরিবর্তন ও নতুনত্বের আবহ
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলা উপভোগ করতে লালমনিরহাট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠে উপস্থিত হয় এদিন। এছাড়াও ভিড় করেন শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকে আবার ঘোড়াদৌড় দেখতে আগের দিনই স্থানীয় আত্মীয়-স্বজন এবং খেলার মাঠে এসে বসে থাকেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে ঘোড়ার দৌড় ও সওয়ারিদের রণকৌশল উপভোগ করতে মাঠের চতুরদিকে হাজির হয় হাজার হাজার দর্শনার্থী। প্রথম দিন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ৩২টি ঘোড়া অংশ নেয়। গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন আগত দর্শকরা।
এসব সাওয়ারিদের মধ্যে সবার নজর ছিল সর্বকনিষ্ঠ ১২ বছরের হালিমা বেগমের ওপর। চারজনের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় হালিমা প্রথম স্থান অধিকার করে নজরও কারেন সবার।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হালিমা বেগম বলেন, আমি নাটোর থেকে বাবার সঙ্গে এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছি এবং এখানে খেলায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থানও অধিকার করিছি। এখানে এই প্রতিযোগিতা খুবই আকর্ষণীয় এবং হাজার হাজার দর্শক হয় বাবার মুখে শুনেছি। এখানে এসে এর সত্যতা পেলাম।
ঘোড়াদৌড় দেখতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে ঘোড়াদৌড় দেখতে এসেছি। প্রতি বছর এখানে ঘোড়াদৌড় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমি প্রতি বছর এখানকার ঘোড়াদৌড় দেখতে আসি। এবছরও এসেছি। আমি চাই প্রতি বছর যেন এখানে ঘোড়াদৌড় ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এমন আয়োজনে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আবেগ আপ্লুত হয়েছি।
আরও পড়ুন: নববর্ষ উদ্যাপনে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৩৭০ দিন আগে
ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ আয়োজন বাংলা নববর্ষে
এবারের বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখে ফিলিস্তিনের জন্য বিশেষ আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা ব্যান্ড মিউজিশিয়ানসের উদ্যোগে বুধবার (৯ এপ্রিল) আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
এ বছর পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় প্রথমবারের মতো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যান্ড মিউজিশিয়ানস অংশগ্রহণ করবে। ব্যান্ড মিউজিশিয়ানরা পৃথিবীর শান্তি কামনায়, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের জন্য সব শিল্পীরা সম্মিলিতভাবে একটি গান গাইবে।
এই শোভাযাত্রায় ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশের সব মিউজিশিয়ানদেরও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান ফারুকী।
তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা যদি নববর্ষে শুধু আমাদের দেশের জন্য শুভকামনা করি, এরচেয়ে স্বার্থপর আর কিছু হতে পারে না। ফলে এই নববর্ষে আমাদেরকে ফিলিস্তিনে যে ঘটনা ঘটছে, তার প্রতিবাদ করে ফিলিস্তিনিদের যেন শান্তি ফিরে আসে এই কামনা করতে হবে। এর মাধ্যমে আমাদের উদার সংস্কৃতি প্রকাশ পাবে।’
এতবড় আয়োজনের উদ্দেশ্য আলোচিত হওয়ার জন্য না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্যে সাংস্কৃতিক বিভাজন এবং ফ্যাসিবাদের ফলে জাতির অন্তরে যে গভীর ক্ষত হয়েছে তা উতরানো।’
‘৫৪ বছরের ইতিহাসে শিল্পকলা একাডেমিতে চাঁদরাতে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি, এবার হয়েছে। আগামী বছর সারাদেশে সবগুলো শিল্পকলায় এই অনুষ্ঠান হবে। আবার চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে এরপূর্বে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সেটা এবার করা হয়েছে। কারণ উৎসবটা বাংলাদেশের, তাই সবার অন্তর্ভুক্তি থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: নববর্ষ উদ্যাপনে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে আগামী ১৩ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ব্যান্ড শো। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদলগুলো। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল শোভাযাত্রা বের করা হবে। বিকেলে মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো। ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, বাংলা ব্যান্ড মিউজিশিয়ানসের পক্ষ থেকে ওয়ারফেজ ব্যান্ডের সদস্য শেখ মনিরুল আলম টিপু, বিভিন্ন ব্যান্ড দলের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তারা।
৩৭৬ দিন আগে
বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেরও সম্মুখীন: রিজভী
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় ‘রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (১৪ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভাষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতিসহ বাংলাদেশি পরিচয়ের মৌলিক দিকগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
রিজভী আরও বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইছামতি, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সৃষ্ট আমাদের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য- যা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেছে, তা ভাঙতে পারবে না আওয়ামী লীগ।’
আরও পড়ুন: আ. লীগ নাৎসিদের মতো দেশ শাসন করছে: রিজভী
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে ঘিরে জাতির পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ সুরক্ষিত রয়েছে।
রিজভী বাংলাদেশের বর্তমান গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পহেলা বৈশাখের উৎসবের চেতনা ছেয়ে গেছে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার জন্য লড়াইকারীদের সংগ্রামে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কারাবন্দি। মাত্র কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদযাপনের আনন্দ নেই।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই: রিজভী
৭৩৬ দিন আগে