সরকার
জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভেদ থাকা উচিত নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি গণতন্ত্র, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিজয়ের দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার সুতীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। ফ্যাসিবাদী সরকার পালাতে বাধ্য হয়। দেশ মুক্ত হয়, সূচিত হয় নতুন প্রভাত।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, ছোট্ট শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ সব শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। তার কথায়, ‘এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভাজন, কোনো বিদ্বেষ কিংবা কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল, তেমনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন গণতন্ত্র থাকবে, ততদিন মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ন থাকবে।’
জুলাই শহিদ পরিবার ও আহতদের বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছে সেসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত হয়েছে, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে, অঙ্গ হারিয়েছে, তাদের সুস্থ করে তোলা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।’
অনুষ্ঠানে এক মাকে তার দৃষ্টিশক্তি হারানো ছেলেকে নিয়ে উপস্থিত হতে দেখে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই যুবক গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চোখ হারিয়েছে। যদি তারা যথাযথ মর্যাদা না পান এবং সামান্য চাওয়া-পাওয়ার জন্যও মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে সেটি জাতির জন্য লজ্জার।’
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা মন খারাপ করবেন না। এই সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়ই সম্মান আপনারা পাবেন। আমরা সেই সম্মান আপনাদের দেব। আমাদের যতটুকু সাধ্য আছে সবকিছু উজাড় করে দেব আপনাদের কল্যাণের জন্যে।’
সবার সহযোগিতা কামনা করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই নির্বাচিত সরকার ভুল করলে আপনারা শুধরে দেবেন।’
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না। আওয়ামী লীগকে দেখেন, তাদের কোনো অনুশোচনা নাই। এত অন্যায়-অবিচার, খুন, গুম, মানি লন্ডারিং, হত্যা, নির্যাতন, আয়নাঘর—এসবের জন্য তারা কোনো লজ্জাবোধ করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাতক ফ্যাসিস্ট আবার বলে যে ডিসেম্বর মাসে দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। আসেন, দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে।’
নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে আরেকটা করব, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুশাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র আছে, কিন্তু এমন নাগরিক খুব কম আছে যারা উদ্যত বন্দুকের সামনে আবু সাঈদের মতো দুই হাত তুলে দাঁড়াতে পারে। আমরা সেই জাতি। তাদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।’
মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ঐক্য, দেশপ্রেম, সততা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন আমরা শহিদদের রক্তে অর্জিত এই নতুন সম্ভাবনাকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকারে রূপান্তরিত করি।’
বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জুলাই শহিদ পরিবারের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা তাদের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
দুপুর ১২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
অর্থনীতির ইতিবাচক পরিবর্তনে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই সভা হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে পেরেছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনও ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। প্রথমে আপনাদের সঙ্গে বসেছি, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।’
আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। সেগুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে।
আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সরকারপ্রধান। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের (ব্যবসায়ী) সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হলে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই জাতীয় কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে: সরকার
একটি সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দেশব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। তাই সরকার ক্রীড়াকে কেবল শরীরচর্চা, বিনোদন অথবা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করছে।
তিনি বলেন, সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। এরই অংশ হিসেবে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২ মে ঐতিহ্যবাহী সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এরপর সারাদেশে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই বর্ণিল আয়োজন একটি কার্যকর ও টেকসই ভিত্তি রচনা করবে।’
আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর বাংলাদেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ক্রীড়া মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা ও বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতের জাতীয় দল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে আরও সমৃদ্ধ করতে আগামী আসরে নতুন কয়েকটি ইভেন্ট যুক্ত করা হবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭’ আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত হলে ইভেন্টের সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
১০ দিন আগে
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে সরকার: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। তাই, এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, অনেক রক্ত, আত্মত্যাগ ও ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে। পরাজিত শক্তিরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। সেটা যাতে করতে না পারে, সেই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। তাদের বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মের ভাইবোনদের সঙ্গে তারা যেন একযোগে দুর্গাপূজায় প্রহরীর কাজ করেন। শুধু এবারেই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজাসহ সমস্ত পূজাতে একইভাবে দলের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই বিভিন্ন পূজা মন্ডপে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সেখানে বক্তব্য দিয়েছি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের পূজাপার্বণে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থাকার, তাদের নিরাপত্তাবিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা এবং উল্টো রথের এই আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে।
তবে এটি নিয়ে কেউ যাতে আবার কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠীরা আছেন, সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন-বিভক্তি কারা করত, এটা তারা বুঝে গেছেন। গত নির্বাচনে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।
দেশের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্ষায় পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও মৎস্যচাষের সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খননের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ অগ্রযাত্রায় কোনো অপশক্তি বা এজেন্ট যেন উস্কানি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য জনগণ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়ে যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য না দেন, তাহলে সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তারা যেন কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেন, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিকে একটি মহৎ ও মানবিক উদ্যোগ উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তবে যেসব এলাকায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, সেসব এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যান্য নেতারা।
২৭ দিন আগে
মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনে চেয়ারম্যান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোয় নতুন মহাপরিচালক
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনে নতুন চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এ নিয়োগ দিয়ে বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেনকে প্রেষণে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুল হককে প্রেষণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে। একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।
ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক—পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
৪৪ দিন আগে
সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে: জামায়াত আমির
ব্যাংক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে নিজ দলীয় লোক বসিয়ে সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা মেনে নেবে না।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলতো বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন রকমের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না।
সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বুঝার চেষ্টা করেন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুাষ্ঠত হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
৪৭ দিন আগে
সরকারকে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কালিবাড়ি মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। একটা নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেছে। তার আগে একটা রিফর্ম (সংস্কার) কমিশন হয়েছে, সেই কমিশনের গণভোট হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে। বিগত সরকার ব্যাংকগুলো খালি করে দিয়েছে। ব্যাংক থেকে ৮০ লাখ কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে এই আওয়ামী লীগ ও তাদের মন্ত্রীরা। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। সুতরাং আপনাদের কাছে আমার একটা প্রত্যাশা করি। আগামী তিন মাসে আমরা উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনগুলোতে যদি সহযোগিতা করে যান তাহলে আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
সাংবাদিকতা পেশাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এর চাইতে চ্যালেঞ্জিং পেশা আর কোনোটি আছে বলে আমার জানা নেই। কারণ সাংবাদিকদের কঠিন কঠিন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে হয়। আপনারা দেখছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিক মারা গেছেন। ফিলিস্তিনের যুদ্ধেও অনেক সাংবাদিক প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে আমাদের দেশে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করতে গিয়ে, আমার সঠিক সংখ্যা মনে নেই, তবে ৫০০-এর বেশি সাংবাদিক শহিদ হয়েছেন বিগত সরকারের সময়ে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হননি।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যখন আপনারা কোনো একটি বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন করবেন এবং যার বিপক্ষে প্রতিবেদন করবেন, তাকে জিজ্ঞেস না করে, তার বক্তব্য না নিয়ে করবেন না—এটা মাথায় রাখবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে গেছে। এত শক্তিশালী মাধ্যম যে সমাজকে পাল্টে দিচ্ছে এবং একটি সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে সব জিনিস বের হয়, লেখালেখি হয়, তাতে করে একজন রাজনীতিবিদের চরিত্র হরণ করতে এক সেকেন্ডও লাগে না। এই বিষয়গুলো আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। ফলে অনেকেই ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন পান না। এ সময় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকতাকে কখনো ছোট করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক মানিক মিয়া মন্ত্রী না হয়েও মন্ত্রী তৈরি করেছেন। সাংবাদিকদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই অভিযুক্ত বা বিপরীত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য প্রচুর পড়াশোনারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলার ৭ উপজেলা থেকে আগত সাংবাদিকেরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফসহ অন্যান্য নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. আব্দুল লতিফ।
৬৮ দিন আগে
প্রথম ১০০ দিনে ২০০ উদ্যোগ গ্রহণ, দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি সরকারের
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০টি উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার ফলে জনজীবন ও সমাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং প্রকাশিত এক ই-বুকে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ই-বুকটি পিএমওর ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন খাতভিত্তিক কার্যক্রম, নীতিগত পদক্ষেপ এবং উল্লেখযোগ্য অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশনায় বলা হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ই-বুকটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
ই-বুকে উল্লেখ করা হয়, এসব উদ্যোগ ও প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার জাতির সামনে আশার বার্তা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রকাশনাটিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার।
এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, সীমিত কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও সরকার দ্রুত জনমুখী ও নীতিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই সময়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগে ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তামূলক কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
ই-বুকে উল্লেখিত প্রধান উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক ভাতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক নতুন কর্মসূচি।
এতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত করা, সরকারি ব্যয় কমানো, মাঠপর্যায়ের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার মতো প্রধানমন্ত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক বার্তাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
তবে প্রকাশনাটিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারপরও সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম, সক্রিয় ও জনমুখী প্রশাসনের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, অনেক কর্মসূচি এখনও বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ই-বুকে আরও বলা হয়, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেসব প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেয়, তার ওপরই নেতৃত্বের মূল্যায়ন নির্ভর করে।
প্রকাশনাটিতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনা বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
ই-বুকে বলা হয়েছে, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই নীতিনির্ধারণে গতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রবণতার লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা নিশ্চিত করা।
৭০ দিন আগে
সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’
তিনি দাবি করেছেন, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের একশ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন।
তিনি আরও বলেন, গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।
৭২ দিন আগে