চুরি
মতলবে দেড় মাসে ২৫ ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক গ্রাহক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও জনভোগান্তি বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এগুলো নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিপাকে পড়ছেন উপজেলার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক।
পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান ইউএনবিকে বলেন, ‘গত জুলাই মাস থেকে চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মতলব উত্তরের ছেংগারচর, সুজাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘আসলে গত জানুয়ারি মাস থেকেই মতলব উত্তরে দুই-একটি করে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুরো চোরচক্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যানসহ ট্রান্সফরমারের ভেতরে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে পিকআপ ও মালামাল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘টানা আনোয়ার’ (৪২) নামে নিশ্চিন্তপুর এলাকার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘এলাকায় ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছুদিন আগে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।’
এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ওই টিমের অভিযানে প্রথমে আনোয়ারকে আটক করা হয় জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, আনোয়ার ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অথবা চুরি করা মালামাল তার কাছে বিক্রি করা হতে পারে।
পরে চুরি করা মালামাল একটি পিকআপে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। স্থানীয় সোর্স, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পিকআপটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি জব্দ করা হয়।
ওসি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ট্রান্সফরমারের ভেতরে কয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে কর্মকর্তারা এসব মালামাল পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘চোরচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আটক আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান ওসি।
পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে চুরি প্রতিরোধে ব্যাপক মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ কাজে পুলিশও সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যার মালিক জনগণ।’
মতলব উত্তর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলায় ট্রান্সফরমার রয়েছে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি।
ধারাবাহিক চুরি বন্ধে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের অভিযান আরও জোরদার এবং চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি কামরুল হাসান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে থানার পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৪ দিন আগে
চুরি দেখে ফেলায় কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, যুবক আটক
রংপুর নগরীর পূর্ব শালবন শিক্ষাঙ্গন এলাকায় গভীর রাতে চুরি করতে ঢুকে এক কিশোরীকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মোহাম্মদ আশিক (২২) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আশিক তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে পূর্ব শালবনে ভাড়া থাকেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে ভেন্টিলেটর (ঘুলঘুলি) দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত আশিক। এরপর তিনি ঘরের কোণে থাকা কাপড় রাখার একটি বড় ঝুড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকেন। ওই পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় কিশোরী বিষয়টি টের পেয়ে জেগে উঠলে আশিক তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সজোরে টান দেন।
স্থানীয় মুসলিম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় দেখি চোর ধরা পড়েছে। মেয়েটা টের পেয়ে উঠে দাঁড়ালে ওই ছেলে ওড়না দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে টান দেয়। মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে যুবককে ধরে ফেলেন। পরে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা ওই যুবককে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরি করতে ঘরে ঢোকার পর কিশোরী তাকে দেখে ফেলায় শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত আশিক বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
এর আগে, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে ঘরের ভেতরে ঢুকে এই হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
রাজবাড়ীর পাংশায় মোটর চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের মিলে মোটর চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা জজ আলীকে আটক করে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তার ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবা-মাঝাইল গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মারামারি চলে আসছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের পক্ষের জামিন বিশ্বাস নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা গেল মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন।
মিজান বিশ্বাস বলেন, ‘আরিফ নামে একজন আমার চাচার পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কী হবে?’
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে আমি ঘটনাটি ফোনে জানার পর বলেছিলাম, আপনারা তাকে মারধর করবেন না, আমরা আসছি। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আমরা তাকে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এজন্য আমরা সুরতহাল তৈরি করে লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
১৬ দিন আগে
প্রতিবন্ধী লুৎফরের দোকানে ফের চুরি, দিশেহারা পরিবার
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মো. লুৎফর রহমান লুতু নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির টং দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুরে এ ঘটনা ঘটে। মো. লুৎফর রহমান লুতু শোভারামপুর এলাকার দক্ষিণপাড়া সরদার বাড়ির মরহুম খুরশেদ মিয়ার ছেলে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফর জানান, এই ছোট্ট টং দোকানটিই ছিল তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এর আগেও তার দোকান থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছিল। এবার আবারও নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। একের পর এক এমন ঘটনায় পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লুৎফরের ক্ষতিপূরণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৯ দিন আগে
বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয়: প্রতিমন্ত্রী
দেশে ফেরা হাজিদের বিমানবন্দরে ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনের কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশুদিন যেসব হাজি হজ থেকে ফিরেছেন, তাদের লাগেজ-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কাটা হয়েছে এবং লাগেজগুলি থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। ওই পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দেন এবং আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এটা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেই।
তিনি বলেন, আজকে আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি যাতে করে বস্তুনিষ্ঠ বিষয়টা আপনাদের জানাতে পারি। আপনারা জানেন যে প্রায়ই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ার সংবাদে আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। তাতে করে বিভ্রান্তিটা নিরসন হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়ে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই।
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে কর্তৃপক্ষ পাঠায়। ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া এবং কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জানা যায়।
৯২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে কান্তা বেগম ওরফে লেডি কান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার কান্তা বেগম (লেডি কান্তা), হাছননগর এলাকার সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ জানায়, অভিনব কৌশলে চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। বাসাবাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলে তারা আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।
তবে চুরির সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কারো কাছে ধরা পড়লে বা কেউ তাদের বাধা দিলে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। তখন তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যেত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। গতকাল (রবিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের লুকিয়ে রাখা ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডি কান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, জেলা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
৯৫ দিন আগে
গাজীপুরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
রবিবার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১১৭ দিন আগে
সাতক্ষীরায় মন্দিরে চুরি, ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ নিয়ে গেছে চোরের দল।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্দিরে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত ওই মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা মায়ের বাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি হার, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, ‘দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বার বার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।’
সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
১৭৭ দিন আগে
হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশ, অপমান সইতে না পেরে তরুণের ‘আত্মহত্যা’
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করেন ও হুমকি দেন। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৭৯ দিন আগে
মোবাইল চুরি নিয়ে সিলেটে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বোয়ালজুড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল আলী (২২) উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইলের বড় ভাই মামুনের সঙ্গে ছাত্রদলকর্মী হাসানের বিরোধ হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ইসমাইল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮৭ দিন আগে