শিক্ষক
আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে বেরোবির চার শিক্ষকের ১২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চার শিক্ষকের ১২টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন (পিয়ার রিভিউ) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম), একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতি সংখ্যা) বাড়ানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়।
বেরোবির প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের ১০টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা লিটনের যৌথ ১টি ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল কবির বিপ্লবের ১টি গবেষণাপত্র রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ ডেটাবেস’-এর তথ্য বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে আসে। ওই ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা-নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণাপত্র বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার হতে পারে। তবে যদি অনিয়মের কারণে প্রত্যাহার হয়, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো নীতিমালা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধান নেই, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।’
এ বিষয়ে বেরোবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘অনিয়মের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের এক বছরের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন যাদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ‘কেন এমনটা হলো, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’
১ দিন আগে
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান, নওগাঁয় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাতেই বিদ্যালয়-সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং একখণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ১৭ শিক্ষার্থী আহত হয়।
১২ দিন আগে
‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক’ তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে ছোট কোমলমতী শিশুগুলো আছে, তাদের আমাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি মানবিক মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রটি রচনা করতে পারব।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করুন। এই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের দরকার, সেই সৈনিকরা কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, আপনাদের সামনে আছে। সেই সৈনিকদের আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনারাই তাদের গড়ে তোলার কারিগর।
২০ দিন আগে
অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত কলেজশিক্ষক সাজু বাঁচতে চান
সফিকুল ইসলাম পেশায় সরকারি কলেজের শিক্ষক। পরোপকারী, সদাহাস্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত মানুষটি নিজ গ্রামের মানুষের কাছে সাজু নামেই পরিচিত। সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় সাজু স্যার। তবে শিক্ষার্থীদের প্রিয় সেই ‘সাজু স্যার’ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
অগ্নাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) চতুর্থ ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত সাজুর ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তাই প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন এই শিক্ষক।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সাজু ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কবিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের জনক সাজু দীর্ঘদিন ধরে একজন পরোপকারী, সদাহাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি এলাকায় ‘সাজু স্যার’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অগ্নাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগটি ইতোমধ্যে চতুর্থ ধাপে পৌঁছেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত দেশে কেমোথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ভারত অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে চিকিৎসা বাবদ আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার। সবার সম্মিলিত সহায়তায় তিনি সুস্থ হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
হিসাবের নাম: মো. সফিকুল ইসলাম
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, কালামুন্সি বাজার শাখা, কবিরহাট, নোয়াখালী
হিসাব নম্বর: ৩৮১২১০১০২৬৭২
রাউটিং নম্বর: ২০০৭৫১২৭০
বিকাশ/নগদ (ব্যক্তিগত): ০১৭০১৩০০৫০০
২৭ দিন আগে
ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হয়রানি, বাধা দেওয়ায় টিসি দেওয়ার অভিযোগ মাদরাসা সুপারে বিরুদ্ধে
যশোরের শার্শা উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব, নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের (সুপার) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গতকাল (বুধবার) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার ওই শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ভয়ে দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে কিছু বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে সে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রস্তাবে রাজি না হলে ভুক্তভোগীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এমনকি গত ১৮ জুন রাতে ওই শিক্ষক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এতে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর হাত ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা ।
এরপর গত ২৯ জুন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মেয়েটির বাবার হাতে টিসি (স্থানান্তর সনদ) ধরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে তার মেয়ের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও ওই মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৩ দিন আগে
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮৪৮৬ শিক্ষকের পদ শূন্য: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী
দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক।
রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বৈঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে ৮ হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন, আর ৮ হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (নবম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (দশম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরইমধ্যে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে পিএসসিতে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমেও শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে পদোন্নতিযোগ্য ৪ হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাবে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একই শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তকও চালু করা হবে। বইটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিখনপ্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবদ্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। যার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।
বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগসরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪ টি। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ২ টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।
৩৭ দিন আগে
২০২৮ সালের পর প্রাথমিকে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে আইইউবি এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে ‘আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নীতিমালা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে শিশুকে। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শেখা তাদের কাছে বোঝা না হয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ সময় তিনি এনসিটিবিকে অযাচিত প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগতভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যদি আর্থিক, সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কখনোই অর্জন করা যাবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে এক শিফটে রূপান্তরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই শিফটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ পাচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘ওয়ান-শিফট স্কুলে’ রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৮ সালের পর দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক পাঠদান করবেন না। সরকারি, বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন কিংবা ইংরেজি মাধ্যম—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই নীতি প্রযোজ্য হবে।
আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৩ দিন আগে
নওগাঁয় রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেল স্টেশনের পাশে শিমুলিয়া নামক স্থান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
নিহত নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশিরের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর তার বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন শিমুলিয়া নামক স্থানে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ‘সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
৪৯ দিন আগে
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
৫১ দিন আগে
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৭৫ দিন আগে