পিটিয়ে হত্যা
সাভারে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধ, এসবি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা
সাভারের আমিনবাজারে ছেলের পোশাক কারখানার সামনে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একদল হামলাকারীর মারধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) ঢাকা সিটি এসবির মার্কেটিং ইন্টেলিজেন্সে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়া গ্রামের মৃত জুরান আলী শেখের ছেলে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আলতাফ তার পরিবারের সঙ্গে ওই এলাকায় বসবাস করতেন।
এসবি থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, ওই এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নিয়ে আলতাফ ও তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামের (২৬) সঙ্গে বড় ছেলে শরীফের (৩৩) মালিকানাধীন পোশাক কারখানার সামনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তারা আলতাফ ও আরিফুলের ওপর হামলা চালালে তারা আহত হন।
পুলিশ আরও জানায়, মদিনা হাউজিং এলাকায় মো. আলামিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আলতাফ। ওই এলাকায় তার পাঁচ শতাংশ জমিও ছিল, যেখানে ছোট পোশাক কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পোশাক কারখানার সামনে একটি গাড়ি পার্ক করা নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা রাত ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে আরিফুল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে জহুরুল ইসলাম (৩০) নামের একজনকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আটক করেছে। তিনি মুসলেম উদ্দিনের ছেলে।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় অটোরিকশাচালককে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রাজধানীর ডেমরায় মাত্র ১৫০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রনি নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেমরার কামারভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠায়।
নিহত দেলোয়ার ওই এলাকার মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত রনি একই এলাকার বাসিন্দা। পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রনিকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল কুমার বলেন, দেলোয়ার ও রনি পরস্পরের পূর্বপরিচিত। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দেলোয়ার রনির কাছে ১৫০ টাকা পেতেন। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে ঝগড়া হয়। পরে রনি ইট দিয়ে দেলোয়ারের মাথায় আঘাত করেন।
তিনি আরও জানান, রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘটনাটি ঘটতে পারে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ারের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রনি মাদকাসক্ত এবং তিনি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনার সময় সেখানে আর কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইটটি কোথায় রয়েছে, সেসব বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
রাজবাড়ীর পাংশায় মোটর চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের মিলে মোটর চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা জজ আলীকে আটক করে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে তার ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবা-মাঝাইল গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মারামারি চলে আসছে। প্রায় দেড় মাস আগে তাদের পক্ষের জামিন বিশ্বাস নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা গেল মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন।
মিজান বিশ্বাস বলেন, ‘আরিফ নামে একজন আমার চাচার পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হয়। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কী হবে?’
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে আমি ঘটনাটি ফোনে জানার পর বলেছিলাম, আপনারা তাকে মারধর করবেন না, আমরা আসছি। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আমরা তাকে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এজন্য আমরা সুরতহাল তৈরি করে লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
১৭ দিন আগে
কুমিল্লায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান, আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন; বাবা দোকানে চা পান করতে গিয়েছিলেন। এমন সময় দুষ্কৃতকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এ সময় আমাদের পাশের ঘরের এক জেঠা আমার মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি, তাতে ধারণা করছি যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পাারিনি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটনসহ দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
১৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে সিকিউরিটি গার্ডকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ৭ আসামি গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিংয়ে গ্যারেজে ঢুকে এক নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— শেখ আহমেদ রুবেল (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মনিরুজ্জামান মামুন (২৮), মো. জামাল উদ্দিন মিজান (৪৫), মো. গোলাম রব্বানী (৫৫), মো. আবুল বাশার (৩৯) ও পেয়ার আহাম্মদ (৫৫)।
নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আবু সিদ্দিক। গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে ডবলমুরিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ফয়সাল আহম্মেদ জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে গ্যারেজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মী আবু সিদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তাকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন গ্যারেজে থাকা রিকশার চাকার লোহার রিং দিয়ে সিদ্দিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে গ্যারেজের ভেতরে থাকা একটি মিনি পিকআপে মরদেহ রেখে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে মামলার বাদী মো. আসলাম (৩৪) এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় আজ সকালে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলা করার পর ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিংয়ে গ্যারেজে ঢুকে এক নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— শেখ আহমেদ রুবেল (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মনিরুজ্জামান মামুন (২৮), মো. জামাল উদ্দিন মিজান (৪৫), মো. গোলাম রব্বানী (৫৫), মো. আবুল বাশার (৩৯) ও পেয়ার আহাম্মদ (৫৫)।
নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আবু সিদ্দিক। গত ১৫ জুলাই রাত ১০টার দিকে ডবলমুরিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ফয়সাল আহম্মেদ জানান, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে গ্যারেজে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মী আবু সিদ্দিকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তাকে কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন গ্যারেজে থাকা রিকশার চাকার লোহার রিং দিয়ে সিদ্দিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। হামলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে গ্যারেজের ভেতরে থাকা একটি মিনি পিকআপে মরদেহ রেখে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে মামলার বাদী মো. আসলাম (৩৪) এজাহারে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় আজ সকালে ডবলমুরিং মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলা করার পর ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
৫০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আল ফালাহ’ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। গতকাল (শনিবার) নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।’
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তারে মেরে ফেলে, তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
১০৮ দিন আগে
গাজীপুরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
রবিবার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১১৯ দিন আগে
রাজশাহীতে ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বেলগাছি পূর্বপাড়া এলাকায় পাঠক ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলম আলী (৪৩) উপজেলার বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মজিবর রহমান আলম আলীর চলন্ত ভ্যান থামানোর জন্য সংকেত দেন। তবে ভ্যানচালক আলম কিছুটা সামনে গিয়ে ভ্যান থামালে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে মজিবর ইট দিয়ে আলমের মাথার পেছনে কয়েকটি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ভ্যান থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত মজিবরকে পাঠক ক্লাবে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিবরকে উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলালউদ্দিনসহ দুই সদস্য সামান্য আহত হন। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাস্সের হোসেন খাঁন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪৮ দিন আগে
বরিশালে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা, জড়িত অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চরহোগলা গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম খোরশেদ সিকদার (৬৫)। পুলিশের সামনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও সংঘর্ষ থামাতে এবং খোরশেদ সিকদারকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোরশেদ সিকদারকে কয়েকজন মিলে বেদম মারধর করছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনেই ঘটছে এ ঘটনা। পুলিশ সদস্যরা হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। চেয়ার আর লাঠির উপর্যুপরি আঘাতে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোরশেদ সিকদার। পরে তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতেই বিষয়টি জানানো হয়।
মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ জানান, ঘর নির্মাণের পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যাক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল।
১৬৭ দিন আগে