দুর্নীতি
প্রতিশোধপরায়ণ হইনি, হতে চাই না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনও হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় দাসত্বে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীকে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতে হয়েছে। তারা এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে এবং করে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু দেশের গুটিকয়েক মানুষ করছে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও মাদকের চালান আসছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দুইভাবে হয়—একটি অর্থনৈতিক, অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক। এই দুই ধরনের দুর্নীতি আমাদের বন্ধ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনো হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলছি। সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে, সেটাকেও আমরা বিবেচনায় নেব না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বাদী হতো পুলিশ। ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা করেছে—এমন একটি উদাহরণও নেই। তবে কোনো ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করতে পারবে না; বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই ব্যালান্সের জায়গায় আমরা এসেছি। আগের মতো মিথ্যা গায়েবি মামলা আর নেই।
মতবিনিময় সভায় জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
৬ দিন আগে
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
২৩ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের চার কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি পৃথক মামলার পৃথক দুটি ধারায় চারজনকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইনছার আলী, সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস ও সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
দুদক খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের সরকারি কৌঁসুলি মো. মোফাককার হোসেন মনি জানান, একটি মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনজনকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের তিন লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে আরও ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩১ দিন আগে
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হলে তদন্ত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, অস্পষ্ট বা সাধারণভাবে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অভিযোগের ধরন এবং কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দুর্নীতি হয়েছে’ ধরনের অভিযোগ আইনের ভাষায় ‘ভেগ অ্যান্ড ইনডেফিনিট’। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং একজন অভিযোগকারী থাকতে হবে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জাদুঘরের উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আসলে দুর্নীতির কোনো কিছু আছে কি না তা তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আইনগত তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রয়োজন। অভিযোগে দুর্নীতির বিষয় থাকলে তা দুদকে পাঠানো হবে। আর ফৌজদারি অপরাধের বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা জনসভায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয়। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের জন্য আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রয়োজন মনে করলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘরের জনবল নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী করা হবে। জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আগামী ৫ আগস্ট থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকবে বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী।
৪৬ দিন আগে
২০২২ বিশ্বকাপ সম্প্রচারে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব বিটিভিকে কিনতে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল। অথচ এবার সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় পুরো খরচই তুলে এনেছে।
বর্তমানে সরকারের ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা, সেটিও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল, দেশের মানুষকে খেলা দেখাতে হবে, তবে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, ফিফার সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে মিডিয়া স্বত্ব কেনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরপর দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিং করে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এখনও সাব-লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেটি সফল হলে এই ঘাটতিও আর থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেই স্বত্ব নিয়ে বিটিভির কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট সম্প্রচারস্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩২ লাখ ডলার, বাকি অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে গেছে। জনগণের করের ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করে বিটিভি সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ দেখানোর নামে কীভাবে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সঙ্গে তুলনা করলেই তা পরিষ্কার হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে। মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছিল না। ফলে অল্প ব্যয়ে দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ দেখানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় বিটিভি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির মহাপরিচালক মাহবুব বলেন, বিটিভির ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রায় নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এখনও রাজস্ব ভাগাভাগির কিছু বিষয় বাকি রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলে সরকারের আর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচারের সময় ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সময়ের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে পুরো আয়োজন লাভজনক অবস্থানে চলে যাবে। বিটিভির প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন এবং বিটিভির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহ আলম বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিটিভি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা সেগুলো সফলভাবে প্রতিরোধ করেছেন। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল, তারাই সম্প্রচার করতে পেরেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবে।
বিটিভির মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে বিটিভির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে বলে তার জানা আছে।
পরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় তদন্ত চলছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা বিটিভির পক্ষ থেকে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।
ক্রীড়াবিদ তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রীড়াকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকেই চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃতি ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা এবং স্পোর্টস কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিটিভির ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনমত গঠন এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিষয়গুলো নিয়ে বিটিভিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
৬২ দিন আগে
যেখানেই অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি পাওয়া যাবে, সেখানেই চাকরিচ্যুত করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘ট্রান্সফার বা বদলিতে আমি বিশ্বাস করি না। কাজ করতে হবে সততার সঙ্গে। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এটাকে আমরা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না।’
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। ফ্যামিলি প্লানিং সেন্টারগুলোকে উন্নত করা হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এই বছরেই একটা বিপ্লবের সূচনা করতে চাচ্ছি আমরা। প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি যাতে জনগণের উন্নয়ন করা যায়, বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো যায়। আমাদের এবারের বাজেট কোনো টাকার বাজেট না, এটা আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শকে দুর্নীতি মুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে নরসিংদী মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটে হবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। আর নরসিংদী নার্সিং ইন্সটিটিউটের ক্লাস হবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনে। মেডিকেল কলেজের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে, খুব শিগগিরই জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চায়নার সহযোগিতায় যে অত্যাধুনিক ১৮টি হাসপাতাল বাংলাদেশে হবে, এর একটি হবে নরসিংদীতে। তবে চেষ্টা করব শহরের আশপাশে করতে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথিরাসহ নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও এতে অংশ নেন।
৭৭ দিন আগে
দুর্নীতির দায়ে ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীর শাস্তি
ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অসদাচরণ ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং অপরজনকে বেতন গ্রেডে এক ধাপ অবনমিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখতে ভূমি মন্ত্রণালয় কঠোর ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৫/২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলায় রংপুর সদরের সাবেক কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী (বর্তমানে পাবনার বেড়া উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত) মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ২৪/২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের রেকর্ড কিপার রেজভীন আখতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বেতন গ্রেডের এক ধাপ নিম্নে অবনমিত করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় বলেছে, ভূমি সেবাকে হয়রানিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও আরও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৮২ দিন আগে
দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, চেইন অব কমান্ডে আপস নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। তাই সাইবার ক্রাইম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি এলিট ফোর্সের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ ফোর্সের জন্য হবে।
এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া জমি পাওয়া সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে।
অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।’
তিনি পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব ধরনের সেবা দ্রুততম সময়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে প্রতিটি থানাকে সেবার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, আধুনিক পুলিশিং ডকট্রিন (পুলিশি মতবাদ) অনুযায়ী প্রিভেন্টিভ পুলিশিং বা অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের আলোকে পুলিশের আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
এতে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
১৩১ দিন আগে
রূপপুর থেকে পদ্মা সেতু: মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’র চিত্র তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের এসব অনিয়মের ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাভাবিকভাবে যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, আমরা প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টর খুব ভঙ্গুর অবস্থায় পেয়েছি। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যখন সরকার যাত্রা শুরু করে, সেরকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা এই দেশটিকে পেয়েছি।’
তিনি বলেন, বর্তমানে দায়িত্বে থাকার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিস্থিতি জানার সুযোগ হচ্ছে। কয়েকদিন আগে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন অডিট রিপোর্টের বিষয় তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আমি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করছি না, আমি বাস্তবতা তুলে ধরছি। আমি কাউকে রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করছি না। এদেশের নাগরিক আমরা-আপনারা, আপনাদের সন্তানরা এদেশে বড় হচ্ছে, সেজন্যই আমি কথাগুলো তুলে ধরছি।’
অডিট প্রতিবেদনের কিছু তথ্য পরে সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অডিটর জেনারেল সাহেবের অনেকগুলো কথার মধ্যে আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি। আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম। স্বাভাবিকভাবে পত্রিকায় ওভাবে না দেখলেও অডিটর জেনারেল যেহেতু অডিট করেছেন, পরিষ্কারভাবে কথাগুলো ফুটে উঠেছে বা বেরিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের জন্য ফুল-ফার্নিশড কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। সেখানে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে চিন্তা করতে পারেন, কখনো কোনো বালিশের দাম পৃথিবীতে ৮০ হাজার টাকা হতে পারে?’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে ফার্নিচার যেহেতু ছিল, ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে। এটি অডিটর জেনারেল সাহেবের কথা। যে ড্রেসিং টেবিল উনার ধারণা ৩০/৩৫ হাজার টাকা দাম, সেই তার দাম ধরা হয়েছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।’
গত ৫ মে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট জমা দেন।
রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই রূপপুর প্রকল্পটি… সিমিলার (একইরকম) প্রকল্প আমাদের পাশের একটি দেশ করেছে। তাদের লেগেছে সম্ভবত ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো। বাংলাদেশের রূপপুরে যে প্রকল্পটি করা হয়েছে, এটির খরচ আল্টিমেটলি খুব সম্ভবত দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা।’
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, টানেলের ওপারে ‘খুব স্ট্যান্ডার্ড, বেশ লাক্সারিয়াস’ অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। সেখানে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন, অডিট তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে কর্ণফুলী টানেলে ঢোকা ও বের হওয়ার মুখে দুই পাশে গাছ লাগানোর কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই গাছের জন্য ৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে।’
১৩১ দিন আগে
মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান: মন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠ পর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যদি আমাদের দলের কোনো ব্যক্তিও এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তবে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ সরকার মেনে নেবে না।
দীপেন দেওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করা হবে।
মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকাংশেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি কর্মীকে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রী বান্দরবান জেলা সদরে রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও কৃষ্টি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
১৫৬ দিন আগে