ড্রোন হামলা
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৬০
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের প্রভাব রুশ নাগরিকদের অনুভব করানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। এর একটি তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি মস্কোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত।
হামলার পর দুটি গুদামেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম শনিবার সকালে জানান, কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ইলেকট্রোস্তালের স্থাপনায় ব্যাপক আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেলের ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানেও আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আশপাশের একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসী দেশ (রাশিয়া) এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপাদান সরবরাহ করত।’ এছাড়া একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কাজ করা সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
ইলেকট্রোস্তাল শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনেও আঘাত হানে বলে জানান ভোরোবিয়ভ। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এছাড়া মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভ্লাদিমির শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে বলে জানান ওই অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার আভদেয়েভ। এ ঘটনায় অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর ও রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৯টি অঞ্চল, অবৈধভাবে সংযুক্ত ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
৩ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
১৫ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
১৯ দিন আগে
ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ট্যাঙ্কার অচল করার পাশাপাশি ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে চলমান প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানে প্রবেশের সময় একটি টাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি তাদের আরোপিত অবরোধ অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা ইরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে ইরানের কেশম দ্বীপের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, কেশমে হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে।
সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। বতসোয়ানার পতাকাবাহী খালি ট্যাঙ্কারবাহী এমটি লেক্সি জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় জাহাজটি ২৪ ঘণ্টা ধরে দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করছিল। এরপর একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির ইঞ্জিন অচল করে দেওয়া হয়। খার্গ দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির উত্তরে কুয়েতের কাছাকাছি অবস্থিত।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে। একইসঙ্গে কুয়েত তাদের জনগণকে হামলা প্রতিহত করার সময় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, ধারালো বা অজ্ঞাত কোনো বস্তুর কাছে না যেতে সতর্ক করে দেয়। প্রায় একই সময়ে বাহরাইনেও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শোনা যায়।
সেন্টকম জানায়, কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাহরাইনের দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে।
পরে সেন্টকম জানায়, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেটিও প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, তারা তিনটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ড্রোনগুলো ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আঞ্চলিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির স্থবিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে উপস্থিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার রুবিও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখন নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে, যেগুলো নিয়ে এক মাস আগেও তারা আলোচনা করতে রাজি ছিল না।
তবে রুবিওর এই মন্তব্য ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা। এর যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নতুন সমঝোতা হওয়ার পরও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অথচ, ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও শক্তিশালী করা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার জানান, তিনি বৈরুতে ইসরায়েলের একটি সম্ভাব্য হামলা ঠেকিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। গোলাগুলি বন্ধ করতে তারা সবাই সম্মত হয়েছে।
তবে এর পরদিনই লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশেটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩০টি ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের সাইদা শহরের কাছে একটি ইসরায়েলি হামলার পর উদ্ধারকারীরা একই পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী ছিলেন।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহর বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ওই এলাকায় তারা হামলা চালিয়েছিল। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি জাহাজ অচল করেছে। তার মধ্যে এমটি লেক্সি হলো ষষ্ঠ জাহাজ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এ পর্যন্ত তারা ১২২টি জাহাজকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বাতিল করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন বাহিনী ইরানের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
৪৮ দিন আগে
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ভোরে মস্কো থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে হামলাটি চালানো হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান ডেনিস পুশিলিনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুশিলিন বলেন, ‘ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, কুরস্কসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, মস্কোর আশপাশ এবং আজভ সাগরের ওপর এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, শুধু ওই অঞ্চলেই অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
রাতভর ড্রোন হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহত্তর এই হামলার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়া ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো।
দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইউক্রেনের অন্তত ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের হামলার জবাব এবং অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, মে মাসের শেষ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় একটি শিক্ষার্থী আবাসনে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পর যে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিয়েভের দাবি, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তার দাবি, হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
৪৮ দিন আগে
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
৪৯ দিন আগে
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ২, আহত ২১
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভবন আবাসিক এলাকা ও স্কুলসহ অন্তত ৪০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ মে) সারা রাত কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজেছিল। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে এবং সরকারি ভবনের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সূর্য ওঠার পরও কিয়েভে হামলা চলছিল। এ সময় কিয়েভের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন তারা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রামে পোস্টে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাজারে ২২ বছর ধরে কাজ করাছেন কিয়েভের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী স্বিতলানা অনোফ্রিয়িচুক। তিনি বলেন, ‘গতরাত ছিল ভয়াবহ এক রাত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলার পুরো সময়টতে এমন বিস্ফোরণ আগে কখনও ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলছি, এখন আমার কিয়েভ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আর এখানে থাকছি না। এখানে থাকার কোনো উপায়ই নেই। হামলায় পুরো বাজার পুড়ে গেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
৭৪ বছর বয়সী কিয়েভবাসী ইয়েভহেন জোসিন বলেন, হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কুকুরটিকে আনতে দৌড়ে যান। তিনি বলেন, ‘তার ঠিক পরপরই আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের আঘাতে আমি আর আমার কুকুর দুজনই ছিটকে পড়ি। আমরা দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার বাসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, কিয়েভের শেভচেঙ্কো এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, ওই আবাসিক ভবনে একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার সময় মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেই স্কুল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুপারমার্কেট ও গুদামঘরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের ওপর হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা জানায়।
রাশিয়া প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে দ্বিতীয়বার রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জানিয়েছেন, ওরেশনিক শব্দের অর্থ হলো হ্যাজেল বাদাম গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি মাটির নিচে অনেক গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রটি উল্কাপিণ্ডের মতো ছুটে যায়। বিশ্বের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে থামাতে পারবে না। পুতিনের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পারমাণবিক হামলার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ওয়ারহেড বহন করেও এর আঘাত প্রতিহত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
৫৮ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
লেবাননের মহাসড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৮
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) তিনটি গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননেরর কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মহামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটনে আরেকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইসরায়েলর তিনটি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসড়কে চালানো এ হামলায় কোন গাড়িতে কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি তিনটি ড্রোন হামলার মধ্যে দুটি হামলা বৈরুত থেকে দক্ষিণের একটি মহাসড়কে চালানো হয়। মহাসড়কটি বৈরুতের সঙ্গে বন্দরনগরী সিডনকে সংযুক্ত করেছে। অপরদিকে, তৃতীয় হামলাটি সাদিয়াত শহরের ব্যস্ত মহাসড়কে চালানো হয়।
এ ছাড়াও, সিডনের উত্তরে বুধবার দুপুরের দিকে আরেকটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় তারা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক আলোকচিত্রী লেবাননের উপকূলীয় শহর বারজা ও জিয়েহর কাছে এই দুটি হামলায় নিহত তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারাও ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৮০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু সময় থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৮৬ জন।
৬৯ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার ২ যুবক নিহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়ের জেবদীন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা দুজনই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা।
সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে এই হামলা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম নাহিদ।
ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ ওই দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে মরদেহ দুটি নাবাতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী দফায় দফায় হামলা চালায়। নিহত বাংলাদেশিরা সেখানে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
৭০ দিন আগে