জাতিসংঘ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্মসূচি বিস্তারিত জানানো হবে। আমরা সম্ভবত ২১ তারিখ রওনা হব এবং ২৬ তারিখ পর্যন্ত নিউইয়র্কে থাকব। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন—নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে, তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকারে নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সে বিষয়ে তার ভিশন জাতিসংঘে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।’
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’
তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’
ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইনে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরাম এভাবেই কাজ করে। একজন নেতা শেষ মুহূর্তেও বলতে পারেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। বড় বড় সম্মেলনে এমনটাই হয়। সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে অনেক পরিবর্তন আসে। এসব যখন আসবে, যার সঙ্গেই বৈঠক হোক, আপনাদের জানানো হবে। আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ওই পদে দুর্নীতির অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই ‘দুঃখজনক’ ছিল। তার দাবি, তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই।’ একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে একটি অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফরেনসিক ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে আমরা কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ও অর্থ উদ্ধার করা যায়। যাতে জনগণ তাদের অর্থ ফিরে পায় এবং সেই অর্থ তাদের জন্য ব্যয় করা হয়, তা বিদেশে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে।’
৬ দিন আগে
আজ জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ও বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় ফোরামটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ড. খলিলুর রহমান মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন। এ সময় তিনি সভাপতি হিসেবে আগামী অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।
শপথগ্রহণের পর রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
১১ দিন আগে
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আইরিন জুবাইদা খান।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে বিশ্ব সংস্থাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি।
মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নে আইরিন খানের কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০২০ সাল থেকে তিনি মতপ্রকাশ ও মতামতের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন আইরিন খান। সংগঠনটির নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী তিনি।
২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন।
কর্মজীবনের শুরুর দিকে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) ২১ বছর কাজ করেন আইরিন খান। সেখানে ভারতের চিফ অব মিশন এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিভাগের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ সালে তিনি সিডনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ বইটির লেখকও আইরিন খান।
তিনি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল’ স্কুলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
২১ দিন আগে
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর, আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিবেদনটি অনুমাননির্ভর হওয়ায় সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি, সেটা পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না, রিপোর্টও এখনও পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি পত্রিকার অন্তরে, সেখানে বলা হয়েছে যে, তারা একটা অ্যাজাম্পশন (অনুমান) করেছে; অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ কোনো গুঞ্জন শোনেননি বলে জানান।
৩৩ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নিউইয়র্কে স্মারক সংবর্ধনা
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী সরকারের থ্রি-আর কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুসংহত করা।
একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
৪৪ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ প্রস্তাব গৃহীত
সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (কালচার অব পিস) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
প্রস্তাবটি উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।
তিনি প্রস্তাবটি নিয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও ব্যাপক সমর্থনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথম গৃহীত এ প্রস্তাবটি গত প্রায় আড়াই দশক ধরে জাতিসংঘে ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সংহতি ও অহিংসার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার পাশাপাশি প্রস্তাবটি সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
৫৬ দিন আগে
২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার সড়কমন্ত্রীর
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (২০ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মদশক (২০২১–২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।
মন্ত্রী সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।
আগামীকাল (বুধবার) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে সেতুমন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
৬০ দিন আগে
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করল বাংলাদেশ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত নিউ আরবান এজেন্ডার মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী আবাসন এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সোহেল মনজুর বলেন, বাংলাদেশ নগরায়ণকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু-সহনশীলতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সরকার সাশ্রয়ী আবাসনের সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগ নিউ আরবান এজেন্ডা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এর বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতমুখী নগর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী নগর অর্থায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে টেকসই নগরায়ণ ত্বরান্বিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘টেকসই নগর উন্নয়নের মাধ্যমে এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো মানুষ এবং কোনো অঞ্চল পিছিয়ে থাকবে না।’
৬৪ দিন আগে
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি হলেন বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর নতুন প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
পেশাদার কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক, জেনেভা, বেইজিং ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব তার নিবেদিত সেবার জন্য রোজা ওতুনবায়েভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জাতিসংঘ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইউএনএএমএর উপ-বিশেষ প্রতিনিধি কানাডার জর্জেট গ্যাগননের প্রতিও মহাসচিব কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
রাবাব ফাতিমার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনের ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
বর্তমানে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল দেশবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন।
ওই দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০২০ সালে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড এবং ২০২২ সালে ইউএন-উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২১ সালে ইউএনডিপি/ইউএনএফপিএ/ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহসভাপতি ছিলেন।
২০২২ সালে তিনি শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের চেয়ার হিসেবে নির্বাচিত প্রথম নারী হন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাবাব ফাতিমা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনবিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় সংস্থাটির আঞ্চলিক প্রতিনিধি ছিলেন।
এছাড়া ২০০৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত লন্ডনে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাবাব ফাতিমা।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নিজের মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন এবং হিন্দি ও উর্দু ভাষায় কাজ চালানোর মতো জ্ঞান রয়েছে তার।
৬৫ দিন আগে
এলডিসির চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিকতার বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপাক্ষিকতার (মাল্টিলেটারালিজম) বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হলরুমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জরুরি পদক্ষেপের জন্য পাঁচ দফা অগ্রাধিকার উপস্থাপন করে তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্রুপ সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে, যাতে মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে (টার্নিং পয়েন্টে) পরিণত হয়। এর ফলে উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে, আস্থা পুনর্গঠন ও কাউকে পেছনে না রেখে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।’
এলডিসি গ্রুপ টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির (দোহা প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন-ডিপিওএ) প্রতি তাদের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এই দুটি কাঠামো এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর টেকসই, সহনশীল উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু উত্তরণের পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, আমরা যখন ২০৩০ সালের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি, তখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস, ডিজিটাল বৈষম্য বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নে সীমিত সুযোগ—এসব বিষয় আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অব্যাহতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ শুধু ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশিসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশকে টেকসই ও অপরিবর্তনীয়ভাবে উত্তরণের লক্ষ্যসহ দোহা কর্মসূচির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে উত্তরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তাদের এখনও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
অভূতপূর্ব রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বৈশ্বিক অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, জটিল দেশীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে উত্তরণের পথে থাকা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি-এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার জোরদারের জন্য কৌশলগত কারণে এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, এসব দেশের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা, সহনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী বছর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির (ডিপিওএ) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং গৃহীত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।’
তিনি বলেন, মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা যাতে রূপান্তরমূলক এবং বাস্তবায়নযোগ্য ফলাফল বয়ে আনে তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের শীর্ষ পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ।
জরুরি পদক্ষেপের জন্য পাঁচ দফা অগ্রাধিকার
এ সময় জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
প্রথমত, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বল্পসুদে ঋণসহ অনুকূল অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, সহনশীল অবকাঠামো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। এ জন্য অনুকূল অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ, টেকসই ঋণ সমাধান এবং আরও ন্যায্য অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে সহজলভ্য, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দেশগুলোর ঝুঁকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘অভিযোজন, সহনশীলতা বৃদ্ধি, জ্বালানি রূপান্তর এবং “লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড”-এর জন্য প্রদত্ত সহায়তা অতিরিক্ত, পর্যাপ্ত এবং সহজলভ্য হতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোও জরুরি।’
চতুর্থত, সুরক্ষাবাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে এবং স্বচ্ছ, সহজ ও উন্নয়নবান্ধব নীতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
পঞ্চমত, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলো উদ্ভাবনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
৬৮ দিন আগে