সড়ক অবরোধ
দুই মাস ‘বেতন বন্ধ’, বরিশালে ফরচুন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া বেতন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার (ওভারটাইম) মজুরি পরিশোধ, কাজের নিরাপত্তাসহ আট দফা দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ফরচুন সুজ লিমিটেডের শ্রমিকরা।
আন্দোলনে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত নতুন বাজার সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সড়কের একপাশে সরিয়ে দিলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশ শ্রমিক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টায়ও সড়কের একপাশে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। নিয়মিত ওভারটাইম করানো হলেও সেই কাজের মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না। শ্রম আইন অনুযায়ী, ওভারটাইমের জন্য মূল মজুরির দ্বিগুণ পাওয়ার কথা থাকলেও তারা এক টাকাও পাননি বলে দাবি করেন।
শ্রমিকরা বলেন, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালে উল্টো মানসিক হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। এমনকি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা। তাই বকেয়া বেতন-ভাতাসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমের মজুরি এবং অন্যান্য দাবি মেনে নিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এ বিষয়ে ফরচুন সুজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগর পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ধীরগতিতে যান চলাচল করায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিক্ষোভকারীদের সড়কের একপাশে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’
৫ দিন আগে
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সিলেটের চা শ্রমিকরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সিলেটের খাদিম চা বাগানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক, বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সঙ্গে চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি চা শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা শ্রমিকের প্রাণের দাবি।
ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা আরও বলেন, এই ভূখণ্ডে চা শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চলল। অথচ, আজও তারা ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ তার বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য রাজপথে নেমে সড়ক ছেড়ে দিলেও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর রাজপথ ছাড়ব না।
এর আগে, খাদিম চা বাগানের লোহার পুল এলাকা থেকে একটি বিশালাকার বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
১০ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জিরো পয়েন্ট মজমপুর এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে কুষ্টিয়ার ব্যস্ততম এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কুষ্টিয়া-বটতৈল ও কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন। এ সময় ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি আর বন্যার মধ্যে আমরা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেব? অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেনি। অথচ আমাদের দুর্ভোগের সমাধান না করে উল্টো দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা ফার্মের মুরগি নই যে খাঁচায় বন্দি থেকে সব মেনে নেব। আমাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
আরেক পরীক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ১৩ জুলাইয়ের বৈরী আবহাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু একটা পরীক্ষা নতুন করে নিয়ে পুষিয়ে দেওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক যে ধকল গেছে, তা শিক্ষামন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল। আমরা পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস ও আমাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই।
এদিকে, আন্দোলন শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি গত সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এ পরীক্ষাটি নিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি, আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নিতে যাব—পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা, সে সময় আমরা এ পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়ার মজমপুর মোড়ে তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২০ দিন আগে
বরিশালে বকেয়া পরিশোধ ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে সিমেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কারখানার প্রধান ফটক থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা থেকে রূপাতলী গোলচত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এতে তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
সমাবেশে শ্রমিকরা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানা বিক্রি হলে তাদের চাকরি বহাল রেখে কারখানা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমস্যার সমাধান এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময়ে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুনের বৈঠকে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সব কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
৩৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওসমান গণি নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকার সড়ক অবরোধ করেন।
বুধবার (২০ মে) রাতে স্থানীয় দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত ওসমান গণি স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থানীয় বড় বিনাইর চর এলাকার মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় অবরোধকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা ওসমানকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি ছিল, ওসমান ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা প্রথমেই আমাকে এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আমার সামনে ওসমান ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংখ্যায় অনেক ছিল, তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল বলেন, ‘কাউন্দার চকে একটি জমি কিনে সেখান থেকে শ্রমিকরা মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে ভর্তি করতেছিল, আমি গাড়িতেই বসা ছিলাম। হঠাৎ একদল অস্ত্রধারী মুখোশ পরিহিত লোক ওসমান ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছিল, তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ওসমান গণিকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭৫ দিন আগে
বরিশালে নতুন কমিটির দাবিতে ছাত্রদল কর্মীদের সড়ক অবরোধ
বরিশালে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সদর হাসপাতালের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বরিশাল ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৮/৯ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন করে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। বহুদিন ধরে নতুন কমিটির দাবি উঠলেও তা পূরণ হয়নি। সেই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলটি জেলখানা মোড়, বিবির পুকুরপাড় হয়ে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরে কোনো কমিটি নেই। এখন টের পাচ্ছি, যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা নতুন করে কমিটিতে ঢোকার পায়তারা করছে। আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের পাশে পাইনি, তারা যেন এই কমিটিতে ঠাঁই না পায়। এজন্যই আমাদের এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভে উপস্থিত অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বলেন, আমরা নতুন কমিটি চাইছি। আমাদের যাদের ছাত্রত্ব আছে, তারাই যেন এই কমিটিতে থাকে। ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ যেন এই কমিটিতে না থাকে, এই দাবি জানাচ্ছি।
প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধের পর বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
১১৭ দিন আগে
সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে জীবননগরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় ৩০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা আজ (রবিবার) বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
১৫৬ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় নিহত ১, সড়ক অবরোধ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নির্মাণাধীন ‘তমি মার্কেট’ দখল চেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বালাশুরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বেলা ১১টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন— ওই এলাকার তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪) ও আব্দুর রহমান (২৩)।
বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-দোহার সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বালাসুর এলাকায় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে সাইকেল, অটোভ্যানসহ বেশকয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
১৮২ দিন আগে
রাজশাহীতে বাসচাপায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার যাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। এছাড়া একজন নারী ও পুরুষের লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- মুকুল হোসেন (৩৫), মোজাম্মেল হক (৫০), রিফাত হোসেন (৩০), আমিন (৪০) ও দুই শিশু। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘পুঠিয়া থেকে হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া নারী ও পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’
ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। এ ছাড়াও এ দুর্ঘটনার পর বাস চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপপরিদর্শককে (এসআই) অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তারা অবরুদ্ধ থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
১৯০ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ
চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট।। এর আগে গতকাল রবিবার রিটটি করেছিলেন স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শরু করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
তারা বলেন, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটকারী প্ররোচনার শিকার। তিনি রিট করে সকলের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আমরা নির্বাচন যথাসময়েই চাই। নির্দেশনা আসা না পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সড়ক অবরোধের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল (রবিবার) শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে এবং সে নির্দেশনার আলোকে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাতজন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপরদিকে হল সংসদে পদ সংখ্যা ৯টি।
এদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচারণার শেষ সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আজ (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
১৯৭ দিন আগে