অর্থমন্ত্রী
আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিটির ২০২৬ সালের ৫১তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর এ সুপারিশ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রথম প্রস্তাবের আওতায় বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রয়োজন হলে এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলে অতিরিক্ত কার্গো কেনারও সুযোগ রাখা হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এ এলএনজি কেনা হবে।
প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) দাম সুপারিশ করা হয়েছে জেকেএমের চেয়ে ০.১৭ ডলার কম।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিদ্যমান সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত কার্গোটি চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত রয়েছে এবং এর দাম বিদ্যমান চুক্তিতে উল্লেখিত দর থেকে ভিন্ন হবে।
৯ দিন আগে
আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতার ওপর সংসদীয় কমিটির গুরুত্বারোপ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
কমিটি পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কমিটির সদস্যরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ ও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতিও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শফিকুল রহমান (কিরণ), মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৩০ দিন আগে
টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী ডিজিটাল সংযোগ অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ও তাদের অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শক্তিশালী ইন্টারনেট, নাগরিকপ্রতি একটি ডিজিটাল ওয়ালেট এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো সম্ভব।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির সার্বিক গতি নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল অর্থায়নের সুফল পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল লেনদেন ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সহজ করেছে। এখন কৃষকরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবহাওয়া, সারের প্রয়োজনীয়তা ও কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কে তথ্য নিতে পারছেন।
আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের আওতায় দেওয়া ভাতা এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা প্রদানের জন্য ব্যাংকিং সেবা চালুর মাধ্যমেও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৪৫ দিন আগে
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবের পথে আরও এগোবে চট্টগ্রাম: অর্থমন্ত্রী
ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রামকে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক।’
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প এলাকায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যৌথভাবে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে বিশ্বখ্যাত ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
৬৫ দিন আগে
বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়; এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। বাজেট তৈরি ভালো হলেও এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।’ তিনি অর্থ বিভাগের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসে তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
প্রচলিত পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে আমির খসরু বলেন, সভাগুলোকে কেবল একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে (আউট অব দ্য বক্স) কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাজের পরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ না করে কাজের সুযোগ, নতুন ধারণা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। তিনি অর্থ বিভাগকে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যেখানে পর্যটনের উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কক্সবাজার অন্যতম ‘গ্রোথ হাব’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কক্সবাজারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
১০৩ দিন আগে
সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংস্কার কর্মসূচি ও একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতার প্রতিও সংস্থাটি সম্মান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রজনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন (সিকোয়েন্সিং) এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।
আমির খসরু বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
ভর্তুকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।
১১৩ দিন আগে
অনলাইন জুয়া ফৌজদারি অপরাধ, ৫৫ হাজার মোবাইল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ডিজিটাল বেটিং ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’ এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গত মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে জমা দেয়। এরই মধ্যে সিআইডি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আমির খসরু বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিল। সেই নির্দেশনায় এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
১৩২ দিন আগে
করের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লারসহ ১৬টি খাত
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মুদি দোকান ও বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায়ী খাতকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনবার পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ব্যবসা খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনা হচ্ছে। সেগুলো হলো: মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের দোকান, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যবিক্রেতা, ডেকোরেটর; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস ও টাইলসের দোকান; ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজর ৫৮৬ কোটি টাকা ছিল বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
১৩২ দিন আগে
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
১৩৪ দিন আগে
ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে জোর দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী
সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প অর্থায়নের চ্যানেল তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কঠোর শর্তের কারণে প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি আগের মতো কার্যকর থাকছে না।’ এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বেসরকারি খাত ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রতিটি খাতে শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে বাজেট তৈরি করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে, সেটি প্রস্তুত করার জন্য বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার যে প্রকল্পগুলোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ করা হচ্ছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একটি এডিপি ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে।
বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে আমদানি-রপ্তানির জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করবে, যা নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ীদের এলসি খোলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার সুযোগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’
১৩৫ দিন আগে