মিয়ানমার
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
৬ দিন আগে
মিয়ানমার থেকে ফের গুলি, টেকনাফ সীমান্তে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জীম্বংখালী-সংলগ্ন নাফ নদ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলো— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ কামালের ছেলে সোহেল এবং একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে ওবায়দুল্লাহ।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং জীম্বংখালী বিওপির পূর্ব পাশে নাফ নদ-সংলগ্ন কেওড়া বাগানে লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায় সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ। এ সময় হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহর মামা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সোহেলের বাঁ পা ও হাতে গুলি লেগেছে এবং ওবায়দুল্লাহর মাথায় গুলি লেগেছে। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদের প্রায় ৫০০ গজ ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকে সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কের দিন পার করে আসছিল। এখন আবারও সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হলো।
৮ দিন আগে
সীমান্তে গোলাগুলি ও শিশু আহত: ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব
টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক গোলাগুলি এবং এতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের দিকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের অন্তরায়।
ভবিষ্যতে এই ধরনের সীমান্তে গুলিবর্ষণ বন্ধে মিয়ানমারকে পূর্ণ দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ আরও জোর দিয়ে বলেছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেকোনো সংঘাত বা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করা মিয়ানমারের দায়িত্ব।
জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো আশ্বস্ত করেন, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি আহত শিশুটির প্রতি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন।
২২ দিন আগে
মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফে কিশোরী নিহতের খবর সঠিক নয়, চমেকে চিকিৎসাধীন
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। এ ঘটনায় ছুটে সীমান্ত পেরিয়ে ছুটে আসা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে ওই খবর সঠিক নয়, কিশোরীটি আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আহত মেয়েটির নাম তানজিনা আফরিন (১৩)। সে লম্বাবিল এলাকার জসীমউদ্দীনের মেয়ে। আরাকান আর্মির ছোড়া গুলি মাথায় লেগে সে আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এ ঘটনায় হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানান।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস জানান, শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মারা যাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। শিশুটিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যংয়ে এক কিশোরী আহত হওয়ার খবরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সীমান্তে চলমান এই ধরনের সহিংসতা স্থানীয়দের জীবন ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২৪ দিন আগে
নির্বাচনের আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর
আগামী ডিসেম্বরে পরিকল্পিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বেসামরিক অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীকে যে ফরমানের (ডিক্রির) মাধ্যমে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে।
অবশ্য এ পদক্ষেপে মিয়ানমারের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিএনএন। কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো কার্যত রাষ্ট্রপতি ও সামরিক প্রধান হিসেবে সব ক্ষমতার দখলেই রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প নতুন বিপর্যয় নিয়ে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মিয়ানমারে
সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, অভ্যুত্থানের পর দেশে যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল, গতকাল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পর তা সাত দফা নবায়ন করার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তা বাতিল করা হয়।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে এই মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান বলেছেন, আগামী ছয় মাস নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময়।
২০২১ সালে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ওই সময় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ। এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ৬ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষকে যথেচ্ছভাবে আটক করেছে। এ ছাড়া, দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যদিও জান্তা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই নির্বাচনকে পশ্চিমা দেশগুলো একপ্রকার প্রহসন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলরা কেবল নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনে সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট দলগুলোই প্রভাব বিস্তার করবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধী দলগুলোকে হয় নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নয়তো তারা নিজেরাই অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মিয়ানমার-বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, ক্ষমতায় যে রদবদল করা হয়েছে, তা লোক দেখানো। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আগের মতোই অত্যাচারী ও দমনমূলক আচরণ চালিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেবল পুরনো মোড়কে নতুন নাম দিচ্ছেন। এটি এমন এক নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ, যেটি সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানি না।’
এদিকে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআর টিভিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের জান্তা সরকাররে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে চীন।
১৮৭ দিন আগে
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে মিয়ানমার গেল বাংলাদেশি জাহাজ
সম্প্রতি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের উদ্দেশে ত্রাণ, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ 'বানৌজা সমুদ্র অভিযান' চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে জাহাজটি প্রায় ১২০ মেট্রিক টন ত্রাণসহ মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এতে বলা হয়, আশা করা হচ্ছে, জাহাজটি আগামী ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক তত্ত্বাধানে এই সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, সেনা কল্যাণ সংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় প্রাপ্ত ১২০ টন ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৭৭ মেট্রিক টন শুকনো খাবার, ৯ টনেরও অধিক তাবু এবং ব্যবহারযোগ্য বস্ত্রাদি, ২৯ টন বিশুদ্ধ খাবার পানি, ৪ টন হাইজিন কিট এবং প্রায় ১ টন প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সংঘটিত ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে দুই ধাপে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমানের মাধ্যমে ৩১ দশমিক ৫ টন ত্রাণ সামগ্রী, উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তাকারী দল পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর ৮৯ আফটারশক অনুভূত
৩০২ দিন আগে
মিয়ানমারে ভূকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫০০, বৃষ্টিতে বেড়েছে দুর্ভোগ
ভারী বৃষ্টি ও দমকা হওয়ার পর বজ্রঝড়ের কবলে পড়েছে মিয়ানমারের ভূমিকম্পে-বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দারা। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, দুর্যোগে যারা বসতবাড়ি হারিয়েছেন ও খোলা জায়গায় বসবাস করছেন, তাদের দুর্দশা বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল এমআরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘দমকা বাতাস, বজ্রপাত, ভূমিধস ও ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে অসময়ের বৃষ্টির হতে পারে। যে কারণে লোকজনকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের মাঝামাঝিতে দিনের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর ৮৯ আফটারশক অনুভূত
মিয়ানমারে এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে গেল ২৮ মার্চ। সাত দশমিক সাত মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির দ্বিতীয় বৃহৎ শহর মান্দালয়ে।
এতে রাজধানী নেপিদোসহ ছয়টি অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার (৭ এপ্রিল) মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জো মিন তুন বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিন হাজার ৫৬৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে ভূমিকম্পে। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ১২ জন। এছাড়াও এখনো ২১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।’
ভূমিকম্পের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকা এখনো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মান্দালয়ে মিয়ানমার রেসকিউ ফেডারেশেনের এক কর্মকর্তা বলেন, শনি ও রবিবার ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার হওয়া বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি বন্ধ করে রাখতে হয়েছে। এতে উদ্ধার কাজ অনেক কঠিন হয়ে পড়লেও একেবারে স্থগিত রাখা হয়নি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।’
মান্দালয়ে কাজ করা আরেক উদ্ধারকারী বলেন, ‘বৃষ্টি ও ঝড়ো বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি ভবন ভেঙে পড়েছে। এতে যারা আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছেন, তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার
২০২১ সালে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশটির শাসন করছে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে গণতন্ত্রপন্থি প্রতিরোধ যোদ্ধা ও জাতিগত সংখ্যালঘু গেরিলাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে তারা।
জান্তা সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে পাঁচ হাজার ২২৩টি ভবন, এক হাজার ৮২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুই হাজার ৭৫২টি বৌদ্ধ মঠের আবাসিক ভবন, চার হাজার ৮১৭টি প্যাগোডা ও মন্দির, ১৬৭টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, ১৬৯টি সেতু, ১৯৮টি বাঁধ এবং প্রধান মহাসড়কের ১৮৪টি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩০৩ দিন আগে
মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর ৮৯ আফটারশক অনুভূত
মিয়ানমারে গত মাসের শেষ নাগাদ একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তিন সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সাত দশমিক ৯ মাত্রার ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত মোট ৮৯টি আফটারশক (পরাঘাত) অনুভূত হয়েছে দেশটিতে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের আবহাওয়া ও জলবিদ্যা বিভাগ।
কম্পনগুলো ২.৮ থেকে ৭.৫ মাত্রার মতো ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মাসের ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সংঘটিত হওয়ার পর থেকে এই আফটারশকগুলো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব আফটারশকে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যে কারণে অনেকেই নিজেদের বাড়ির আশেপাশের রাস্তায় তাঁবু টানিয়ে বা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: সোনার শহর মান্দালয় এখন ধ্বংসস্তূপ, দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে গৃহযুদ্ধ
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের ভূকম্পনবিদ উইল ইয়েকের মতে, ‘ভূমিকম্পের মূল ধাক্কার কারণে পৃথিবীর চাপের যে পরিবর্তন হয়, তাতেই আফটারশক হয়ে থাকে।’
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মাটির উপরিভাগের ৭০০ কিলোমিটার নিচেও ভূমিকম্প হতে পারে। আর মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি হয়েছিল মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে। অর্থাৎ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল অনেক অগভীরে হওয়ায় কম্পনের পরিমাণ বেশি ছিল।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি অনেক বড় ছিল। জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা মার্কিন পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়েছে এই ভূকম্পন থেকে।
যখন পৃথিবীর দুটি খণ্ড হঠাৎ করে পরস্পর থেকে সরে যায়, তখনই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। যেখান থেকে ভূখণ্ডটি সরে যায়, সেটিকে ভূগর্ভের ফাটল বলা হয়। কখনো-কখনো ভূমিকম্পের ফোরশক (পূর্বাঘাত) হয়ে থাকে। বড় ভূমিকম্পের আগে যে ছোট ছোট কম্পন হয়, সেটাই ফোরশক।
ভূমিকম্পের প্রধান আঘাতকে মেইনশক (মূলকম্পন) বলা হয়। এই মূলকম্পনের পরে অনেক সময় আফটারশক হয়ে থাকে। এগুলো ছোট ছোট ভূমিকম্প, যেটা মূলকম্পনটি যেখানে ঘটে, সেখানেই হয়ে থাকে।
মূলকম্পনের ওপর ভিত্তি করে কয়েক সপ্তাহ, মাস কিংবা কয়েক বছরও এই আফটারশক হতে পারে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহত প্রায় ৩ হাজার, জীবিতদেরও উদ্ধার করা হচ্ছে
২৮ মার্চ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। ভুমিকম্পে এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি।
গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিয়ানমার জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে।
মিয়ানমার ছাড়াও থাইল্যান্ড ও চীনেও আঘাত হেনেছে এই ভূমিকম্প। তবে গৃহযুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক অবনতির মধ্যে মিয়ানমারে নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে এই দুর্যোগ। এতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্দালয়। সোনার পাত উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ঝলমলে এই শহরটির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে পড়েছে, যার নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক লাশ।
৩০৪ দিন আগে
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৮ লাখ রোহিঙ্গা থেকে প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য চিহ্নিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের কাছে মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ এ কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ২০১৮ থেকে ২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় এই তালিকাটি মিয়ানমারকে দিয়েছিল। এছাড়া, আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আগামী ঈদ নিজ দেশে করবে রোহিঙ্গারা, প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দিকে এই প্রথমবারের মতো কোনো তালিকার বিষয়টি নিশ্চিত করল মিয়ানমার।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আরও ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
সাক্ষাৎকালে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।
৩০৬ দিন আগে
সোনার শহর মান্দালয় এখন ধ্বংসস্তূপ, দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে গৃহযুদ্ধ
সোনার শহর হিসেবে খ্যাত মিয়ানমারের মান্দালয় শহর যেন এখন এক মৃত্যুপুরী। সোনালী কারুকার্যে সুস্বজ্জিত মঠ ও বৌদ্ধ সমাধির সৌন্দর্যে ঝলমলে এই শহরটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
তবে এত বড় দুর্যোগও মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে টলাতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অবিচল সেনাবাহিনী। বিদ্রোহীরা কোনো হামলা চালালে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে আঘাত হানে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্প। এতে গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এরইমধ্যে প্রায় তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। আহত সাড়ে চার হাজারের বেশি।
এর মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী মান্দালয়। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ এই শহরটিতে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায়, শহরের বাতাসে ভাসছে লাশের গন্ধ। ঝলমল শহরটির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে পড়েছে, যার নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক লাশ।
শহরটির জে নামের এক বাসিন্দা জানান, মৃতের সংখ্যা এত বেশি যে, তারা স্তূপ করে লাশগুলো দাহ করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাসিন্দারা জানান, তাদের কাছে না আছে কোনো খাবার, না পানি। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।
দুর্বল অবকাঠামো ও গৃহযুদ্ধের জটিল পরিস্থিতি ত্রাণ কার্যক্রমকে মারাত্বকভাবে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন অনেকে। এ ছাড়াও দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজস্বার্থে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র গোপন করার ইতিহাস রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যখনই ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীদের প্রবেশ বাড়তে থাকবে, তখনই লাশের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২৩ বছর বয়সী জে মান্দালয়ের মহাউংমেয়ে এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দুইদিন পর তার খালার লাশ বের করা হয়েছে। ঘুম, খাবার ও পানির সংকটে নাজেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘুম না হওয়ায় আমার মাথা প্রচণ্ড ঘুরছে।’
জে’র মতো পরিস্থিতি অনেকেরই। নিজেদের বাড়ির আশেপাশের রাস্তায় অনেকেই তাঁবু টানিয়ে বা খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন। আরেকটি আফটারশক (পরাঘাত) যেকোনো মুহূর্তে তাদের বাড়িঘরের অবশিষ্টাংশও ধ্বংস করে দিতে পারে এই আশঙ্কায় তারা রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
জে বলেন, ‘আমি অনেককেই রাস্তায় উবু হয়ে বসে চিৎকার করে কান্না করতে দেখেছি।’
তবে ভাঙা স্থাপনার নিচ থেকে লাশের পাশাপাশি জীবিতও অনেককে উদ্ধার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী জানান, গত চারদিনে মান্দালয় শহর থেকে ৪০৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, এ সময় ২৫৯টি লাশও বের করা হয়েছে।
তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি তথ্যের থেকে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ তারিখ) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিয়ানমার জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউজিএস) তথ্যমতে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মান্দালয়ের মানুষজন শারীরিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক—সব দিক দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এলাকাটির শিশুরা মানসিকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ মান্দালয়ের পাইগ্যিটাগন এলাকার এক পাদ্রি যিনি রুয়াতে নামে নিজের পরিচয় দেন, তিনি বিবিসিকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি বলেন, তার আট বছরের ছেলে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার চিৎকার করে কান্না করে উঠেছেন।
চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধ্বংস হতে দেখে ছেলেটি অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়েছে, এ কারণেই তার মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে মত দেন শিশুটির বাবা।
রুয়াতে বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমার ছেলে উপরে তার শোবার ঘরে ছিল। আমার স্ত্রী তার বোনের দেখাশোনা করছিল। বেরিয়ে আসার সময় তার (ছেলে) ওপর কিছু ধ্বংসাবশেষও পড়েছিল।’
তিনি বলেন, গতকাল নিজ এলাকা থেকে তিনি অনেককে লাশ হয়ে বের হতে দেখেছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) ভূমিকম্পের পাঁচদিন পরে রাজধানীর নেপিদোর একটি ভবন থেকে জীবিত একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। ভারাক্রান্ত মনে বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। মিয়ানমার একের পর এক দুর্যোগের মুখে পড়ছে, এরমধ্যে কিছু প্রাকৃতিক, কিছু মানবসৃষ্ট। দেশের প্রতিটি মানুষ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমরা হতাশ ও অসহায় বোধ করছি।’
গত বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পে মান্দালয়ের ১২ তলাবিশিষ্ট ‘স্কাই ভিলা’ ভবনটির ছয়তলা ধ্বসে পড়েছে। ওই ভবনের নিকটস্থ এক বাসিন্দা জানান, যদিও কয়েকজনকে সেখান থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল লাশই বের হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই দুর্যোগ শিগগিরই শেষ হবে আশা করছি। এখনো অনেক লাশ ভিতরে চাপা পড়ে আছে মনে হচ্ছে, সংখ্যাটা শতাধিক হতে পারে।’ মান্দালয়ের আশপাশের কবরস্থানগুলোতে আর জায়গা অবশিষ্ট নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাশের ব্যাগসহ খাবার ও পানি সরবরাহের ব্যাপক অভাব দেখা দিয়েছে।
শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মঠ ও সোনালী চূড়ার ভাঙা অংশগুলো। এক সময় মান্দালয় সোনার পাত উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। তবে গত কয়েক বছরে মিয়ানমারের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও দারিদ্র্য বেড়েছে, ফলে শহরটি অনেকাংশে তার জৌলুস হারিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে মিয়ানমারে নিহত প্রায় ৩ হাজার, জীবিতদেরও উদ্ধার করা হচ্ছে
ভূমিকম্পের পরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি
গত সপ্তাহে মিয়ানমার ছাড়াও থাইল্যান্ড ও চীনেও আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প। তবে গৃহযুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক অবনতির মধ্যে মিয়ানমারে নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে সাত দশমিক সাত মাত্রার ভয়াবহ এক ভূমিকম্প। ২০২১ সালের পর থেকে দেশটির ক্ষমতায় আছে জান্তা সরকার।
গতকাল নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে জান্তা সরকার, পাশাপাশি পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়াও গণমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়।
তবে দারিদ্র্যপীড়িত দেশটি থেকে ভূমিকম্পের আগেই প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ থেকে বাঁচতে অনেক তরুণ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এতে এই দুর্যোগের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় লোকবল মিলছে না বলে দেশটির বাসিন্দাদের অভিযোগ।
রাশিয়া ও চীন সহায়তা করলেও উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জে। তিনি বলেন, ‘উদ্ধারকর্মীরা চারদিন ধরে একটানা কাজ করে যাচ্ছে। তারাও এখন ক্লান্ত, তাদেরও কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মিয়ানমারে নিহত অন্তত ৭০০ মুসল্লি
৩০৮ দিন আগে