আইনমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক সমাজে মত ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। অন্যের মত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আবদুর রাজ্জাকের বইটি তার কাছে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং একটি সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।
বইটির আলোচনায় উঠে আসা আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।
নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।
বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তার সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।
আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করেছিলেন।
আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চা পান করেছেন, কখনও টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বিশেষ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাঠ করা উচিত।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্স অ্যান্ড গভর্নমেন্টের অধ্যাপক আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।
১ দিন আগে
ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়েছি। এটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া পুলিশ কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগও নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কিন সংবিধান দিবস ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রায় ৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে মার্কিন সংবিধানের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়নের পথ দেখানোর জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দুই দেশের সংবিধানেই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিগুলো রয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, মার্কিন সংবিধান গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মাধ্যমে গৃহীত, অনুমোদিত ও কার্যকর করা হয়েছিল। আমাদের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু মার্কিন সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবিধান দিবসে উপলক্ষে ঢাবির সিনেট হলে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, প্যানেল আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
আইনি কাঠামোর বাইরে পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ‘ক্রসফায়ার’-এর সুযোগ নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ বা ক্রসফায়ারের সুযোগ নেই। সন্ত্রাস দমনের জন্য ক্রসফায়ারের কোনো প্রয়োজন নেই এবং প্রচলিত আইনই এর জন্য যথেষ্ট।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেদিকে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খুলনা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত বর্তমান চিত্র মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, আমির এজাজ খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি।
খুলনা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ৯টায় খুলনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার সব পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতে মামলা জট কমানোর জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজীসহ অন্য বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
প্রতিশোধপরায়ণ হইনি, হতে চাই না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনও হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় দাসত্বে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীকে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতে হয়েছে। তারা এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে এবং করে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু দেশের গুটিকয়েক মানুষ করছে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও মাদকের চালান আসছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দুইভাবে হয়—একটি অর্থনৈতিক, অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক। এই দুই ধরনের দুর্নীতি আমাদের বন্ধ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনো হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলছি। সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে, সেটাকেও আমরা বিবেচনায় নেব না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বাদী হতো পুলিশ। ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা করেছে—এমন একটি উদাহরণও নেই। তবে কোনো ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করতে পারবে না; বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই ব্যালান্সের জায়গায় আমরা এসেছি। আগের মতো মিথ্যা গায়েবি মামলা আর নেই।
মতবিনিময় সভায় জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
৬ দিন আগে
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করতে চাইলে আইন সেটা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন তা নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ — সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি মঙ্গলবার এজলাস ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। কখন, কীভাবে সমাধান করতে হয়, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
১০ দিন আগে
যেকোনো অপশক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
যেকোনো অপশক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহরে রামগোপাল মন্দির চত্বরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরার অসুর ও অত্যাচারী কংসের মতো অশুভ শক্তিকে দমন করে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। সমস্ত অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাই ছিল তার মূল আদর্শ। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিনাশে আমরা যখন সংগ্রাম করব, আপনারা বরাবরের মতো সরকারের পাশে থাকবেন।’
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাধার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা সবার— এই শাশ্বত চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি মাস্তানি, বিশৃঙ্খলা কিংবা বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কোনো ভেদাভেদ নেই; দেশের প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ও সুখে শান্তিতে তার ধর্ম পালন করবেন।’
আলোচনাসভা শেষে আইনমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি রামগোপাল মন্দির চত্বর থেকে শুরু হয়ে শৈলকুপা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাসহ সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
১৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাও জরুরি।
রবিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানবিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নিজ দেশে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে দেশের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতা ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষক, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী নীতি গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গা সংকটের সামাজিক, মানবিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব সুপারিশ সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐকমত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।
সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুল আহমেদ, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, নীতি গবেষণাকেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম হক এবং রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতা, মিয়ানমারের পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এবং সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
২৭ দিন আগে
গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তেরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে: আইনমন্ত্রী
গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সর্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএমে বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। ‘এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।
সভায় সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলার ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জেলাগুলো হলো—রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া।
এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করতে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজনকে ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ জন্য বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ওডিআর) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য দেন।
আগামীকাল রবিবার সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রও চিহ্নিত করা হবে।
৩৫ দিন আগে
দেশের আরও ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু
জামিন প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি কমাতে দেশের আরও ১২ জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু হওয়া জেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর আগে তিন দফায় ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়। এসব জেলায় কার্যক্রমের সফলতার পর চতুর্থ পর্যায়ে আরও ১২ জেলায় একযোগে এ ব্যবস্থা চালু করা হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হবে।
প্রচলিত বেইলবন্ড পদ্ধতির তুলনায় ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে জামিননামা দাখিল ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে জামিনে মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে ই-বেইলবন্ড আমরা চালু করেছিলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পরে বগুড়াসহ ৭টি জেলাতে ই-বেইলবন্ড চালুর মধ্য দিয়ে এই সরকারের বিচার বিভাগ সম্পর্কে যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল।’
তিনি বলেন, আজকে আমরা দেখছি ১৬টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ার পরে খুবই মসৃণভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে এক লাখ ২০ হাজারের মতো বেইলবন্ড জমা হয়েছে ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে। আগে যেখানে একটা বেইলবন্ড চালু করতে ১২টি ধাপ ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন এক ক্লিকে আইনজীবী তার চেম্বারে বসে বা যেকোনো জায়গায় বসে, গাড়িতে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার করে বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। বেইলবন্ড জমা দেওয়ার পরে সেটা যে ওখানে রিসিভ হয়েছে, সেটার একটা ওটিপি আসবে সঙ্গে সঙ্গেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। এখানে অনেকেই বলেন, ১৬ বছরের জেল খাটলাম আমরা, আমার আত্মীয়স্বজন, পরিবারের লোকজন। কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা জজ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে যে হয়রানির শিকার হয়েছে, আপনার আসার সঙ্গে সঙ্গে সব হয়রানি বন্ধ করে দিলেন? এটা কেমন বাংলাদেশ?’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, এটাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতি। আমরা হয়রানি করতে চাই না, আমরা চাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। তারই অংশ হিসেবে আগে ১৬টির সঙ্গে এই ই-বেইলবন্ড কর্মসূচিতে আমাদের আরও ১২টি জেলা সংযুক্ত হলো।’
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, যারা যে জেলাতে আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে কমাতে পারবেন, তাদের কীভাবে পুরস্কৃত করা যায়, সেই চিন্তাভাবনা চলছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, চালু হওয়া ১৬ জেলায় ই-বেইলবন্ড দাখিল ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের কষ্ট লাঘবে ইতোমধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চতুর্থ পর্যায়ের মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড সেবা আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, ‘এই সিস্টেমের মাধ্যমে জামিননামা যাচাইকরণে সময়ক্ষেপণ কমবে, বন্দিদের অহেতুক কারাবাস লাঘব হবে এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় হবে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি নতুন করে যুক্ত হওয়া ১২টি জেলার বিচারক, আইনজীবী নেতৃবৃন্দ, জিপি-পিপি, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
৩৭ দিন আগে
বাজার সিন্ডিকেট-মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সকল সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হন, আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।’
বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বাজার ও ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মজুতদারি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্য দাম পান না। বাজারে পণ্য নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত তোলার কারণে কৃষক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত দুই কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপর আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারাও কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষককে ৪৫ কেজি দিতে হচ্ছে। এটা অনায্য।
বাজারের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সব হাট ও বাজারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে কৃষকের কাছ থেকে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
মজুতদারির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত তোলা ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪২ দিন আগে