পদ্মা নদী
পদ্মার এক পাঙাশ এবার বিক্রি হলো ৭১ হাজার টাকায়
এবার রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৭১ হাজার টাকায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাজারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বাজার থেকে নিলামে ৭০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচরের ছাত্তার মেম্বার পাড়ার এরশাদ শেখ জাল নিয়ে নদীতে যান। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝামাঝি পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেললে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাল টেনে নৌকায় তুলেই দেখেন বড় আকারের একটি পাঙাশ। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের রেজাউল মন্ডলের আড়তে গিয়ে মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন প্রায় ২৫ কেজি হয়েছে। এরপর নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনেন।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, এ বছরের সবচেয়ে বড় পাঙাশটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ২৫ কেজি ওজনের পাঙাশটি ৭০ হাজার টাকায় কিনি। পরে কুষ্টিয়ার এক বড় ব্যবসায়ী মাছটি কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৭১ হাজার টাকায় কিনেন।
তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমে এটিই সবচেয়ে বড় বড় পাঙাশ মাছ। এর আগে, ১৮ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ বাজারে উঠেছিল।
২৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছটি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব উল হক বলেন, সাধারণত এই শুস্ক মৌসুমে বড় বড় মাছ ধরা পড়ে। নদীর গভীরতা বেড়ে গেলে এ ধরনের মাছ সহসা ধরা পড়বে না। এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্যও সুখবর।
৮ দিন আগে
ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে কুমির আটক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে একটি কুমির। পরে কুমিরটি নিয়ে জেলেরা ঘাটে আসেন। খবর পেয়ে কুমির উদ্ধার করতে খুলনা থেকে রওনা দিয়েছে বন বিভাগের একটি দল।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে জেলেদের বড়শিতে এই কুমিরটি ধরা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো মাছ ধরার সময় গোপালপুর ঘাটের নিকটে জেলেদের হাজারী বড়শিতে একটি কুমির আটকে যায়। পরে অন্যান্য জেলেরা মিলে কুমিরটিকে আটকে সকালে স্থানীয় কাজি বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন।
কুমির ধরা পরার কথা শুনে তা দেখতে ভীড় করে উৎসক জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারি ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো তারা নদীতে বড়শি ফেলে মাছ ধরার জন্য যায়। কুমিরটি স্বপন ব্যাপারীর বড়শিতে আটকে গেলে সবাই মিলে সেটি উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, কুমিরটির বিষয়ে আমরা বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এটি উদ্ধার করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখন ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা ফজলে করিম বলেন, এটি যে একটি কুমির সেটা নিশ্চিত হয়েছি আমরা। কিন্তু কোন প্রজাতির কুমির তা আমাদের বিশেষজ্ঞরা না আসলে বলতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, খুলনা থেকে আমাদের টিম রওনা দিয়েছে, তারা আসলে কুমিরটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেবে। তারাই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
৯ দিন আগে
পদ্মার বিশাল কাতলা ও রুই মাছ বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকায়
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কয়েকদিন ধরে বড় বড় রুই, কাতলা মাছ ধরা পড়ছে। আজ (সোমবার) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকারের কাতলা এবং প্রায় ১৪ কেজি ওজনের একটি রুই মাছ ধরা পড়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে মাছ দুটি পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কাতলা মাছটি ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় এবং রুই ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ফেরি ঘাট এলাকার জেলে ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীর মোহনা দৌলতদিয়া এলাকায় জেলেদের জালে বড় বড় রুই, কাতলা জাতীয় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল (রবিবার) মধ্যরাতে নদীতে জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকার জেলে জমির হালদার। আজ ভোর ৪টার দিকে পদ্মা নদীর মোহনায় কুশাহাটায় তিনি জাল ফেলেন।
ভাসতে ভাসতে ফেরি ঘাটের অদূরে অবস্থানকালে জালে প্রচণ্ড ঝাঁকি দিলে জমির হালদার বুঝতে পারেন যে তার জালে বড় মাছ আটকা পড়েছে। জাল নৌকায় তুলেই তিনি দেখেন বিশাল আকারের এক কাতলা। এরপর তিনি মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন বাজারের রেজাউল ইসলাম মন্ডলের আড়তে।
১৬ দিন আগে
পদ্মায় তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই শতাধিক যাত্রী
পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লঞ্চটিতে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
লঞ্চে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি রেজোয়ান লঞ্চটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে তেলবাহী একটি জাহাজের পেছনের অংশের সঙ্গে লঞ্চটির ধাক্কা লাগে। এতে প্রায় ১০ জনের মতো যাত্রী কমবেশি আহত হন। কেউ হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত পান, কেউ মাথায় আঘাত পান।
দুই যাত্রী এ সময় নদীতে পড়েও যান। তবে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে সাঁতরে লঞ্চে উঠতে সক্ষম হন। লঞ্চের মাস্টারের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
তেলবাহী জাহাজটি সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. জিল্লুর রহমান প্রামাণিক বলেন, মাঝ নদীতে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে এমভি রেজোয়ান লঞ্চের ধাক্কা লাগে। এতে কিছু সংখ্যক যাত্রী আহত হন। আহত যাত্রীরা দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে ঘাটে পৌঁছালে আমরা তাদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়েছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের টার্মিনাল তত্বাবধায়ক মো. শিমুল ইসলাম বলেন, জাহাজ বা লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় সংঘর্ষ ঘটে। তবে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নৌপুলিশ দেখভাল করছে।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আহত যাত্রীদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। ঈদের সময় হওয়ায় লঞ্চটি আটকে না রেখে যাত্রীর ট্রিপ নিতে ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
৪৮ দিন আগে
ফেরি থেকে পদ্মায় লাফ দিয়ে যুবক নিখোঁজ, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি বড় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবুরি দলের ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায়ও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমান ওই ফেরি থেকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপর থেকে তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ডুবুরি দল। এরপর আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় অভিযান শুরু করে দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম রেজাউল শিকদার (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যানবাহনের জন্য অপেক্ষমান ওই ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দেন ওই যুবক। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল শেখ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটের ফেরিতে জুয়াড়িরা জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা খোয়ানো ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। পরে ঘাটে থাকা লোকজন ওই যাত্রীকে টেনে তুলতে সক্ষম হলেও রেজাউলকে টেনে তোলার আগে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিখোঁজ রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদর বলেন, জমি নিয়ে জুয়াড়ি চক্রের হোতাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার হাসান আলী বলেন, ফেরিতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিটি যানবাহন লোডের অপেক্ষায় ছিল। পরে স্থানীয়দের থেকে তিনি এমন ঘটনা শুনেছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, ফেরিতে জুয়াড়িরা কৌশলে এক যাত্রীর টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে রেজাউল নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাননি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
ডুবুরি দলের প্রধান মনিকগঞ্জের আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নাল আবেদিন জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছয় সদস্যের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পায়নি। আমরা আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় তার সন্ধানে ছয় সদস্যের দল অভিযান শুরু করেছি।
৯১ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১১২ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মায় বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবাহী নৌকার ধাক্কায় নিহত ১
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবোঝাই এক নৌকার ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা আলীমনগর ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. ভিখু (৫৭)। তিনি সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের এগারো রশিয়া রুস্তুম মড়লের পাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বিকেলে পদ্মা নদীর আলীমনগর ঘাট থেকে যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা নারায়ণপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় ঘাটের কাছাকাছি নদীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাল্কহেডকে ধাক্কা দেয় নৌকাটি। তখন নৌকায় থাকা ভিখু গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্বার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক উম্মে হাবিবা জানান, নৌকা দুর্ঘটনায় হাত ও বুকে ব্যথা পেয়েছিলেন ভিখু। পাশাপাশি হার্টের সমস্যাও ছিল তার। সেজন্য হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানান, ঘটনার খবর তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩৫ দিন আগে
র্যাম্প ছিঁড়ে ভেসে গেল পন্টুন, পাটুরিয়ার চার নম্বর ঘাট দিয়ে পারাপার বন্ধ
পন্টুনে ফেরি ভিড়তে গিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় র্যাম্পের তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে পন্টুনসহ র্যাম্প পদ্মার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে এই দূর্ঘটনা ঘটে। এতে করে ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আবদুস সালাম জানান, বাইগার নামে রো রো ফেরিটি ৪ নম্বর ঘাটে ভেড়ার আগ মুহূর্তে হঠাৎ র্যাম্পের লোহার মোটা তার ছিঁড়ে যায়। এ সময় পন্টুনটি প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরে উদ্ধারকারী টাগ জাহাজ দিয়ে পন্টুন ও র্যাম্পটি টেনে ঘাটের কাছে রাখা হয়েছে। আপাতত চার নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে।
ঘাটটি পুনরায় স্থাপনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
২৫৮ দিন আগে
চাঁপাইয়ে পদ্মার পানি সরলেও দুর্ভোগ কমেনি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমে আজ রবিবার (১৭ আগস্ট) বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোর মানুষের মধ্যে। কোথাও কোথাও উঁচু এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় অনেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
তবে পানি নামার গতি ধীর হওয়ায় এখনো সদর উপজেলার আলাতুলী ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ এখনো চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল পাঁকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, নদীতে পানি কমায় মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি এলেও বন্যায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
আরও পড়ুন: বন্যার পানি নামছে, জেগে উঠছে ক্ষত
তিনি বলেন, ‘যেভাবে পানি নামছে, তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে।’
পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘পানি কমছে, তবে খুব ধীরগতিতে। এখনো অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। মানুষ খাবারের কষ্টে আছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য ২৮ মেট্রিক টন চাল এবং কিছু শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ত্রাণের কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা প্রশাসন তালিকা তৈরির কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়া গেলে আবারও বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমে আজ (রবিবার) বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামের বন্যাকবলিত চরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘গুচ্ছ বসতভিটা’
উল্লেখ্য, টানা সাতদিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং দুই হাজার হেক্টর জমির আউশ, আমন ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়।
২৬২ দিন আগে
চাঁপাইয়ে পদ্মার পানি বেড়ে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি সাড়ে ৮ হাজার পরিবার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে চরাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাটেও পানি উঠেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।
আরও পড়ুন: তিস্তার পানি ফের বিপৎসীমার ওপরে, নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের সাড়ে ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে এসব এলাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।
২৬৬ দিন আগে