পদ্মা নদী
দৌলতপুরে পদ্মার পানি বাড়ার গতি কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার গতি কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। তবে পানি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও উপজেলার চরাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০ কেজি করে ১৮ টন চাল পাবেন ১ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এছাড়া ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০ পরিবারকে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস জানান, আগামীকাল সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে।
সরকারি হিসাবে, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার।
৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে বাল্কহেডের সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের ধাক্কায় নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুজ্জামান রকির (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত এবং ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গেল শুক্রবার রাতে পদ্মা নদীতে যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডটির সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লাগে। এ সময় রকিসহ তিনজন নিখোঁজ হন। পরে দুজনকে উদ্ধার করা হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন। ওই রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকূপার কাতলা গাড়িঘাট থেকে ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে বাল্কহেডটি ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে আসে। নৌযানটিতে মাঝিসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
ভ্রমণকারীদের মাজারে বেড়ানো শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে বাল্কহেডটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। এ সময় স্রোতের প্রচণ্ড ধাক্কায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৪ নম্বর পিলারের সঙ্গে বাল্কহেডের পেছনের অংশের ধাক্কা লাগে। এতে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। সে সময় লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
উদ্ধার কাজ চলাকালে বাকি ভ্রমণকারীরা পদ্মা নদীর বাহিরকচর অংশের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নেন।
ঘটনাস্থলে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে নিখোঁজ রকিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
৬ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রুত বাড়ছে ৩ নদীর পানি, পানিবন্দী ২৯০০ পরিবার
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
জেলার দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মহানন্দা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ১২ মিটার নিচ দিয়ে এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন জানান, পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
৮ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হু হু করে বাড়ছে ৩ নদীর পানি, ডুবছে নিম্নাঞ্চল
উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে। এসব নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার, মহানন্দা নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৩২ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ২.৩২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, পদ্মা নদীতে ব্যাপক হারে পানি বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাড়িঘরে ও রাস্তায় পানি ঢোকেনি, তবে কয়েকটি জায়গায় নদীভাঙন চলছে। এমনভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, এখন পর্যন্ত বাড়িঘরে পানি না ঢুকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে তার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ও ৬, ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চলে পানি এসে যাবে। তবে নিম্নাঞ্চলের কিছু পাকা আউশ ধানখেত নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষকরা এসব এলাকার ধান কেটে ঘরে তুলছেন।
এদিকে, একই উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তার ইউনিয়নের চরপাঁকা, লক্ষ্মীপুর, নতুনপাড়া এলাকায় অন্তত ১০০টি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, উজানে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টির পানিতে জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে দুই দিন পানি বাড়ার পর আবার কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
পদ্মাপাড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, হুমকিতে কৃষিজমি-পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে দিনের বেলায় সুনসান নীরবতা। তারই মাঝে চোখে পড়ে সবুজ রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জায়গা। তবে রাতের গভীর ওই ত্রিপলের আশপাশের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। তখন সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হয় শত শত পুরাতন ব্যাটারি। তাতে আবার কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হয় বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পদ্মা নদীর পাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট-সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় প্রতিদিন বিকেল ও মধ্যরাতে এই বিপরীত দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সিসা বের করা হচ্ছে। এতে সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও অ্যাসিডের মতো ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে চারপাশ দূষিত করছে। প্রায় দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছেন। এ জন্য তিনি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে; ফসল নষ্ট হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করেছেন মনির হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চলছে।’ তবে বাতাসের কারণে অধিকাংশ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজ হয় না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি আনা হয়। রাত ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন।
তার অভিযোগ, চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কারখানাটি চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান টিক্কা বলেন, ‘কারা কী করছে জানিনে। আমি এসবে নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।’
অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, ‘দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কি না, তা জানা নেই।’
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ) হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভেতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের মাত্রা বেড়ে যায় যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
১৮ দিন আগে
দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠলেও দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এখনও মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নাগরিক সুবিধার অনেকটাই তাদের কাছে রয়ে গেছে অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাগজোত ও সুখারঘাটে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরবাসীকে। বর্ষাকালে উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিতে হয় ভ্যান, ট্রলি, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরাঞ্চলের ভেতরে কিছু সড়ক নির্মিত হলেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা বা জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
৪৭ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
৫১ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৫৩ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৩ হাজার টাকায়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ২০ কেজি ওজনের এক পাঙ্গাশ মাছ ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে জেলেরা এই মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা কিনে নেন। পরে তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১ হাজার টাকায় লাভে মাছটি বিক্রি করেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনের মতো আজ (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার জেলেরা। এ সময় অন্যদের সঙ্গে জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন কুমার হালদারও জাল ফেলেন। ভাসতে ভাসতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বাহির চর দৌলতদিয়া কলারবাগান এলাকায় পৌঁছালে তার জালে ঝাঁকি লাগে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান বড় একটি পাঙ্গাশ মাছ। আনন্দে আত্মহারা নিরঞ্জন হালদারসহ নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে ফেরি ঘাটে নৌকা ভেড়ান।
পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের কেছমত হালদারের আড়তে পাঙ্গাশটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটি প্রায় ২০ কেজি ওজনের। নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীতে বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। এই পাঙ্গাশটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকায় কিনে নিই। পরে মাছটি ফেরিঘাটে আমার আড়তে নিয়ে আসি। তারপর বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ী কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৩ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পাঙ্গাশটি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা ও যমুনা নদীতে কিছু ইলিশের পাশাপাশি কাতলা, রুই, পাঙ্গাশ ও রিঠা মাছ ধরা পড়ছে। পদ্মা নদীর এসব সুস্বাদু মাছের দাম অনেক হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন সাধারণত এ ধরনের মাছ কিনতে পারেন না। ঢাকাসহ দূরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও প্রবাসীরা এ ধরনের মাছের বেশিরভাগ কিনে থাকেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
৬৭ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়লো ৪০ কেজির বিশাল কাতলা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়লো এক মণ ওজনের বিশাল কাতলা মাছ। পরে মাছটি ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পদ্মা নদীর রায়টা পাথরঘাট এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) বিকেলে স্থানীয় জেলে মুরাদ প্রতিদিনের মতো মাছ শিকারের উদ্দেশে কিছু সংখ্যক জেলেদের নিয়ে পদ্মা নদীতে বেড়জাল ফেলেন। জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টার পর বিকেল ৫টার দিকে জেলেরা জালে বড় একটা কিছুর অস্তিত্ব লক্ষ করেন। এক পর্যায়ে জাল কিনারায় আনলে তারা দেখতে পান বিশালাকার কাতলা মাছটি।
জেলেরা জানান, এত বড় মাছ এর আগে তাদের জালে কোনোদিন ওঠেনি।
তারা জানান, কাতলা মাছটির ওজন হয়েছে ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মাছটির মোট দাম হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।
ভেড়ামারার বাসিন্দা রিপন আলীসহ কয়েকজন মিলে পরবর্তীতে মাছটি কিনে ভাগ করে নেন।
এ সময় মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। অধিকাংশই জানান, তাদের জীবদ্দশায় এত বড় মাছ এর আগে কখনও দেখেননি। এমনকি পদ্মা নদীর এই অংশে এত বড় মাছ ধরা পড়েছে কি না তাদের জানা নেই।
৬৯ দিন আগে