পদ্মা নদী
দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠলেও দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এখনও মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নাগরিক সুবিধার অনেকটাই তাদের কাছে রয়ে গেছে অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাগজোত ও সুখারঘাটে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরবাসীকে। বর্ষাকালে উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিতে হয় ভ্যান, ট্রলি, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরাঞ্চলের ভেতরে কিছু সড়ক নির্মিত হলেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা বা জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
১ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌকার মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে তার ছেলে জিয়ারুল হকের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। উদ্ধার শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় ঝাউগাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাটি মাঝনদীতে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নৌকার মাঝি কাওসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল হক নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
৫ দিন আগে
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ওই নৌকার আরও ছয় যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মায় মাঝনদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়।
ওই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয় মাঝিরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন আটজন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ঢেউয়ে দুলতে দুলতে একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
তীরে উঠে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগম আহাজারি করছিলেন। ছেলের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বাপ নাই, আমার বাপ নাই!’
দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধার করতে অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
৭ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৩ হাজার টাকায়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ২০ কেজি ওজনের এক পাঙ্গাশ মাছ ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে জেলেরা এই মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা কিনে নেন। পরে তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১ হাজার টাকায় লাভে মাছটি বিক্রি করেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনের মতো আজ (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার জেলেরা। এ সময় অন্যদের সঙ্গে জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন কুমার হালদারও জাল ফেলেন। ভাসতে ভাসতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বাহির চর দৌলতদিয়া কলারবাগান এলাকায় পৌঁছালে তার জালে ঝাঁকি লাগে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান বড় একটি পাঙ্গাশ মাছ। আনন্দে আত্মহারা নিরঞ্জন হালদারসহ নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে ফেরি ঘাটে নৌকা ভেড়ান।
পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের কেছমত হালদারের আড়তে পাঙ্গাশটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটি প্রায় ২০ কেজি ওজনের। নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীতে বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। এই পাঙ্গাশটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকায় কিনে নিই। পরে মাছটি ফেরিঘাটে আমার আড়তে নিয়ে আসি। তারপর বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ী কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৩ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পাঙ্গাশটি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা ও যমুনা নদীতে কিছু ইলিশের পাশাপাশি কাতলা, রুই, পাঙ্গাশ ও রিঠা মাছ ধরা পড়ছে। পদ্মা নদীর এসব সুস্বাদু মাছের দাম অনেক হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন সাধারণত এ ধরনের মাছ কিনতে পারেন না। ঢাকাসহ দূরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও প্রবাসীরা এ ধরনের মাছের বেশিরভাগ কিনে থাকেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
২১ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়লো ৪০ কেজির বিশাল কাতলা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়লো এক মণ ওজনের বিশাল কাতলা মাছ। পরে মাছটি ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পদ্মা নদীর রায়টা পাথরঘাট এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) বিকেলে স্থানীয় জেলে মুরাদ প্রতিদিনের মতো মাছ শিকারের উদ্দেশে কিছু সংখ্যক জেলেদের নিয়ে পদ্মা নদীতে বেড়জাল ফেলেন। জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টার পর বিকেল ৫টার দিকে জেলেরা জালে বড় একটা কিছুর অস্তিত্ব লক্ষ করেন। এক পর্যায়ে জাল কিনারায় আনলে তারা দেখতে পান বিশালাকার কাতলা মাছটি।
জেলেরা জানান, এত বড় মাছ এর আগে তাদের জালে কোনোদিন ওঠেনি।
তারা জানান, কাতলা মাছটির ওজন হয়েছে ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মাছটির মোট দাম হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।
ভেড়ামারার বাসিন্দা রিপন আলীসহ কয়েকজন মিলে পরবর্তীতে মাছটি কিনে ভাগ করে নেন।
এ সময় মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। অধিকাংশই জানান, তাদের জীবদ্দশায় এত বড় মাছ এর আগে কখনও দেখেননি। এমনকি পদ্মা নদীর এই অংশে এত বড় মাছ ধরা পড়েছে কি না তাদের জানা নেই।
২৩ দিন আগে
পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত, পাটুরিয়ায় ফেরি-লঞ্চে ওঠানামায় বেড়েছে দুর্ভোগ
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটির পন্টুন ডুবে গেছে। ফলে ওই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ২ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে এবং ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
২৩ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আমন ধানের জমিতে চাষাবাদের সময় ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে জয় বিশ্বাস (২০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা, জয় বিশ্বাস বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ওই ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। সে সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন জয়। রাতে তার সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তখন কেউ জানতে পারেনি।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল, পুরোটা ডুবে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়া বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬০ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙাশ এবার বিক্রি হলো ৭১ হাজার টাকায়
এবার রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৭১ হাজার টাকায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাজারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বাজার থেকে নিলামে ৭০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচরের ছাত্তার মেম্বার পাড়ার এরশাদ শেখ জাল নিয়ে নদীতে যান। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝামাঝি পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেললে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাল টেনে নৌকায় তুলেই দেখেন বড় আকারের একটি পাঙাশ। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের রেজাউল মন্ডলের আড়তে গিয়ে মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন প্রায় ২৫ কেজি হয়েছে। এরপর নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনেন।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, এ বছরের সবচেয়ে বড় পাঙাশটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ২৫ কেজি ওজনের পাঙাশটি ৭০ হাজার টাকায় কিনি। পরে কুষ্টিয়ার এক বড় ব্যবসায়ী মাছটি কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৭১ হাজার টাকায় কিনেন।
তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমে এটিই সবচেয়ে বড় বড় পাঙাশ মাছ। এর আগে, ১৮ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ বাজারে উঠেছিল।
২৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছটি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব উল হক বলেন, সাধারণত এই শুস্ক মৌসুমে বড় বড় মাছ ধরা পড়ে। নদীর গভীরতা বেড়ে গেলে এ ধরনের মাছ সহসা ধরা পড়বে না। এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্যও সুখবর।
৯৮ দিন আগে
ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে কুমির আটক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে একটি কুমির। পরে কুমিরটি নিয়ে জেলেরা ঘাটে আসেন। খবর পেয়ে কুমির উদ্ধার করতে খুলনা থেকে রওনা দিয়েছে বন বিভাগের একটি দল।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে জেলেদের বড়শিতে এই কুমিরটি ধরা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো মাছ ধরার সময় গোপালপুর ঘাটের নিকটে জেলেদের হাজারী বড়শিতে একটি কুমির আটকে যায়। পরে অন্যান্য জেলেরা মিলে কুমিরটিকে আটকে সকালে স্থানীয় কাজি বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন।
কুমির ধরা পরার কথা শুনে তা দেখতে ভীড় করে উৎসক জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারি ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো তারা নদীতে বড়শি ফেলে মাছ ধরার জন্য যায়। কুমিরটি স্বপন ব্যাপারীর বড়শিতে আটকে গেলে সবাই মিলে সেটি উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, কুমিরটির বিষয়ে আমরা বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এটি উদ্ধার করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখন ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা ফজলে করিম বলেন, এটি যে একটি কুমির সেটা নিশ্চিত হয়েছি আমরা। কিন্তু কোন প্রজাতির কুমির তা আমাদের বিশেষজ্ঞরা না আসলে বলতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, খুলনা থেকে আমাদের টিম রওনা দিয়েছে, তারা আসলে কুমিরটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেবে। তারাই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
৯৯ দিন আগে
পদ্মার বিশাল কাতলা ও রুই মাছ বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকায়
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কয়েকদিন ধরে বড় বড় রুই, কাতলা মাছ ধরা পড়ছে। আজ (সোমবার) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকারের কাতলা এবং প্রায় ১৪ কেজি ওজনের একটি রুই মাছ ধরা পড়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে মাছ দুটি পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কাতলা মাছটি ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় এবং রুই ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ফেরি ঘাট এলাকার জেলে ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীর মোহনা দৌলতদিয়া এলাকায় জেলেদের জালে বড় বড় রুই, কাতলা জাতীয় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল (রবিবার) মধ্যরাতে নদীতে জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকার জেলে জমির হালদার। আজ ভোর ৪টার দিকে পদ্মা নদীর মোহনায় কুশাহাটায় তিনি জাল ফেলেন।
ভাসতে ভাসতে ফেরি ঘাটের অদূরে অবস্থানকালে জালে প্রচণ্ড ঝাঁকি দিলে জমির হালদার বুঝতে পারেন যে তার জালে বড় মাছ আটকা পড়েছে। জাল নৌকায় তুলেই তিনি দেখেন বিশাল আকারের এক কাতলা। এরপর তিনি মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন বাজারের রেজাউল ইসলাম মন্ডলের আড়তে।
১০৬ দিন আগে