তাইওয়ান
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
১ দিন আগে
তাইওয়ানে অবৈধভাবে বাস করা চীনাদের ওপর ধরপাকড়
চীনা নাগরিকদের মধ্যে যারা অবৈধভাবে তাইওয়ানে বসবাস করছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ জন তাইওয়ানের নাগরিকত্ব বাতিলসহ চীনা বংশোদ্ভূত কয়েক হাজার তাইওয়ানবাসীর নথিপত্রের তদন্ত চলমান রয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এমন বলা হয়েছে।
তাইওয়ানের আইন অনুযায়ী, দেশটির নাগরিকদের চীনের নাগরিকত্ব রাখার অনুমতি নেই। যেকারণে গত কয়েক দশকে চীনের নাগরিকত্ব থাকায় শত শত বাসিন্দার তাইওয়ানিজ নাগরিকত্ব কার্যত্ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া এই অভিযান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রকাশ্যে তিনজন নারীর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে তাইওয়ান সরকার। পাশাপাশি দেশটির ১০ হাজারের বেশি নাগরিক; যারা চীনে জন্মগ্রহণ করলেও তাইওয়ানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাদের একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়ায় এই অভিযানের সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নাগরিকদের পরিচয়, আনুগত্য, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও দেশের নিরাপত্তার মধ্যে সরকার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেক তাইওয়ানিজ।
এই অভিযান ও বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ডিসেম্বরে অনলাইনে প্রকাশিত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে ঘিরে। চীন গোপনে তাইওয়ানের মানুষকে তাদের দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করছে বলে দেখানো হয় সেখানে।
প্রামাণ্যচিত্রে তিনজন ব্যক্তির তথ্য উপস্থাপন করা হয়, যারা চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে গিয়ে বাস করতে শুরু করেছিলেন এবং চীনের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।
এই প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় তাইওয়ান সরকার। তাইওয়ানের ওপর চীনা কর্তৃত্ব বজায় রাখার অপচেষ্টা থেকেই এই কাজ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে দেশটির মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমএসি)।
আরও পড়ুন: অবৈধ অভিবাসীদের বসবাস ও কাজের অনুমতি দেবে স্পেন
প্রামাণ্যচিত্রের সেই তিনজনের মধ্যে একজন সু শিহ। তার ভাষ্যে, ফুজিয়ান প্রদেশে অনেক তাইওয়ানিজ রয়েছে, পাশাপাশি সেখানকার সরকারও উদ্যোক্তাদের নানা রকম ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা করেন— এমনটা শুনেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
সু জানান, সেখানে গিয়ে চীনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন বলে জেনেছিলেন তিনি। এটি তার ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে ভেবে তিনি আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেন।
তবে তাইওয়ানের আইনে এই নাগরিকত্ব অবৈধ। যদিও সুয়ের দাবি, অনেক তাইওয়ানিজেরই ফুজিয়ানের নাগরিকত্ব রয়েছে, তারা মূলত এখন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার।
চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্ব কেন?
তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ বলে দাবি করে বেইজিং। অন্যদিকে নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি তাইওয়ানের। এ নিয়ে এই অঞ্চলগুলোর বৈরিতা বহু পুরনো।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে আরও কয়েকগুণে। তাইওয়ান শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে একীভূত না হলে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সরকার। এমনকি তাইওয়ানের অভ্যন্তরেও সাধারণ নাগরিকসহ সরকার ও সামরিক বাহিনীতে সিসিপি সমর্থিত অনেকে গুপ্তচরবৃত্তি ও তৎপরতা চালান বলে তাইওয়ানের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় চীনা নাগরিকসহ নিহত ৫, আহত ৯
তবে অঞ্চল দুটির মধ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও চীনের অনেক নাগরিকই তাইওয়ানে বসবাস করে আসছিলেন, আবার তাইওয়ানেরও প্রায় এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ চীনে বাস করেন।
তবে গত মার্চে দেশটির অভ্যন্তরে চীনের চলমান গোপন তৎপরতা বন্ধের দাবিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে ভ্রমণ ও পুনর্বাসনে কড়াকড়ি আরোপ করেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সে সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চীনের কর্তৃত্ব নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তিন চীনা বংশোদ্ভূত নারীর ভিসা বাতিল করে তাইওয়ান সরকার। পরে ওই নারীর তাইওয়ানিজ স্বামী ও সন্তানকে ছেড়ে তাকে চীনে ফেরত পাঠানো হয়।
তাইওয়ানের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, তাড়াহুড়ো করে নথিপত্র ঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই লোকজনকে নির্বাসিত করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু মানুষজন অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট লাই বাক স্বাধীনতা সীমিত করছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট লাই।
লাই জানান, নাগরিকত্ব বাতিল করার আগে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সেনা সদস্যদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে— তাদের কখনো চীনের নাগরিকত্ব ছিল না। তাছাড়া ১০ হাজারের বেশি সাধারণ জনগণকেও চীনের হুকু (স্থায়ীভাবে চীনের থাকার জন্য এটি দরকার) বাতিলের নথি দাখিল করতে বলা হয়। যারা দাখিল করেনি তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা বাংলাদেশিদের ফেরাতে চুক্তি
চলতি মাসের শুরুর দিকে হুকু বাতিলের প্রমাণ দাখিল না করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে তাইওয়ানের জাতীয় অভিবাসন সংস্থা (এনআইএ)। এনআইএ জানায়, যারা হুকু বাতিল করার কাগজ জমা দিয়েছেন, তারা পুনরায় তাইওয়ানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে।
তবে তাইওয়ানের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক লিও মেই জুন বলেন, এই নির্বাসন অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে চীনা সরকারকে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিতে পারে। এতে বেইজিংয়ের প্রপাগান্ডারই বিজয় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৪০৪ দিন আগে
তাইওয়ানের পর দ. কোরিয়া গেলেন পেলোসি
দক্ষিণ কোরিয়ায় সফররত মার্কিন হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বৃহস্পতিবার দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সাক্ষাত করবেন।
এর আগে চীনের অব্যাহত হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও তাইওয়ান সফর শেষ করে পেলোসি এবং কংগ্রেসের অন্যান্য সদস্যরা বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে তারা জাপান সফরে যাবেন। এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে এর আগে পেলোসি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া যান।
বৃহস্পতিবার পেলোসি দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের স্পিকার কিম জিন পিয়ো এবং পার্লামেন্টের অন্যান্য সিনিয়র সদস্যদের সাথে দেখা করবেন। এসময় তাদের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু বিষয়ক আলোচনা প্রধান্য পাবে বলে জানা গেছে।
একজন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, একই দিন পেলোসির একটি আন্তঃকোরিয়ান সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে যা যৌথভাবে আমেরিকান নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এবং উত্তর কোরিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালায় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সাথে ফোনে কথা বলবেন পেলোসি। তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠকের আয়োজন করা হয়নি।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করে জানিয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ।’
এর আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি দেশটি ত্যাগ করেছেন। পেলোসির এই সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
তাইওয়ানে পেলোসির আগমনের পর সামরিক মহড়া দিয়েছে চীন এবং তার এই সফর তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনে উসকানি বলে অভিহিত করেছে চীন।
পড়ুন: তাইওয়ান ছাড়লেন ন্যান্সি পেলোসি
তাইওয়ানকে কখনো ছুড়ে ফেলবে না যুক্তরাষ্ট্র: পেলোসি
১৪০১ দিন আগে
তাইওয়ানকে কখনো ছুড়ে ফেলবে না যুক্তরাষ্ট্র: পেলোসি
চীনের অব্যাহত হুমকি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কখনো তাইওয়ানকে ছুড়ে ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
বুধবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাত করার পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পেলোসি বলেন, ‘আজ বিশ্ব গণতন্ত্র এবং স্বৈরাচারের মধ্যে একটি পছন্দের মুখোমুখি। তাইওয়ানে এবং সারা বিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমেরিকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’
এর আগে চীনের অব্যাহত হুমকির মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তাইওয়ানে পৌঁছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার।
পেলোসির তাইওয়ান সফরকে ঘিরে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চীন তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের সফরকে দ্বীপের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখে।
পেলোসির আগমনকে ঘিরে তাইওয়ান সীমান্তের আকাশসীমায় একাধিক সামরিক অভিযান এবং মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চীনা সেনাবাহিনী ৪ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত একাধিক জায়গায় লাইভ-ফায়ার ড্রিল পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বিশ্বাসঘাতকতা তার জাতীয় বিশ্বাসযোগ্যতাকে দেউলিয়া করছে।’
পড়ুন: চীনের হুমকির মধ্যেই তাইওয়ান পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার
১৪০২ দিন আগে
চীনের হুমকির মধ্যেই তাইওয়ান পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার
চীনের অব্যাহত হুমকির মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তাইওয়ানে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ও দেশটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা ন্যান্সি পেলোসি।
মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিমানে চড়ে তাইপেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন পেলোসি। এসময় তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য তাইওয়ানি ও আমেরিকান কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
পেলোসির তাইওয়ান সফরকে ঘিরে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চীন তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের সফরকে দ্বীপের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখে।
তাইওয়ানে পৌঁছার পর এক বিবৃতিতে পেলোসি বলেন, এই সফর তাইওয়ানের প্রাণবন্ত গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য আমেরিকার অটল প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করে।’
পেলোসির আগমনকে ঘিরে তাইওয়ান সীমান্তের আকাশসীমায় একাধিক সামরিক অভিযান এবং মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ৪ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত একাধিক জায়গায় লাইভ-ফায়ার ড্রিল পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছে। তাইওয়ানের আশেপাশের পানিতে ছয়টি ভিন্ন এলাকায় মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বিশ্বাসঘাতকতা তার জাতীয় বিশ্বাসযোগ্যতাকে দেউলিয়া করছে।’
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘কিছু আমেরিকান রাজনীতিবিদ তাইওয়ানের ইস্যুতে আগুন নিয়ে খেলছেন। এটি অবশ্যই কোনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। আমেরিকার গুন্ডামিপূর্ণ মুখের উন্মোচন বিশ্বের শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।’
পেলোসি সোমবার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তার এশিয়ার সফর শুরু করেন। এই সপ্তাহের শেষের দিকে তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন।
পড়ুন: বিশ্ব ‘পরমাণু বিপর্যয়ের’ থেকে এক ধাপ দূরে: জাতিসংঘ মহাসচিব
মার্কিন বন্দুক সহিংসতার জন্য পুঁজিবাদ দায়ী: আল জাজিরা
১৪০২ দিন আগে
তাইওয়ান ভ্রমণে গেলেন ফরাসি সিনেটর প্রতিনিধি দল
চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্কের চরম উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্সের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিনেটর অ্যালিয়ান রিচার্ডের নেতৃত্বে একদল ফরাসি সিনেটর পাঁচ দিনের সফরে বুধবার তাইওয়ান পৌঁছেছেন।
সিনেটর রিচার্ডের নেতৃত্বে ফরাসি দলটি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই-ইং-ওয়েন, দেশটির অর্থ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং মেইনল্যান্ড অ্যাপেয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রিচার্ডের এই সফর বাতিল করতে চীনে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে সতর্কপত্র পাঠিয়েছিল চীন।
স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল দাবি করা চীন এই সফরের বিরোধিতা করতে পারে। এছাড়া দেশটির সঙ্গে যে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতারও চরম বিরোধিতা করে চীন।
আরও পড়ুন: পদার্থে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী
সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তাইওয়ানের আকাশ সীমায় চীনা যুদ্ধ বিমান বহর ১৪৯ বার উড়ে যায়। এতেই ৪০ বছরের মধ্যে তাইওয়ান-চীন সম্পর্ক উত্তেজনার চরম তুঙ্গে রয়েছে। তবে চীনা যুদ্ধ বিমানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থীতিশীল’ বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে চীন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে এবং মার্কিন জাহাজ তাইওয়ান স্ট্রেইট বরাবর চলাচল করেছে যা ‘উত্তেজনাকর’।
দেশটির আকাশে চীনা যুদ্ধ বিমান উড়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘৪০ বছরের মধ্যে চরম গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং।
১৯৪৯ সালে এক গৃহযুদ্ধের পর চীন ও তাইওয়ান আলাদা হয়। বর্তমানে দেশ দুটির মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
পড়ুন: কাবুলে আইএসের আস্তানায় তালেবানের অভিযান
ফ্রান্সের ক্যাথলিক চার্চের ৩ হাজার যাজক শিশু নির্যাতনকারী
১৭০৩ দিন আগে
তাইওয়ানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ৪৮
তাইওয়ানে একটি টানেলের ভেতরে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: সিলেটে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় তদন্ত কমিটি
হুয়ালিয়েনের কর্মকর্তারা জানান, আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।
দেশটির গণমাধ্যমে জানানো হয়, ট্রেনে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
খবরে বলা হয়, হুয়ালিয়েন শহরের কাছে ওই সুড়ঙ্গে প্রবেশের সময় একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। একটি নির্মাণ প্রকল্পের সামগ্রী পরিবহনের ওই ট্রাক ঠিকমত পার্ক করা না থাকায় রাস্তা থেকে পিছলে রেললাইনে উঠে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ
হুয়ালিয়েনের কাউন্টির উদ্ধার দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকটির গতি বেড়ে গেলে ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে এবং এতে ট্রেনটির ১-৫টি বগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
টেলিভিশন ফুটেজ এবং অফিসিয়াল কেন্দ্রীয় নিউজ এজেন্সির ওয়েবসাইটে মানুষের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, মানুষ ট্রেনের ছাদ দিয়ে সুড়ঙ্গের বাইরে বেরিয়ে আসেন।
তাইওয়ানের ঐতিহ্যবাহী টম্ব সুইপিং ডে’র দীর্ঘ ছুটির শুরুতেই এ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এর আগে, ২০১৮ সালে তাইওয়ানের উত্তর পূর্বাঞ্চলে রেল লাইনচ্যুত হয়ে ১৮ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: তাইওয়ানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৮
১৯৯১ সালে স্বশাসিত এ দ্বীপে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ১১২ জন আহত হয়েছিল।
১৮৯০ দিন আগে
চীনে রহস্যময় ভাইরাসে ৪৪০ জন আক্রান্ত, ৯ জনের মৃত্যু
চীনে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় নতুন এক ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৪৪০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে অন্তত নয় জন মারা গেছেন।
২৩২৬ দিন আগে
তাইওয়ানে সেতু ধসে নিহত ৪, নিখোঁজ ২
তাইপে, ০২ অক্টোবর (এপি/ইউএনবি)- তাইওয়ানে একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে মাছ ধরার নৌকায় আঘাতের ঘটনায় চার জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটকে পড়া নিখোঁজ আরও দুই জেলের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
২৪৩৮ দিন আগে