কীটনাশক
রংপুরে আম রক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
রংপুরে গ্রামের পথে হাঁটলেই দেখা যায়, মুকুল ঝরে পড়ে গাছে দুলছে আমের গুটি। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে লাভ-লোকসানের হিসাব কষা শুরু করেছেন। তবে এই হিসাব করতে গিয়ে গুটি আম রক্ষায় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে ৬০৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে ৮২ হাজার ৬৬২ টন হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আম উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আম মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাছের পরিচর্যা শুরু হয়। অধিক ফলনের আশায় আম সংগ্রহের পর গাছের গোড়ায় হরমোন ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন ব্যাহত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বদরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমে এত বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যে তা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। বিশেষ করে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আগের স্বাদও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাইরের বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে।
কৃষকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলছেন। দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় তারা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ওই এলাকার কৃষক আবদুল বাতেন বলেন, ১৫ বছর ধরে আম চাষ করছি। নিয়মিত স্প্রে ও কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় এখন এর প্রভাব শরীরে পড়ছে। মাঝে মাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
পদাগঞ্জের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, আগে হাঁড়িভাঙ্গা আমে ২-৩ বার কীটনাশক স্প্রে করলেই চলত এবং স্বাদও ভালো ছিল। এখন ৩০-৩৫ বার স্প্রে করতে হয়। পাশাপাশি হরমোন ব্যবহার না করলে গাছে আম ধরে না। ফলে অতিরিক্ত স্প্রে ও হরমোন ব্যবহারে আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।
চিকিৎসকদের মতে, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আশরাফী বলেন, অতিরিক্ত হরমোন ব্যবহারে বিষক্রিয়া হতে পারে যা কিডনি জটিলতা ও রক্তকণিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার না করলে শ্বাসনালিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে।
রংপুর আইডিয়াল হেলথ সিটির ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েট কনসালটেন্ট ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ফলের গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট করে। ফলে প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণও থাকে না।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, মুকুল ফোটার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এরপর গুটি মার্বেল আকার ধারণ করলে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল পরিপক্ব হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে স্প্রে বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বেই হরমোন ব্যবহার করা হয় এবং পরিমিত ব্যবহারে এর কোনো ক্ষতি নেই।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, এখনও বড় পরিসরে আম রপ্তানি সম্ভব হয়নি। তবে গত বছর কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছিল। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মানদণ্ড, যেমন ‘ফিট ফর হিউম্যান কনজাম্পশন’ নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
১২ দিন আগে
হাওর রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: মৎস্য উপদেষ্টা
হাওর রক্ষায় কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে হাওর অঞ্চলে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই বলে মত দেন তিনি।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে ‘বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় পাখি শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরণের শিকার নির্মম, অমানবিক, প্রাণবৈচিত্র্যসহ সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য ক্ষতি।’
আরও পড়ুন: দেশ থেকে সার সংকট জাদুঘরে পাঠানো হবে: কৃষি সচিব
মৎস্য উপদেষ্টা জানান, বাইক্কা বিল রক্ষার জন্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে। বিদেশি সহায়তা নির্ভর না হয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নিজস্ব অর্থায়নে অবিলম্বে দাদুরিয়া বিল খননের উদ্যোগও গ্রহণ করা হবেও আশ্বাস দেন।
‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের কাজগুলো অভয়াশ্রম রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিল রক্ষায় মৎস্য কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে কাঙ্ক্ষিতভাবে অভয়াশ্রম রক্ষায় কাজ করা কঠিন হবে। কালচারাল (নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ উৎপাদন) মাছের ওপর নির্ভর করে চলতে চাই না,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ৫ আগস্টে শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের সহায়তায় কাজ করে যাবে।’
এর আগে শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে হিজল গাছ রোপন করেন তিনি।
৪৩৫ দিন আগে
কচুখেতে মিলল কীটনাশক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কচুখেত থেকে রাজু মণ্ডল নামে এক কীটনাশক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মন্ডলটারী গ্রামের রাস্তার পাশে কচুখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে গোডাউনে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ
রাজু মণ্ডল মন্ডলটারী গ্রামের মো. জহুরুল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাগলা বাজারে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করতেন রাজু। রবিবার বিকালে রাজু ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরে সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা মন্ডলটারী গ্রামের রাস্তার পাশে কচুখেতে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে তার লাশ উদ্ধার করে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপ কুমার সরকার বলেন, রাজুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ধলেশ্বরী নদী থেকে কারা হিসাবরক্ষকের লাশ উদ্ধার
পঞ্চগড়ে নিখোঁজের একদিন পর কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার
৬৭২ দিন আগে
‘কীটনাশকের বিষক্রিয়ায়’ ২ ভাইয়ের মৃত্যু: পেস্টকন্ট্রোল কোম্পানির চেয়ারম্যান ও এমডি গ্রেপ্তার
রাজধানীর বসুন্ধরায় বাড়িতে স্প্রে করা ‘কীটনাশকের বিষক্রিয়ায়’ অসুস্থ হয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ওই পেস্টকন্ট্রোল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জুন) টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারেরা হলেন- কোম্পানির চেয়ারম্যান আশরাফ এবং এমডি ফরহাদ।
লালবাগ ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালবাগ বিভাগের ডিবির একটি দল টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
তারা এখন ঢাকার পথে রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বসুন্ধরায় ‘কীটনাশকের বিষক্রিয়ায়’ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
পুলিশ ও শিশুটির পরিবার জানায়, বাচ্চাদের বাবা মোবারক হোসেন তেলাপোকা মারার উদ্দেশ্যে ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডকে নিয়োগ দেন। গত ২ জুন বসুন্ধরার ১ নম্বর ব্লকে তাদের নতুন বাড়িতে ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের কর্মীরা কীটনাশক স্প্রে করে। কীটনাশক ব্যবহার করায় পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে একদিন বাইরে অবস্থান করে।
৪ জুন পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে আসার পর কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের দ্রুত ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
৫ জুন সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ বছর বয়সী জোহান মারা যায় এবং রাতে ১৫ বছর বয়সী জাহিন মারা যায়।
এ ঘটনায় গত ৫ জুন মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বসুন্ধরায় কীটনাশক বিষ প্রয়োগের পর অসুস্থ হয়ে ৯ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ভাইয়ের মৃত্যু
রাজধানীর ওয়ারীতে গ্যাসলাইনের আগুন নিভেছে
১০৪৭ দিন আগে
শুধু কীটনাশক দিয়ে নয়, ডেঙ্গুকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে: মেয়র তাপস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, শুধু কীটনাশক দিয়ে নয়, ডেঙ্গুকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে মাথায় নিয়ে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আমরা সচেতনতামূলক গণ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমরা ঘরে ঘরে এই লিফলেট বিতরণ করতে চাই।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ডেঙ্গুকে আমরা সামাজিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, প্রতিরোধ করতে চাই। কারণ, শুধু কীটনাশক প্রয়োগ করে ডেঙ্গু রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব না। এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব না।
আরও পড়ুন: নগর পরিবহনের ২৪ ও ২৫ নম্বর যাত্রাপথ চালু করা হবে: মেয়র তাপস
বুধবার (৩১ মে) রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ সড়ক এর নামফলক উন্মোচন, সড়ক উদ্বোধন এবং বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণ লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ঢাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার বাসা-বাড়ি, স্থাপনার অভ্যন্তরে যে পানি জমে, থেমে থেমে বৃষ্টির ফলে যে পানি জমে, আগে আমরা বলতাম ৩ দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন।
তিনি বলেন, আমরা এখন বলছি, পারলে নিয়মিত প্রতিদিন, জমা পানি ফেলে দিন। কোথাও যদি আমরা পানি জমতে না দেই, তাহলে আমরা এই এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে পারব। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করতে পারব।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সড়কগুলোকেও আরও উন্নত ও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আপনারা দেখেছেন, এটি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় নিমগ্ন ছিল। আমরা এ সড়কের সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছিলাম এবং ড্যাপের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা এই সড়কটি প্রশস্থ করেছি। এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা নর্দমা নির্মাণ করেছি, দু`পাশে হাঁটার পথের ব্যবস্থা করেছি। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির এবং উপাসনালয়।
আমরা এই মন্দিরের প্রয়াত সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দের নামে আমরা এই সড়কটির নামকরণ করেছি। এই সড়কটি প্রশস্ত করার ফলে অত্র এলাকার মানুষ উপকার পাবেন। আমরা যে নকশা করেছি তা পরিপালন করে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-৯ আসনের মুগদা সড়কসহ মূল সড়কগুলোকে আরও উন্নত করব।
এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে দুই সিটি করপোরেশনেরই কীটনাশক কমিটি রয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। কমিটির বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা পুরো বছরের কীটনাশক আমদানি ও মজুত করেছি।
এছাড়াও ২০২০ সালের পর থেকে আমাদের কীটনাশকের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।
আরও পড়ুন: ধোলাইখাল জলাধারের পরিবেশ হাতিরঝিলের চাইতে সুন্দর ও নান্দনিক হবে: মেয়র তাপস
মার্কেট ঝুঁকিমুক্ত করতে সম্মিলিত-দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হবে: মেয়র তাপস
১০৫৫ দিন আগে
৫০ তালগাছে কীটনাশক: আ.লীগ নেতা শাহরিয়ারকে তলব
রাজশাহীর বাগমারার বাইগাছা এলাকায় ৫০টি তালগাছ মেরে ফেলার জন্য কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাহরিয়ার আলমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
‘৫০ তালগাছে কীটনাশক’ শিরোনামে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম আলোয় সম্পাদকীয় ছাপা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ: নিহত ও আহত বাংলাদেশি কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট
বাংলা ভাষায় আদেশ ঘোষণা করেন বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি, যা চলতি বছর ভাষার মাসের প্রথম দিনে প্রথম বাংলায় দেয়া আদেশ।
রুলে ৫০টি তালগাছ মেরে ফেলতে কীটনাশক প্রয়োগের জন্য কেন শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিতে নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আদেশে আদালত বলেছেন, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত করবেন। তাঁরা উল্লেখিত গাছগুলোর ছবিসহ প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করবেন। প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদেশের কপি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বরাবর পাঠাতে বলেছেন আদালত। আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে টেলিফোন ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠাতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
আদেশে আদালত বলেন, খবরের উল্লেখিত ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সবুজ বনায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যে অঙ্গীকারকে বিবেচনায় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিচ্ছি।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই আমাদের মনোযোগের বাইরে থাকে। যেমন পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ও বজ্রপাতে মৃত্যু।
আরও পড়ুন: ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
প্রতিবছর এসব কারণে এত বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ নিয়ে সরকার বা নীতিনির্ধারকদেরও বলিষ্ঠ কিছু করতে দেখা যায় না।
নানান সময় প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সেগুলোর কোনো সুফল মেলেনি, পুরোপুরি ব্যর্থই বলা যায়। বজ্রপাত নিরোধে সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করেছেন, কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও বসানোও হয়েছে।
লাখ লাখ তালবীজ সংগ্রহ ও তালগাছ রোপণের কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু দিন শেষে জনগণের অর্থ অপচয় ছাড়া কিছুই হয়নি। সেখানে সাধারণ মানুষেরাই স্বেচ্ছায় বছরের পর বছর ধরে তালবীজ রোপণ করে বরং বড় ভূমিকা রাখছেন।
এখন সেসব তাল গাছের ওপরও আসছে আঘাত। সম্প্রতি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাইগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রায় এক দশক আগে স্থানীয় এক বৃদ্ধসহ কয়েকজন ব্যক্তি সড়কের উভয় পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাল বীজ বপন করেছিলেন।
সেসব তাল গাছ বড় হয়ে এখন ছায়া দিচ্ছে। একটি তাল বীজ গাছ হয়ে উঠতেই সময় লাগে এক দশক বা যুগের বেশি।
ফলে বোঝা যায়, অনেক নিষ্ঠা ও ধৈর্য নিয়ে পরিচর্যা করে তাল গাছগুলো বড় করে তুলেছেন বাইগাছার সেসব উদ্যোগী মানুষ। আর আমরা অবাক হলাম, সেই গাছগুলো নিধনে বাকল তুলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন শাহরিয়ার আলম নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা।
প্রকৃতি ও গাছের প্রতি কী রকম নির্দয় হলে এমন কাজ করা যায়, সেটিই প্রকাশ পায় এ ঘটনায়।
এদিকে তালগাছ নিধনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাহরিয়ার আলম। সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য প্রথম আলোর প্রতিবেদককে অনুরোধও করেন তিনি।
তাল গাছের ছায়ার কারণে শাহরিয়ারের লাগানো আমগাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠছিল না। ফলে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যের ডিজিকে সেবা নিশ্চিত করতে বললেন হাইকোর্ট
এমন অমানবিক কাজের জন্য শাহরিয়ার আলমকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এছাড়া বন বিভাগের স্থানীয় দায়িত্বশীলদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, মরতে বসা তাল গাছগুলোকে সারিয়ে তোলার দ্রুত পদক্ষেপ নিন—যোগ করেন হাইকোর্ট।
১১৭৪ দিন আগে
দেশকে বিপজ্জনক জৈব রাসায়নিক কীটনাশক ডিডিটি মুক্ত ঘোষণা পরিবেশমন্ত্রীর
সরকারিভাবে বাংলাদেশকে বিপজ্জনক জৈব রাসায়নিক কীটনাশক ডিডিটি মুক্ত ঘোষণা করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
রবিবার (৮ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রামের মেডিকেল সাব-ডিপো থেকে সাফল্যজনকভাবে ৫০০ টন ডিডিটি অপসারণ এবং বিশ্ব জীববৈচিত্র সম্মেলনে অর্জন উপলক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৯৮৫ সালে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ৫০০ টন ডিডিটি পেস্টিসাইড আমদানি করেছিল। নিম্নমান বিবেচনায় আমদানি করা অব্যবহৃত বিপজ্জনক জৈব রাসায়নিক পেস্টিসাইড ডিডিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের মেডিকেল সাব-ডিপোতে মজুত রাখা হয়।
উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গ্লোবাল এনভাইরনমেন্ট ফেসিলিটির অর্থায়ন এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কারিগরি সহায়তায় পেস্টিসাইড রিস্ক ‘রিডাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ১০ ডিসেম্বর এ বিষাক্ত পদার্থ সম্পূর্ণভাবে ফ্রান্সে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: সরিষা চাষে বিপ্লব ঘটছে, বছরে সাশ্রয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা: কৃষিমন্ত্রী
মন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই রপ্তানির ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব হয়েছে। স্টকহোম কনভেনশন কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্য ডিডিটি রপ্তানির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূর্ণ হলো।
সংবাদ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ৭-১৯ ডিসেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের অর্জন বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, এ সম্মেলনের মধ্যে হাই-লেভেল সেগমেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রদত্ত বক্তব্যে ২০২০ পরবর্তী গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে উন্নত বিশ্বকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সহায়তা বাড়ানো এবং বিশ্বের মোট জিডিপির অন্তত এক ভাগ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যয় করতে আহ্বান জানানো হয়।
তিনি জানান, এবারের সম্মেলনে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘লিভিং হারমোনি উইথ নেচার’ রূপকল্প এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য এবং ইকোসিস্টেমের ক্ষতিসাধন রোধ ও রক্ষার অভিলক্ষ্য নিয়ে ‘কুনমিং-মনট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ গৃহীত হয়। ওই ফ্রেমওয়ার্কে চারটি অভীষ্টের আওতায় ২৩টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হলো–পৃথিবীব্যাপী ৩০ ভাগ স্থল এবং জলজ পরিবেশকে সংরক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সব উৎস থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন নিশ্চিত করা; উন্নত বিশ্ব থেকে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত বিশ্বে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
ওই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় দেশের ‘ন্যাশনাল বায়োডাইভার্সিটি স্ট্রাটেজি অ্যান্ড একশন প্ল্যান’ আপডেট করা হবে।
আরও পড়ুন: সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রঙিন যশোরে দিগন্তজোড়া মাঠ
মন্ত্রী জানান, সম্মেলনে সাসটেইনেবল ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেট, নেচার অ্যান্ড কালচার, কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন বায়োডার্ভিসিটি, বায়োডার্ভিসিটি অ্যান্ড এগ্রিকালচার, বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেইঞ্জ, ইনভেসিভ এলিয়েন স্পেসিজ, সিন্থেটিক বায়োলজি ইত্যাদি শিরোনামে আরও কয়েকটি ডকুমেন্টস গৃহীত হয়।
ওই ডকুমেন্টস নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সভা করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া উন্নত বিশ্ব যাতে পর্যাপ্ত আর্থিক, কারিগরি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে পারে, সে লক্ষ্যে এগিয়ে আসে সেজন্য বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সম্মেলনে আহ্বান করেছে।
সে প্রেক্ষাপটে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে এ মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি কর্তৃক ২০২৩ সালের মধ্যে গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক তহবিল (জিবিএফ ফান্ড) প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মন্ত্রী জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জিবিএফ বাস্তবায়নে তথা জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশ সংরক্ষণের জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব ডক্টর ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর আব্দুল হামিদ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বোরোর উৎপাদন বাড়াতে ১৭০ কোটি টাকার প্রণোদনা
১১৯৮ দিন আগে
সাভার বিসিক এলাকায় কীটনাশক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
সাভারের ধামরাইয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পাঞ্চলের একটি কীটনাশক কারখানায় শনিবার ভোররাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা মাহফুজ আহমেদ জানান, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার লিমিটেড কারখানার চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: মালদ্বীপে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ২ বাংলাদেশি শনাক্ত
চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাংক ও ১০টি দোকান পুড়ে ছাই
নারায়ণগঞ্জে পাটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত
১২৫৫ দিন আগে
দেশে খাদ্য সংকট নেই: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও প্রান্তিক কৃষকের পরিশ্রমে দেশে এখন খাদ্য সংকট নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
বুধবার পিরোজপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আউশ ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষককে বাঁচাতে হলে, কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য দিতে হলে কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সহযোগিতা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষক এখন ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছে। বিনা জামানতে কৃষি ঋণ গ্রহণ করছে। তাদের বিনামূল্যে বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বছর ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে কৃষককে সার বিতরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সীউইডসহ সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর
শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, কৃষককে সবল করতে না পারলে, খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে সে জায়গা থেকে আমরা পেছনে পড়ে যাব।
কৃষকদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিনির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনশক্তি আপনারা। আপনাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমে উৎপাদিত শস্য খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। শুধু ধান, গম, ভুট্টার উপর নির্ভর না করে অন্যান্য যে সব ফসল ফলানো সম্ভব, সে বিষয়েও আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।’
আরও পড়ুন: চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি সমস্যা সমাধানে সরকার বদ্ধপরিকর: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন খাবারের কোন হাহাকার নেই, সংকট নেই। তবে কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়ার দুর্বার গতি রক্ষা করতে না পারলে এ সংকট যে কোন সময় দেখা দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে পিরোজপুর সদর উপজেলার ১৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আউশ ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।
১৪৬১ দিন আগে
চাঁদপুরে কীটনাশক খেয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা!
চাঁদপুরের মতলবে কীটনাশক খেয়ে ১৬ বছরের এক কিশোর ও ১২ বছরের এক কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’র খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে উপজেলার কাশিম নগর গ্রামে কিশোরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা!
পুলিশ জানায়, কিশোরীর খালি বাড়িতে বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে কিশোরীর মা দু’জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলেটিকে ঢাকা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
মতলব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কামাল জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
১৫১৩ দিন আগে