অগ্নিকাণ্ড
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে ছয় সদস্যের নতুন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন।
হাসপাতালে পৌঁছে তিনি কনফারেন্স রুমে এক বৈঠকে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম, ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সহসভাপতিকে অবহিত করা হয়।
এদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। পরে সেটি বাতিল করে বুধবার আগের কমিটির দুই সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন দুই সদস্য যুক্ত করে ছয় সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমান ভূইয়াকে। সহকারী পরিচালক ডা. মাইন উদ্দিন খানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেন্টাল সার্জন ডা. খন্দকার মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় এবং ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি।
উপপরিচালক জানান, আগের পাঁচ সদস্যের কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের দুজন সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠায় পুনর্গঠিত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের কাউকে রাখা হয়নি।
কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যারা মারা গেছেন, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
৩ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে ৬ মৃত্যুর খবর সত্য নয়: বিভাগীয় কমিশনার
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘পদদলিত হয়ে’ ৬ জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গতরাতে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের ৩টি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে একটি ইউনিটসহ মোট ৪টি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আগুনে মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে ৮ তলা পর্যন্ত লিফটের সবকিছু পুড়ে যায়।
সরেজমিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগার খবরে নতুন ভবনে থাকা রোগী ও স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে এসেছেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা শিশু ও নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ অনেক কর্মী ছুটাছুটি করে রাস্তায় নেমে আসেন।
আগুন লাগার খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্ত্বরে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় জমান এবং ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে সে সময় অন্তত ১০ জন আহতও হন।
গতকাল রাতে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুনে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বা রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে হাসপাতালের মেঝেতে পানি থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। সেই পরিস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোগীদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ বেডে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পরে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তখন বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮) ও জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার কুলসুমা (৩৫)।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুও মারা গেছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে মধ্যরাতের দিকে হাসপাতাল থেকে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন—এমন প্রমাণ তিনি কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পাননি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পেলে তিনি সেটা যাচাই করে দেখবেন।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা উচিত নয়। প্রকাশ করলে তাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত খবরে জাহানারা নামে এক নারী মৃতের তালিকায় আছেন, অথচ তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এখনও ভর্তি রয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, ইমার্জেন্সি, মর্গ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই আমরা নিশ্চিত হয়ছি, ৬ জনের মৃত্যুর খবর সত্য নয়। এতবড় একটি হাসপাতাল, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিনই এখানে বেশ কয়েকজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।’
তার বক্তব্য ধরে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল’ বলে জানান।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জাহিদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তনাধীন আছে। কোনো কোনো গণমাধ্যম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করলেও এটি নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
‘গণমাধ্যমে আসা খবরটি অসত্য’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা কোনো মরদেহ পাইনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিচ্ছি এবং স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছি। তবে এখন পর্যন্ত কনক্রিট এভিডেন্স আসেনি।’
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন: হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী।
কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে টাকা-স্বর্ণালংকার পুড়ে ছাই
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় রেখা বেগমের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি ঘর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পজেলার বাশুড়িয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে তার ছেলের বিয়ের জন্য কেনা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় বিয়ের আয়োজনও ভেস্তে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বিধবা রেখা বেগমের স্বামী হারুন অর রশীদ প্রায় ১৩ বছর আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বিয়ে উপলক্ষে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা করা হয়েছিল।
গতকাল (শনিবার) গভীর রাতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে দুটি ঘর, আসবাবপত্র, নগদ দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে। এতে বিধবা রেখা বেগমের পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িতে আগুন লাগার পর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা রিসিভ করা হয়নি। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে বিষয়টি জানানো হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন তারা।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে ঘটনাটি জানানোর পর বাড়িটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়।
৬ দিন আগে
মহাখালীতে চারতলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
রাজধানীর মহাখালীতে একটি চারতলা ভবনের ছাদে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের মালামালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১১ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। ১১টা ১২ মিনিটে খবর পেয়ে ১১টা ২৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি)।
তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
৯ দিন আগে
ধানমণ্ডি ২৭-এ এপেক্সের শোরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে
রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের একটি শোরুমে আগুন লাগার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর ১০টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি) সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, পরে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রচেষ্টায় দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৯ দিন আগে
বাড্ডায় ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক (মিডিয়া সেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আর প্রয়োজন না থাকায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়।
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১৩ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
১৪ দিন আগে
খুলনায় হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড
খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে হোটেলের ৫ তলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষে আগুন ও ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তারা সোনাডাঙ্গা থানাকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করে পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থালে ছুটে আসি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত থেকে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকি। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। হোটেলের পঞ্চম তলার দক্ষিণ পাশের ওই কক্ষ যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন, তার ব্যাগটি আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া আর কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, আমরা ৯টা ১০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাই। এরপর আমাদের ২টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, হোটেলকক্ষের এসির ইনডোর থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহাতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
১৪ দিন আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
২২ দিন আগে
রাশিয়ার গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিহত, নিখোঁজ একজন
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে একজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ শুক্রবার পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ জন কর্মী মারা যান।
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা বাংলাদেশি কর্মী জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। এ ছয়জনসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাস ইতোমধ্যে একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
২২ দিন আগে