পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ই-অ্যাপোস্টিলে ২৯ লাখের বেশি সনদ ইস্যু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশের ই-অ্যাপোস্টিল সেবা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৯ লাখের বেশি অ্যাপোস্টিল সনদ ইস্যু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, চিকিৎসা, বিয়ে, জন্ম, অভিজ্ঞতা সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথির বিপরীতে এ সেবা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় বলছে, ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মে চালু হওয়া এই অনলাইন সেবা নাগরিকদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সময় ও অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে।
এদিকে ই-অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়ায় সত্যায়িত বাংলাদেশের সনদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে আজ (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে সরকারের ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মূল সনদ যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা, সংশ্লিষ্ট সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষগুলোকে ই-অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করাই ছিল সভার মূল লক্ষ্য।
৪ দিন আগে
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস’
ক্রীড়ার মাধ্যমে কূটনীতি, বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার (আইএসডি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘দ্বিতীয় ডিপ্লোম্যাটিক ইনডোর গেমস ২০২৬’।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ছিল ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি ইনিশিয়েটিভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী আসর।
বিভিন্ন দূতাবাস, হাইকমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের বিভিন্ন ক্যাটাগরি ছিল। আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ডেনমার্ক, মিসর, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
এছাড়া জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউএনডিপি, আইওএম, আইএফসি ও আইএসডির প্রতিনিধিরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সমঝোতা তৈরির অন্যতম বড় মাধ্যম হলো খেলাধুলা। এ আয়োজন প্রথাগত কূটনৈতিক পরিবেশের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও স্বাগতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা ও সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে।
আইএসডির ডিরেক্টর মাইক মিলার বলেন, কূটনৈতিক মহলের অতিথিদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক চেতনাকে ধারণ করা তাদের আইবি কারিকুলামের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠানের এই ক্রীড়াসুলভ মেলবন্ধন সেই দর্শনেরই প্রতিফলন।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতার বাইরেও এ আয়োজন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল, স্বাগতিক মন্ত্রণালয় ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করে। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও খেলার বিরতি ও আপ্যায়নের সময় অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
যারা চ্যাম্পিয়ন
২৯ আগস্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হয়।
ব্যাডমিন্টন পুরুষ দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন আইওএমের সোহেল বড়ুয়া ও মো. মোর্শেদুল আলম মুন্না। রানার-আপ হন আইএসডির মানাস ও বৈশাক।
ব্যাডমিন্টন মিশ্র দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেসন ও সৈয়দা তাসমিন সুলতানা। রানার-আপ হন ইন্দোনেশিয়ার সাপতো সুদিয়ান্তো ও নূর।
টেবিল টেনিস দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস ও মো. মহসিন আজাদ। একই সংস্থার নিউটন রনি দাস ও মো. সুজা উদ্দিন ভূঁইয়া রানার-আপ হন।
টেবিল টেনিস এককে চ্যাম্পিয়ন হন ইউএনডব্লিউএফপির অয়ন দেওয়ান এবং রানার-আপ হন ডব্লিউএইচওর মো. রুহুল কুদ্দুস।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘আলাপ’-এর নির্বাহী সম্পাদক আহরার হোসেন, মধুমতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম, ইবিএলের হেড অব ব্র্যান্ড, মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনস জিয়াউল করিম, পূর্বাণী লাইফস্টাইল লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট শাহজালাল সুমন এবং চেম্বার ওয়ানের আইনজীবী মারিয়া তানজিমাৎ উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
১৯ দিন আগে
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কেউ যেন জেলে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে: শামা ওবায়েদ
কোনো দলের নেতাকর্মীই যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে কারাগারে বা আটক না থাকেন, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড হচ্ছে যে আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট আছি। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের নেতাকর্মী—কেউ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে কারাগারে বা আটক না থাকেন, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের অবস্থান।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘কোনো দল... বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, যে দলেরই হোক, অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিশোধের কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে না থাকে, আটক না থাকে, সেটা অবশ্যই বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।’
বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকাল ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিরা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গত সোমবার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর নেতাকর্মীরা।
‘সুতরাং আমরা কখনোই চাইব না যে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমলটা ফেরত আসুক। আমরা চাই সকল মানবাধিকার... মিনিমাম (ন্যূনতম) মানবাধিকার যেন প্রত্যেকটি নাগরিককে এনশিওর (নিশ্চিত করা) করা হয়,’ বলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনিদের বিরুদ্ধে এবং গুম-খুনের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই আইনগতভাবে যথাযথ।
তবে এর বাইরে ‘অতি উৎসাহী’ হয়ে অনেকে কিছু মামলা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব মামলা আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানিয়েছে, মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো মামলায় সত্যতা বা যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া না যায়, তাহলে সেগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা।
রবিবার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের কারণে এ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা মনে করি, (প্রধানমন্ত্রীর) এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’ এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত আসামিদেরও বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান এ কে এম শহীদুল করিম। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা তাদের (দিল্লি) প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।’
তিনি আরও বলেন, আমরা আবারও বলছি, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।
উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেক সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
৩৪ দিন আগে
বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দোষ অস্বীকার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ভাষায় তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি। এর আগেও আমরা বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাউ (অনুমোদন) করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘এক্সট্রিমিজম’ ও ‘টেররিজম’-এর একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জঙ্গিবাদের তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল। এখন তারা বিদেশের মাটিতে বসেও সেই একই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
‘তবে এটা ভারত এলাউ করবে কি করবে না, সেটা ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’, বলেন তিনি।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের বয়ান দেশি-বিদেশি কেউ বিশ্বাস করেনি, এখনও বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আন্তর্জাতিক মহলে মনোযোগ আকর্ষণের একটি পুরোনো রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।’
আওয়ামী লীগের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সময় নীরব ছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা শোনা ‘হাস্যকর’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭-১৮ বছরে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেটি আবার ফিরে আসুক—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই সম্পর্ক উন্নত হোক—এটাই চায়। ‘কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি, জ্বালানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। ‘আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এ ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে যোগ দেবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো একটি জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি সহযোগিতা আছে, পানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, সীমান্ত ইস্যু আছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। এই সংলাপ চলবে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন একটি বিষয়, যা ‘জুলাই যোদ্ধা’, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
‘যেটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি সাধারণ গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে—তাদের আহত করে। সেই জায়গাটায় ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে এবং এ বিষয়ে তাদের খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকুক, কারণ সেটি জনগণের স্বার্থে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং উভয় দেশের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে। ভারত যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সেটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
৪৪ দিন আগে
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য তার কাছে নেই। ‘আমি বিভিন্ন বৈঠক থেকে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।’
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে, হুতিদের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সাথেও কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সাথে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’—দুটি ভিন্ন বিষয়। এ দুটি ধারণা নিয়ে বিভ্রান্তি না রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
৪৮ দিন আগে
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অষ্টাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে ব্যাংকক, রোম, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফেরদৌসি শাহরিয়ারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
৫২ দিন আগে
পাট রপ্তানি সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, হবে আন্তর্জাতিক জুট এক্সপো
পাটখাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি অচিরেই আন্তর্জাতিক মানের একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল জুট এক্সপো’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ ঘোষণা দেন।
সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ‘সোনালি আঁশের’ সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর গুরুত্ব রয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ উদ্যোগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি পাট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
৬০ দিন আগে
কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরানো বাংলাদেশিদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান
কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নিয়েছে কুয়েত সরকার। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়েত সরকার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে হাসাবিয়া এলাকায় অবস্থিত খাদিজা বিনতে জাবের স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছেন।
দূতাবাসের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে কুয়েত সরকার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দূতাবাস কুয়েতের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দূতাবাস ইতোমধ্যে জরুরি যোগাযোগের নম্বরসহ পৃথক একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৬২ দিন আগে