বন্যার ঝুঁকি
তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি প্রয়োজনীয় জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাট সদর আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
৯ দিন আগে
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বেইলি সেতু বিধ্বস্ত, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন কয়েক গ্রামের মানুষ
ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত তিন শতাধিক পরিবার। নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি লোহার বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেতুর ওপর থাকা দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য বেঁচে যান।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকার বেইলি সেতুর অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়লে দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, চেল্লাখালী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গতকাল (সোমবার) সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রানীগাঁও এলাকায় ভাঙনের কারণে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানিবৃদ্ধির ফলে আয়নাপুর ও কাড়াগ্রাঁও এলাকায় তীব্র স্রোত ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করে। এতে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রবিবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। সোমবার সকাল থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে নিম্নাঞ্চলের অন্তত তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টার দিকে তা কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ২১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে সোমেশ্বরী নদীর পানি ২৪ দশমিক ১৭ মিটার এবং মহারশি নদীর পানি ২১ দশমিক ৬২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত পানি না এলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
১০ দিন আগে
ঝুঁকিতে খুলনা আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে গতকাল (শুক্রবার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।
তারা আরও বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
১৩ দিন আগে
কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় অবস্থিত চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীটির পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার এবং তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম পাউবো।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া জানান, এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
২৩ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমে বাড়ছে ভাঙন, পানিবন্দি অন্তত ২০ হাজার পরিবার
তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি দুর্ভোগ। নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
গত দুদিনে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬৫টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। চরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশারায় পড়েছে নদী পারের মানুষ। বিপৎসীমার উপরে বইছে দুধকুমারও।
চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ ও ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
উত্তরের ৫ জেলায় পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে ৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙছে তিস্তার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অংশেও। ৫ জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
৩০ দিন আগে
বন্যার ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে দ্রুত ধান কাটার তাড়া
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে ২৮ এপ্রিল থেকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাসে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার তাগিদ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর আগামী ৭ দিনের (২৩ এপ্রিল হতে ৩০ এপ্রিল) বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২৪-২৬ এপ্রিল হালকা থেকে মাঝারি, ২৭ এপ্রিল মাঝারি হতে ভারী এবং ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
উক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বৌলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ২৮ এপ্রিল থেকে নদীগুলোর কোথাও কোথাও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার ১ দশমিক ৭৬ মিটার বা ৫ দশমিক ৭৭ ফুট নিচে রয়েছে। ফলে ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে কৃষকদের যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পাকা সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ধান কেটে বাড়িতে এনে মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা, শ্রমিক সংকট, ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়গুলো তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই সময়মতো বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়া ও অনিয়মের কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। ‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতারাও একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ হলেও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে পাউবো জানিয়েছে, চলতি বছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ধান ভালো হলেও এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা বাঁধের স্থায়িত্ব।
আঙ্গারুলি হাওরের কৃষক জমির মিয়া বলেন, ‘ফসল ভালো, কিন্তু বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।’
খরচার হাওরের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, ‘ধান কাটছি, তবে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ না ভাঙলেই বাঁচি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে তারা যেন দ্রুত কেটে ফেলেন। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।
৯৭ দিন আগে
বিশ্বব্যাপী বন্যার হটস্পটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম: গবেষণা
সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বন্যার হটস্পটগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও অন্যতম।
২১৮৪ দিন আগে