উদ্ধার
পিরোজপুরে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার, আটক ২
পিরোজপুরের নেছারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যাক্তির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)-৮। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আটক আসামিরা।
শনিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে বরিশাল নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট এবং পিরোজপুর সদরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদীন মাঝি রাজু।
রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে র্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশের সন্ধ্যা নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র দাসের।
র্যাব-৮ সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। পরে ভাটা থেকে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। ওই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অপর দুজন হলেন তরিকুল ইসলাম ও আবেদীন মাঝি রাজু।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাতে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে আটক করে। পরে নগরীর স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত আবেদীন মাঝি রাজুকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করে মাথা আলাদা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আটক আসামিরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
নাটোরে চুরি হওয়া শিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার
নাটোরের লালপুরে বাড়ি থেকে চুরি হওয়া এক মাসের কন্যা শিশু নিঝুমকে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে উপজেলার রক্ষণহাটী এলাকার একটি বাড়ির সামনে শিশুটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশ ও শিশুটির পরিবারকে খবর দেন। এরপর পুলিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শিশু ও পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে উপজেলার নবীনগর গ্রামের ভ্যানচালক লালু সরদার ও বিজলী দম্পতির বাসায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আশ্রয় প্রার্থনা করে এক কিশোরী। মানবিক কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীকে সেখানে থাকতে দেন তারা। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় সবার অগোচরে অজ্ঞাত ওই কিশোরী তাদের শিশুকন্যা নিঝুমকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় লালু বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন জানিয়ে ওসি বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৭ দিন আগে
যশোরে কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সেই ব্যবসায়ী উদ্ধার
যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-৬-এর সদস্যরা। নিখোঁজের ৯ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামে এক অভিযানে একটি নির্জন ইটভাটা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন র্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে ।
জাহাঙ্গীর আলম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক লুৎফর রহমানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরকে আনা হয় যশোর র্যাব কাম্পে। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ রাতে। শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের আর আর মেডিকেল ও জে আর এগ্রোভেট নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল থেকে তার মা ও স্ত্রীর কাছে ফোন করা হয়। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।
অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ফলাফল না পেয়ে গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি তার স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬-এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
৯ দিন আগে
নিখোঁজের ৪ দিন পর লোকটিকে পাওয়া গেল শিকলবন্দি অবস্থায়
চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিন পর আলমডাঙ্গার এক ব্যক্তিকে দর্শনা থেকে হাত–পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. বিপুল (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুল সাত্তার মন্ডলের ছেলে।
তার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর পোস্ট অফিস এলাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে দর্শনা পৌরসভার হঠাৎপাড়া এলাকার পাকা রাস্তার পাশে হাত-পায়ে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রথমে দূর থেকে দেখে তারা ভেবেছিলেন কোনো ভবঘুরে পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে হতবাক হয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা বলেন, রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে একজন মানুষ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি হাত-পায়ে লোহার শিকল বাঁধা। তখনই আমরা পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে দর্শনা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দর্শনা হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে হাত-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানায় তার নিখোঁজ-সংক্রান্ত একটি জিডি ছিল। বিষয়টি জানার পর তাকে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ৪ দিন আগে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। আমরা দর্শনা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
২৫ দিন আগে
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, সুস্থ হলে ফিরবে আবাসস্থলে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে আবাসস্থলে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (রবিবার) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের ভেতর ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত পরশু (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের পশুসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যায়। গতকাল সকালে দলটিসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে, এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে পশুসম্পদ কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
৭৬ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, ৩ জন আটক
খুলনায় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ জব্দের পাশাপাশি ৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহানগরীর জোড়াগেট এলাকার এইচআরসি ভবনের পাশের গলিতে অবস্থিত ওই কারখানার অভিযান চালায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল।
পুলিশের দাবি, কারখানা থেকে অস্ত্র তৈরির ছাঁচ, সিসা, ট্রিগার, ট্রিগার গার্ডসহ প্রায় ৩০-৩৫ টি অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটককৃতরা হলেন— দোহা আয়রন ফাউন্ডার কারখানার মালিক নজরুল ইসলাম, কর্মচারী শহিদুল ও আকবর আলী।
কেএমপির ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ডিবির কাছে তথ্য ছিল, এখানে একটি অস্ত্রের কারখানা রয়েছে, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাদের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেছে এবং তথ্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ওই কারখানাটি থেকে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র যে ছাঁচের মধ্যে তৈরি করা হয়, সেগুলোও আমরা উদ্ধার করেছি। এই কারখানায় অন্যান্য কাজের পাশাপাশি অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, এসব অস্ত্র যেখানে ফিনিশিং দেওয়া হয়, সেখানেও অভিযান চলছে। এ লক্ষ্যে ডিবির টিম কাজ করছে।
ডিবির এই টিম ভালো কাজ করেছে উল্লেখ করে ডেপুটি কমিশনার বলেন, কেএমপি এলাকায় অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। আমাদের এত কাছে অস্ত্রের কারখানা রয়েছে, এটি উদ্বেগজনক। মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে এ ধরনের কারখানা থাকবে, আর আমরা কেউ জানব না, এটা হতে পারে না। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈমুর ইসলাম বলেন, আমরা আপাতত এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছি। এই অস্ত্র তৈরির মূল কারিগরকে ঈশ্বরদী থেকে আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখানে অস্ত্রের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। ট্রিগার, ট্রিগার গার্ডসহ ঢালাই করে যেসব জিনিস বানাতে হয়, সেগুলো এখানে তৈরি হচ্ছিল। এখানে ৩০-৩৫টি অস্ত্রের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তবে বাটের কাঠের অংশ, স্প্রিং অন্যস্থানে সংযোজন করা হয়। সেখানেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।
তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে এখানে অস্ত্র তৈরি করা হয় বলে জানতে পেরেছি। এর আগেও এখান থেকে বেশ কয়েকবার খুলনা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।
৯৮ দিন আগে
কেরানীগঞ্জে জমেলা টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৫ ইউনিট
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাবুবাজার এলাকায় অবস্থিত জমেলা টাওয়ার নামের একটি ১২ তলা ভবনে আগুন লেগেছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জমেলা টাওয়ার নামে ওই বহুতল ভবনের নিচতলায় আগুন লেগেছে। কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ইউনিটগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেননি তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুলাম চৌধুরী জানান, ভবনটির নিচ তলায় ঝুট কাপড় ও তৈরি পোশাকের গোডাউন থেকে আগুল লাগে। বর্তমানে ফায়ার সর্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
৯৯ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে দুর্ঘটনার ৩ দিন পরেও উদ্ধার হয়নি লঞ্চ-বাল্কহেড
মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে যাত্রীবাহী এমভি ময়ূর-৭ লঞ্চ ও রেদোয়ান রিয়াদ-১ নামের বাল্কহেডের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নৌযান দুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে জেলার মোল্লারচর এলাকার কাছে ধলেশ্বরী নদীর মাঝপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ফলে উভয় নৌযানই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংযুক্ত হয়ে যায়, যা এখনো বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এমভি ময়ূর-৭ সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী বাল্কহেড রেদোয়ান রিয়াদ-১ এর সঙ্গে মাঝনদীতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড শতাধিক বসতবাড়ি
দুর্ঘটনার পর, এমভি ঈগল-৪ নামের আরেকটি লঞ্চ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমভি ময়ূর-৭ লঞ্চে থাকা প্রায় ২৫০ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
ময়ূর-৭ লঞ্চের মালিক ফয়েজ আহাম্মেদ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকালে বলেন, ‘নৌযান দুটির নিরাপদে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে, তবে তিনতলা লঞ্চটির বড় একটি বেশ কিছু অংশ বাঙ্কহেডর ওপর উঠে গেছে। তাই অন্য লঞ্চ দিয়ে টেনেও নামানো যাচ্ছে না।’
৩১০ দিন আগে
পোষার জন্য খাঁচায় আটকে রাখা হয় মেছো বিড়াল, পরে উদ্ধার
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ায় একটি মেছো বিড়াল আটক করেছে গ্রামবাসী। সোমবার (১২ মে) বিকালে ফসলি জমি থেকে ধাওয়া করে এটিকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তর পাড়া থেকে এই মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করে লালমাই উদ্ভিদ উদ্যানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে এটিকে অবমুক্ত করা হবে।
সোমবার জগতপুর গ্রামের নুরুন্নবী বলেন, ‘বিকালে বাড়ির পাশের ফসলি জমির আইলে ঘাস কাটছিলাম। এ সময় মেছো বিড়ালটিকে কয়েকজন ধাওয়া করে আটক করে। পরে কবুতরের খাঁচায় বিড়ালটিকে বন্দি করে রাখা হয়। বর্তমানে এটি আমার ভাই অলি উল্যার ঘরে রয়েছে।’
অলি উল্যাহ বলেন, ‘শখের বসে কবুতরসহ বিভিন্ন পাখি পালন করি। গ্রামবাসীরা মেছো বিড়ালটি ধরে আমার কাছে দিয়েছে। এটিকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছি।’
আরও পড়ুন: মেছো বিড়ালসহ বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ভ্যান
সরকারি কোনো সংস্থা না নিলে অথবা আইনি বাধা না থাকলে মেছো বিড়ালটিকে স্থায়ীভাবে আমার কাছে রাখতে চাই বরে জানান তিনি।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা বলেন, ‘একটি মেছো বিড়াল জগতপুর গ্রামে খাঁচায় বন্দি আছে জানতে পেরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’
তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৩১৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ৪০ দেশি শালিক পাখি উদ্ধার
কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট এলাকায় পাচারের সময় ৪০টি দেশীয় শালিক পাখি উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন (বিবিসিএফ) কুষ্টিয়া টিম।
রবিবার (১১ মে) সন্ধ্যার পরে শহরের মজমপুর গেট সংলগ্ন মজমপুর জামে মসজিদের সামনে থেকে এই পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, ১১ মে (রবিবার) ভেড়ামারা উপজেলার নয় মাইল কাচারি এলাকার পাখি ব্যবসায়ী চঞ্চলের কাছ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে ৪০টি পাখি শ্যামলী পরিবহনের তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মজমপুর গেটে নিয়ে আসে সিএনজি চালক তারেক। সেখানে স্থানীয় পাভেল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী সিএনজিতে বিপুল পরিমাণ দেশীয় পাখি দেখতে পেয়ে বিবিসিএফ কুষ্টিয়া টিমকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাখিগুলোকে উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: সবার জন্য উন্মুক্ত হলো চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল
পরে বন বিভাগ এর সদস্যরা এসে ৪০টি শালিক পাখিসহ সিএনজিসহ চালককে আটক করে বন বিভাগের অফিসে নিয়ে যায়। এরপর মুচলেকা নিয়ে সিএনজি চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পাখিগুলোকে সোমবার দিনের বেলায় অবমুক্ত করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের (বিবিসিএফ) সহসভাপতি শাহাবউদ্দিন মিলন, কুষ্টিয়া টিমের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নাব্বির আল নাফিজ, দপ্তর সম্পাদক মীর কুশল, বন বিভাগ কুষ্টিয়ার মিলন ও সোনা সাত্তার উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
৩১৪ দিন আগে