উদ্ধার
মনপুরায় মেঘনা পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মো. শান্ত (২৫) নামে এক যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীর পাড় থেকে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়।
শান্ত হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে লিটন মাঝি কয়েকজন জেলেকে নিয়ে মেঘনায় মাছ শিকার শেষে নদীর তীরে নৌকা নোঙর করেন। এ সময় তারা মানুষের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। পরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে খুঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা এক যুবককে দেখতে পান।
লিটন মাঝিসহ অন্যরা শান্তকে শনাক্ত করেন এবং রশি কেটে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী লিটন মাঝি বলেন, ‘নদীর পাড়ে গোঙানির শব্দ শুনে টর্চের আলো ফেলি। দেখি, রশি দিয়ে মুখ, হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা একজন পড়ে আছে। পরে রশি কেটে দেখি, সে আমাদের পরিচিত—শান্ত। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
শান্তর মামা মিরাজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় নদীর পাড়ে এভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকলে জোয়ারের পানিতে ডুবে শান্ত মারা যেতে পারতেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নদীর পাড়ে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কারা এবং কী কারণে শান্তকে সেখানে বেঁধে রেখেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।
৯ দিন আগে
সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি: সবাইকে জীবিত উদ্ধার
রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর মিলব্যারাক পুলিশ লাইন এলাকায় এমভি সুন্দরবন-১২ যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ডুবে গেলেও শেষ পর্যন্ত ট্রলারে থাকা ১০ যাত্রীকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা।
তিনি বলেন, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীপথ হয়ে ১০ জন যাত্রী একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মিলব্যারাক পুলিশ লাইন ঘাটের কাছে পৌঁছালে ইঞ্জিনের পাখায় ময়লা আটকে ট্রলারটি মাঝনদীতে বিকল হয়ে যায়। তখন মাঝি ইঞ্জিনের পাখা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন।
এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি ট্রলারর ওপর উঠে গেলে মুহূর্তেই সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা আটজন তাৎক্ষণিকভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও দুইজন নিখোঁজ হন।
পরে সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দুই যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ট্রলারে থাকা ১০ জন যাত্রীই উদ্ধার হয়েছেন এবং সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি সোহাগ রানা।
৬২ দিন আগে
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
৭১ দিন আগে
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে একমাত্র এই শিশুটিকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম ক্লিবার মোরান।
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত মরদেহর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মর্গগুলো।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উদ্ধারকারীরা লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের লস কোরালেস গার্ডেন-১ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লিবার মোরানকে উদ্ধার করেন। শিশুটির বয়স ৩ বছর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, শিশুটির বয়স ২ বছর।
উদ্ধার হওয়ার পর মোরানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডন্ট।
গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সেখানে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
হোর্হে রদ্রিগেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ভোরে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে কারাকাসের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের একটি দল ৪৭ টন সহায়তাসামগ্রী নিয়ে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, এসব সরঞ্জাম সংকটে থাকা শিশু ও পরিবারগুলোর সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ভেনেজুয়েলায় স্বাস্থ্য কিট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী।
এদিকে, ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছাতে পারে।
ইউনিসেফ মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ছয় লাখ ৮০ হাজার শিশু মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
৮০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে অপহরণের শিকার তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হচ্ছে মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার সুমনের ছেলে সিফাত (১০) হাসেমের ছেলে রাজ (১০) এবং একই এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মোমিন (৯)।
ওসি নাসির খান জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সিফাত, মোমিন ও রাজ নামের তিন শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে ওই তিন শিশুকে প্রথমে যশোরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিফাতের মা মোছা. শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার টুটুলের স্ত্রী ফতে আক্তার (৩৫) ও হৃদয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তিন শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাতে ঢাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত শিশুদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তাররে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১০৩ দিন আগে
সুন্দরবনে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ ২ দস্যু গ্রেপ্তার
সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ‘ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর দুইজন সদস্যকে আটক করা হয়।
রবিবার (১৭ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলাধীন ঢাংমারী খাল এলাকায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে তারা ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেন এবং অস্ত্র ও গুলিসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। এদের মধ্যে রাজন ‘করিম-শরীফ বাহিনীর’ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
জব্দ করা অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, আটক রাজন-করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গ্রেপ্তার ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উদ্ধার করা জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
১২৫ দিন আগে
রাজবাড়ীতে মাটিতে পুতে রাখা মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উজ্জ্বল শেখকে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় উজ্জ্বল নামের এক ভাটা শ্রমিককে সন্দেহ করছেন তিনি। এর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালিশও হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এ সময় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুতে রাখা মানুষের পা বাইরে বের হয়ে আছে। সেখানে কয়েকটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দিয়ে আনা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা। এর বিপরীত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের হাকিম উল্লাহর।
তিনি বলেন, ‘পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেয়। গ্রামের লোকজন এর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন, মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমি মাপার আমিনদের এনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে হওয়ায় সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।
১২৭ দিন আগে
কক্সবাজারে লাবণী পয়েন্ট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্র সৈকত-সংলগ্ন ড্রিংকস কর্নারের সামনে একটি দোকানের মেঝে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পর্যটন করপোরেশনের ড্রিংকস কর্নার-সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি ও ফার্স্টফুড দোকানের মেঝেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৩৬ দিন আগে
পিরোজপুরে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার, আটক ২
পিরোজপুরের নেছারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যাক্তির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)-৮। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আটক আসামিরা।
শনিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে বরিশাল নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট এবং পিরোজপুর সদরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদীন মাঝি রাজু।
রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে র্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশের সন্ধ্যা নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র দাসের।
র্যাব-৮ সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। পরে ভাটা থেকে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। ওই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অপর দুজন হলেন তরিকুল ইসলাম ও আবেদীন মাঝি রাজু।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাতে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে আটক করে। পরে নগরীর স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত আবেদীন মাঝি রাজুকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করে মাথা আলাদা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আটক আসামিরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৮৮ দিন আগে
নাটোরে চুরি হওয়া শিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার
নাটোরের লালপুরে বাড়ি থেকে চুরি হওয়া এক মাসের কন্যা শিশু নিঝুমকে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে উপজেলার রক্ষণহাটী এলাকার একটি বাড়ির সামনে শিশুটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশ ও শিশুটির পরিবারকে খবর দেন। এরপর পুলিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শিশু ও পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে উপজেলার নবীনগর গ্রামের ভ্যানচালক লালু সরদার ও বিজলী দম্পতির বাসায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আশ্রয় প্রার্থনা করে এক কিশোরী। মানবিক কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীকে সেখানে থাকতে দেন তারা। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় সবার অগোচরে অজ্ঞাত ওই কিশোরী তাদের শিশুকন্যা নিঝুমকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় লালু বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন জানিয়ে ওসি বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৮৮ দিন আগে